এক উইকেটে রান ছিল ১২৪। সেখান থেকে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় যে অবস্থানে থাকার কথা ছিল, তার ধারে-কাছেও যেতে পারেনি নাজমুল হোসেনের দল। বরং ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে আফগানিস্তান বল হাতে শেষের দিকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বড় স্কোরের আশা প্রায় শেষ করে দিয়েছে।
আবুধাবিতে বাংলাদেশ দল আগে কখনোই টেস্ট ক্রিকেট খেলেনি। সে দিক থেকে চিন্তা করলে, স্পিন সহায়ক কন্ডিশনেও বাংলাদেশের দুই ওপেনার শুরুটা দারুণ এনে দিয়েছিলেন দলকে। বিশেষ করে তামজিদ হাসান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা তরুণ এই বাঁহাতি ওপেনার প্রথম থেকেই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলে আফগানিস্তানের বোলারদের চাপে ফেলে দেন। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে আউট হওয়ার আগে মাত্র ৭১ বলে ৮৩ রানের ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল আটটি চারের মার ও চারটি ছক্কা।
গোটা ইনিংসে তানজিদ যেভাবে ব্যাট করেছেন, দাপট দেখিয়েছেন, সেটা অনেকটাই স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, এই উইকেটে ব্যাটিং করাটা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেই এখানে বড় ইনিংস খেলা সম্ভব।
আরেক ওপেনার সাদমান ৬৭ রান করলেও পুরো ইনিংসজুড়ে অনেকটা রয়েসয়ে খেলেছেন। ৮ রানে একবার জীবন পেলেও ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি। একই ভুল করেছেন অভিজ্ঞ মমিনুল হকও। ৩৯ রান করেছিলেন তিনি।
নাজমুল হোসেনও খুব ভালোভাবেই শুরুটা পেয়েছিলেন। কিন্তু আরও একবার ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ২৯ রানেই থামতে হয় তাকে।
তবে বাংলাদেশের এই ইনিংসে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় চিত্র হয়ে দাঁড়ান মুশফিকুর রহিম। অভিজ্ঞ এই ব্যাটস্যান ৭ বল খেলে মাত্র শূন্য রানে আমেরজাইয়ের বলে বোল্ড হয়ে যান। এ নিয়ে টেস্টে নিজের সর্বশেষ ছয় ইনিংসে মুশফিকের রান মাত্র ১১৬। নেই কোনো ফিফটি।
২২৫ রানে ৫ উইকেট পতনের পর আশার আলো হয়ে দাঁড়ান লিটন দাস। চাপের মুখে কাউন্টার অ্যাটাকিং ইনিংস খেলেন। শেষ পর্যন্ত ৫৩ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের ২৪ রানে ভর করে বাংলাদেশ দিন শেষ করে ৮ উইকেটে ৩১৭ রানে।