জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০২৬ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক বর্জন করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল।
আজ রোববার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে মানবাধিকার কমিশন বিলের আলোচনায় অংশ নেননি বিরোধী দলের সদস্যরা। তবে সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে আলোচনায় তারা অংশ নেন।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় মুখপাত্র মো. নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, “জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার সময় আইনটিকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সংসদে উত্থাপিত নতুন বিলে সে লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়নি।”
নাজিবুর রহমানের ভাষ্য, প্রস্তাবিত আইন আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং এতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রম আরও দুর্বল হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, “বিলটি নিয়ে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের বিস্তারিতভাবে মতামত দেওয়ারও সুযোগ রাখা হয়নি।”
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০২৬ বিলটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। পরে বিলটি পরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।
নাজিবুর রহমান বলেন, “এত অল্প সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনার কারণে কমিটির স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ থাকছে না।”
“সংসদীয় কমিটিকে রাবার স্ট্যাম্পের মতো করে ফেলা হয়েছে,” বলেন তিনি।
এর প্রতিবাদেই বৈঠক বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান নাজিবুর রহমান।
নাজিবুর রহমান বলেন, “আইনটি নিয়ে বিরোধী দলের কোনো পর্যায়েই যুক্ত থাকার সুযোগ নেই। ফলে এর প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে তারা কোনো দায়ও নিতে চান না।”
প্রস্তাবিত আইনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জনগণের সুরক্ষার বিষয়টি বিলে যথাযথভাবে রাখা হয়নি। এই কালো আইন, এই আইনের কোনো প্রক্রিয়া, এই আইন পাসের কোনো প্রক্রিয়ার সাথে আমরা যুক্ত থাকতে চাই না। এর কোনো দায়ভার আমরা নিতে চাই না।”