আওয়ামী লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশন করার ক্ষেত্রে দলটির অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুতাপ থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুতাপের পরও রিকনসিলিয়েশনের প্রশ্ন থাকতে পারে। তবে অপরাধ স্বীকার করলেই ফৌজদারি অপরাধের দায় শেষ হয়ে যায় না, এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হয়।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
রিকনসিলিয়েশনের বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, “রিকনসিলিয়েশনের বিষয়, মানে আমরা দ্বিমত করি না, একটা রিকনসিলিয়েশন দরকার ছিল। এই আলাপগুলো ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা প্রচুর করেছি। করেছি এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই দেশের একটা সংখ্যার মানুষ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী যারা পালিয়ে গেছে, আমি তাদের কথা বলছি না, যারা এই দেশে আছেন, এদের মধ্যেও একটা পার্সেন্টেজের—পার্সেন্টেজটা কত, সেই ডিবেট আমরা করতে পারি, সেই ডিবেটে যাচ্ছি না—মানুষ এখনো আওয়ামী লীগ সমর্থনও করে।”
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “সুতরাং এই দেশের নাগরিক তারা, তারা এখনো এই ঘটনার পর সমর্থন করে। সুতরাং এই মানুষগুলোকে বা যারা আওয়ামী লীগ অ্যাক্টিভলি করেছেন, তাদের সঙ্গে একটা রিকনসিলিয়েশন খারাপ আইডিয়া না, ভালো আইডিয়া। এটা হলে ভালো হতো।”
“কিন্তু প্রশ্নটা আমরা সবসময় যেটা করেছি, রিকনসিলিয়েশনের আদি শর্তটা কী? কোন ভিত্তির উপরে দাঁড়িয়ে রিকনসিলিয়েশন? ফান্ডামেন্টালটা কী? আমরা সাউথ আফ্রিকায় যখন দেখেছি কী হয়েছে ইত্যাদি। রিকনসিলিয়েশনের বেসিকটা হচ্ছে, যেই গ্রুপ, গোষ্ঠী, রাজনৈতিক দল যেই হোক না কেন, সে যে অপরাধটা করেছে, সে অপরাধের স্বীকৃতি থাকা, সেটা নিয়ে তাদের রিপেন্টেন্স (অনুতাপ) থাকা,” যোগ করেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, “অপরাধের স্বীকৃতি এবং রিপেন্টেন্সের পরও রিকনসিলিয়েশনের প্রশ্ন আছে। কারণ অপরাধের স্বীকৃতি দিলেই আসলে ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হয় না, ওইটার বিরুদ্ধে লিগ্যাল অ্যাকশন হতে হয়।”
আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “কিন্তু আমরা খুব অবাক হয়ে ৫ তারিখের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেখছি, সেই দলটা, সেই দলটার প্রধান নেত্রী, তিনি এখনো ভয় দেখাচ্ছেন আমাদেরকে, আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছেন। আমি একটা সময় তার বক্তব্য, ৫ তারিখের পর মাঝামাঝি, এটা মনে হয় প্রথম কথা বলতে শুনলাম, খুব শোনার চেষ্টা করেছি। তিনি সমানে হুমকি দিচ্ছেন, সবাইকে দেখে নেবেন, পাল্টা এই করে ফেলো, ওই করে ফেলো, নানান রকম হুমকি ক্রমাগত দিয়ে গেছেন। যদি তাই হয়ে থাকে, আসলে এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রিকনসিলিয়েশনের আলাপটা আমাদের দিক থেকে অন্তত এন্টারটেইন করা কঠিন। তারা তো চাচ্ছেন না, রিকনসিলিয়েশন তো তাদের চাইতে হবে।”