গণ-অভ্যুত্থানকারী রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও অসতর্কতা সাবেক শাসক দল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেছেন, রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের প্রাতিষ্ঠানিক পতন ঘটলেও সমাজ, সংস্কৃতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে তাদের যে অবস্থান রয়ে গেছে, তা এখনো পুরোপুরি বিলীন হয়নি।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, আজ শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’ আয়োজিত ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে যত বিভেদ সৃষ্টি হবে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসার সুযোগ তত বাড়বে। আগামী দিনের রাজনীতিতে এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।”
আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য পুনর্বাসন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কোনো গৃহযুদ্ধের মতো চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদী শক্তি বিজয়ী হওয়া ছাড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে তাদের আর কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই।”
আওয়ামী সভানেত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণাকে ‘রাজনৈতিক ভাওতাবাজি’ আখ্যা দিয়ে ইশরাক হোসেন প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে কালকে আসতেছে না কেন দেশে? কালকেই আসুক, ডিসেম্বর কেন লাগবে?” তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলা দলটি কেবল অনুসারীদের আশ্বস্ত করা এবং নিজেদের সম্পদ ও অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদেই এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে।
বিগত তিন দশকের রাজনৈতিক কৌশল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের জয় দিয়ে রাজনৈতিক সফলতা মাপা যায় না। রাষ্ট্রক্ষমতা, সাংস্কৃতিক শক্তি, সফট পাওয়ার এবং আন্তর্জাতিক লবিং থাকলেও জনগণের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে গণতন্ত্র থেকে ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হওয়াই ছিল আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল। মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার এবং ‘এক ব্যক্তির পূজা’ প্রবর্তনের মাধ্যমে দলটির পতন তরান্বিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল- ‘জুলাই হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরাজয়ের চেয়ে সামাজিক পরাজয় বেশি’। প্রতিযোগিতায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অববিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিতার্কিক দল।
অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, এবং সাংবাদিক আরিফুজ্জামান মামুন, মাইদুর রহমান রুবেল ও জাকির হোসেন লিটন। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলের হাতে ট্রফি ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।