ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের মামলায় গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
আক্তারুজ্জামান বলেন, “আমাকে গ্রেপ্তার করেছে এটা নিয়ে আমার কোনো কথা নেই। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমাকে রিমান্ডে নিলা কেন? এখানে কি হয়েছে যে তুমি আমাকে রিমান্ডে নিলা? রিমান্ডে নিয়ে তুমি আমার চোখ বাঁধলা কেন?”
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে দেখা করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আখতারুজ্জামান।
জামায়াত নেতার অভিযোগ, রিমান্ডে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) জামায়াত সম্বন্ধে জানতে চেয়েছে। একে ‘ন্যক্কারজনক সাহস’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, “একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব কীভাবে চলে, কী করে, না করে– সেই প্রশ্ন করার অধিকার বাংলাদেশে পুলিশকে কে দিয়েছে? আমি বিনীতভাবে আমার আমির সাহেবের কাছে এই প্রশ্ন রাখলাম।”
গ্রেপ্তারের দিনের ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে আক্তারুজ্জামান বলেন, “আমার বাসায় দুই ঘণ্টা তারা (ডিবি) বসে থাকল। তারপরে ঘরে ঢুকল। ঢুকে দেখল, আমার অফিসের পেছনে এখনো দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার ছবি টাঙ্গানো আছে। সেই ছবি দেইখা, থতমত খাইয়্যা গেল সে। এরপর তাদের (ডিবি) প্রথম প্রশ্ন, আপনি দল ছাড়লেন কেন? আমি বললাম, এটা কি আপনাদের বিবেচ্য বিষয়? তো এরপর বলে, আপনি তো বিএনপির বড় নেতা ছিলেন, এটাই তো মানুষ জানে, আপনি দল ছাড়লেন কেন? তখন আমি বললাম, দল ছাড়া গ্রেপ্তারের কোনো কারণ কিনা বলেন?”
বিএনপির ছাড়ার প্রশ্ন নিয়ে আক্তারুজ্জামান বলেন, “তার মানে আমার জামায়াতে যাওয়ার পেছনে সরকারের কাছে বিকল্প কোনো নথি আছে, কোনো বক্তব্য আছে। কারণ আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমি জামায়াতে যোগদান করেছি, প্রকাশ্যে অনেক কথা বলেছি।”
কারামুক্তির পর তাকে অভ্যর্থনা জানায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ দলের অন্য নেতারা। এর পর তিনি বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে দেখা করতে যান।
গত ২ অক্টোবর ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় করা ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর তাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।