চরচা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের ইশতেহার ঘোষণা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা শুরু করেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এর মধ্যেই দলটির ফেসবুক পেইজে ইশতেহার প্রকাশিত হয়েছে। ইশতেহারের মুখবন্ধ নিচে তুলে ধরা হলো–
“দীর্ঘ ১৮ বছরের ভোটাধিকারহীনতা, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, বিচারহীনতা ও ভয়ভীতির রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে— বাংলাদেশের আপামর জনতা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন। সুদীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হাজারো শহীদের রক্ত, জুলাই যোদ্ধাদের অসীম আত্মত্যাগ এবং শহীদ মায়েদের প্রত্যাশা আমাদের সামনে একটি অনিবার্য দায়িত্ব তুলে দিয়েছে – একটি বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যার লক্ষ্য মানবিক, জনগণকেন্দ্রিক ও ইনসাফ-ভিত্তিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে—রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। বরং জনগণই সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। কিন্তু গত দেড় দশকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুপস্থিতি, গুম-খুন-নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, বিচারব্যবস্থার দলীয়করণ ও সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণকে রাষ্ট্রের মালিকানা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের চূড়ান্ত প্রকাশ ছিল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান। কেবল সরকার পরিবর্তন নয়; বরং ভয়, নিপীড়ন, বৈষম্য ও ভোটহীনতার বিরুদ্ধে জনগণের চূড়ান্ত রায়।
বাংলাদেশ এবং বিএনপি অবিচ্ছেদ্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিটি অধ্যায়ে বিএনপির গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ইতিহাসে প্রমাণিত। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে নেতৃত্ব, ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে বাকশালের বদলে বহুদলীয় গণতন্ত্র, বিচার বিভাগ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আপসহীন আন্দোলনে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সারাবিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পৃক্ততা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন, বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়ন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান – প্রতিটি অধ্যায়ে বিএনপি জনগণের শক্তিতে ইতিহাসের মোড় পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী সব সংস্কার এসেছে বিএনপির হাত ধরে।
বিএনপি প্রতিবারই ধ্বংসের মুখ থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করেছে। দুর্ভিক্ষ ও বাকশাল পরবর্তী অর্থনীতি পুনর্গঠনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কৃষিতে সবুজ বিপ্লব, জনশক্তি রপ্তানি এবং শিল্প উৎপাদনের বিস্তার করে অর্থনীতিতে পুনর্জীবন দান করেন। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কৃষি উন্নয়ন, গার্মেন্টস ও রেমিট্যান্স জিয়াউর রহমানেরই অবদান। তিনিই প্রথম একটি বিশেষ ব্লকবদ্ধ অর্থনীতিকে প্রাথমিকভাবে মিশ্র ও পরবর্তীতে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে রূপান্তর করেন। সার্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণতকরণ, ওআইসি তথা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের সাথে সুদৃঢ় সম্পর্ক স্থাপন ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কের প্রকৃত ভিত্তি রচনা করেন, যার ফলে বাংলাদেশ প্রথম স্বাধীনভাবে পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ দর্শন প্রবর্তন, গণমাধ্যমকে মুক্ত করে স্বাধীন গণমাধ্যম ও বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি ঐক্যবদ্ধ জাতিগঠন ও দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় প্রকৃত ভিত্তি স্থাপন করেন।
বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া ভাঙ্গা অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করে গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ, বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের বিস্তৃতি, মধ্যবিত্তের বিকাশ ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির পথপরিক্রমা সূচনা করেন। তিনি ভ্যাট ব্যবস্থার প্রবর্তন, শুল্ক ও আমদানি কাঠামোর আধুনিকায়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব নীতির মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় করেন। নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা, নারীর আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ, শিশু ও মাতৃসেবার উন্নয়ন, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীতে নারীদের সমান অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত করে নারীর ক্ষমতায়নের অগ্রদূতে পরিণত হন। বিএনপির শাসনামলেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে মুক্ত করা হয়। তাঁর সময়ে বিশ্বে বাংলাদেশ ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে খ্যাত হয়।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা রাষ্ট্রদর্শন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা — এই ধারাবাহিকতাই বিএনপির রাজনীতির মৌলিক ভিত্তি। বিএনপির রাজনীতি স্লোগান নির্ভর নয়, বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ভিত্তিক। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে এই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যাপক সামাজিক পরিকল্পনা মানুষের কর্মসংস্থান, সুশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, সুষম উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, আইনের শাসন এবং সামাজিক ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দেশকে বাস্তব উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। এই প্রেক্ষাপটে, চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত “We have a plan” এর আলোকে বিএনপি একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে জনগণের সামনে নিম্নোক্ত নির্বাচনী অঙ্গীকারসমূহ উপস্থাপন করছে:
নির্বাচনী অঙ্গীকার: প্রধান প্রতিশ্রুতি
এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়; এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা—এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।
জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটারের মর্যাদা থাকবে, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে— সবার আগে বাংলাদেশ।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের ইশতেহার ঘোষণা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা শুরু করেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এর মধ্যেই দলটির ফেসবুক পেইজে ইশতেহার প্রকাশিত হয়েছে। ইশতেহারের মুখবন্ধ নিচে তুলে ধরা হলো–
“দীর্ঘ ১৮ বছরের ভোটাধিকারহীনতা, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, বিচারহীনতা ও ভয়ভীতির রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে— বাংলাদেশের আপামর জনতা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন। সুদীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হাজারো শহীদের রক্ত, জুলাই যোদ্ধাদের অসীম আত্মত্যাগ এবং শহীদ মায়েদের প্রত্যাশা আমাদের সামনে একটি অনিবার্য দায়িত্ব তুলে দিয়েছে – একটি বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যার লক্ষ্য মানবিক, জনগণকেন্দ্রিক ও ইনসাফ-ভিত্তিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে—রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। বরং জনগণই সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। কিন্তু গত দেড় দশকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুপস্থিতি, গুম-খুন-নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, বিচারব্যবস্থার দলীয়করণ ও সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণকে রাষ্ট্রের মালিকানা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের চূড়ান্ত প্রকাশ ছিল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান। কেবল সরকার পরিবর্তন নয়; বরং ভয়, নিপীড়ন, বৈষম্য ও ভোটহীনতার বিরুদ্ধে জনগণের চূড়ান্ত রায়।
বাংলাদেশ এবং বিএনপি অবিচ্ছেদ্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিটি অধ্যায়ে বিএনপির গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ইতিহাসে প্রমাণিত। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে নেতৃত্ব, ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে বাকশালের বদলে বহুদলীয় গণতন্ত্র, বিচার বিভাগ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আপসহীন আন্দোলনে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সারাবিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পৃক্ততা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন, বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়ন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান – প্রতিটি অধ্যায়ে বিএনপি জনগণের শক্তিতে ইতিহাসের মোড় পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী সব সংস্কার এসেছে বিএনপির হাত ধরে।
বিএনপি প্রতিবারই ধ্বংসের মুখ থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করেছে। দুর্ভিক্ষ ও বাকশাল পরবর্তী অর্থনীতি পুনর্গঠনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কৃষিতে সবুজ বিপ্লব, জনশক্তি রপ্তানি এবং শিল্প উৎপাদনের বিস্তার করে অর্থনীতিতে পুনর্জীবন দান করেন। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কৃষি উন্নয়ন, গার্মেন্টস ও রেমিট্যান্স জিয়াউর রহমানেরই অবদান। তিনিই প্রথম একটি বিশেষ ব্লকবদ্ধ অর্থনীতিকে প্রাথমিকভাবে মিশ্র ও পরবর্তীতে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে রূপান্তর করেন। সার্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণতকরণ, ওআইসি তথা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের সাথে সুদৃঢ় সম্পর্ক স্থাপন ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কের প্রকৃত ভিত্তি রচনা করেন, যার ফলে বাংলাদেশ প্রথম স্বাধীনভাবে পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ দর্শন প্রবর্তন, গণমাধ্যমকে মুক্ত করে স্বাধীন গণমাধ্যম ও বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি ঐক্যবদ্ধ জাতিগঠন ও দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় প্রকৃত ভিত্তি স্থাপন করেন।
বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া ভাঙ্গা অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করে গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ, বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের বিস্তৃতি, মধ্যবিত্তের বিকাশ ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির পথপরিক্রমা সূচনা করেন। তিনি ভ্যাট ব্যবস্থার প্রবর্তন, শুল্ক ও আমদানি কাঠামোর আধুনিকায়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব নীতির মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় করেন। নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা, নারীর আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ, শিশু ও মাতৃসেবার উন্নয়ন, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীতে নারীদের সমান অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত করে নারীর ক্ষমতায়নের অগ্রদূতে পরিণত হন। বিএনপির শাসনামলেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে মুক্ত করা হয়। তাঁর সময়ে বিশ্বে বাংলাদেশ ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে খ্যাত হয়।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা রাষ্ট্রদর্শন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা — এই ধারাবাহিকতাই বিএনপির রাজনীতির মৌলিক ভিত্তি। বিএনপির রাজনীতি স্লোগান নির্ভর নয়, বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ভিত্তিক। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে এই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যাপক সামাজিক পরিকল্পনা মানুষের কর্মসংস্থান, সুশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, সুষম উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, আইনের শাসন এবং সামাজিক ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দেশকে বাস্তব উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। এই প্রেক্ষাপটে, চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত “We have a plan” এর আলোকে বিএনপি একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে জনগণের সামনে নিম্নোক্ত নির্বাচনী অঙ্গীকারসমূহ উপস্থাপন করছে:
নির্বাচনী অঙ্গীকার: প্রধান প্রতিশ্রুতি
এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়; এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা—এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।
জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটারের মর্যাদা থাকবে, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে— সবার আগে বাংলাদেশ।”