টেস্টে বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা অধিনায়ক হয়েছেন আগেই। নেতৃত্ব দিয়েছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে। এর আগে সাক্ষী হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়েরও। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুলের কাছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ই সবচেয়ে বড়।
টেস্টে এর আগেও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সেটা ছিল ঘরের মাটিতে, ২০১৭ সালে। এর আগে-পরে এই ফরম্যাটে ধরা দিয়েছে আরও ঐতিহাসিক জয়। আর ওয়ানডেতে তো রয়েছে বেশ কয়েকটি ইতিহাস গড়া জয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০০৫ সালে এই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই জয়।
তবে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল ডারউইনের জয়কেই নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়ের স্বীকৃতি, “আমার কাছে মনে হয়, যেকোনো ফরম্যাটে এটাই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। আমরা কিন্তু সেটাই বিশ্বাস করি। আমরা সামনে এমন আরও বিশেষ কিছু করতে চাই।”
২৩ বছর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে গিয়ে প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশ উড়িয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। চারদিনেই জিতেছে ৯ উইকেটে। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ করেছিল ৪২৬, যা শেষ পর্যন্ত গড়ে দেয় ব্যবধান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রান করেও বড় হার এড়াতে পারেনি প্যাট কামিন্সের দল।
দল নিয়ে নাজমুলের গর্বের তাই শেষ নেই, “আমি খুবই আনন্দিত এবং ছেলেদের নিয়ে গর্বিত। ছেলেরা যেভাবে খেলেছে, তাতে আমি সত্যিই খুব গর্বিত। গত কয়েক দিনে আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি এবং এই দলকে নিয়ে এমন একটা জয় পাওয়ায় খুবই ভালো লাগছে।”
বাংলাদেশ এই টেস্ট জয়ে বড় অবদান রেখেছেন পেসাররা। দুই ইনিংস মিলে ৯ উইকেট নিয়ে হাসান মাহমুদ হয়েছেন ম্যাচ সেরা। তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেনরাও যথেষ্ট ভালো করেছেন। নাহিদ রানাকে ছাড়াই বাংলাদেশের পেসারদের এমন সাফল্য বিশ্ব ক্রিকেটে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অভাবনীয় এই জয়ে পেসারদের সাম্প্রতিক উন্নতির কারণ তুলে ধরেছেন নাজমুল, “আমার কাছে মনে হয়, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন যে আমরা এখন পেসারদের ওপর ভরসা রাখি। পাঁচ-ছয় বছর আগে পেসাররা টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চাইত না। কারণ আমরা পর্যাপ্ত টেস্ট খেলারই সুযোগ পেতাম না। তবে গত দুই-তিন বছরে আমরা অনেক ম্যাচ খেলছি এবং পেসাররা সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। এখন তারা বেশি বেশি টেস্ট খেলতে চায়। কারণ তারা বিশ্বমানের হতে চায়।”