গণতান্ত্রিক সংস্কার, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং সুশাসন বাস্তবায়নে তরুণদের অগ্রাধিকার ও সুপারিশগুলো তুলে ধরতে গণমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। আজ বুধবার রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
নাগরিক অধিকার সংস্থা ‘ভয়েস’ ও ‘দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগ’ যৌথভাবে এই সংলাপ আয়োজন করে। এতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় তরুণদের সোচ্চার ভূমিকা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ বলেন, ‘‘একটি গঠনমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য প্রাণবন্ত গণমাধ্যম অপরিহার্য। তাই তরুণদের উচিত সংস্কারের দাবি অব্যাহত রেখে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।’’
সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট সোহরাব হাসান বলেন, ‘‘তরুণদের প্রত্যাশা ও উদ্বেগকে কেবল আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সেগুলোকে বৃহত্তর মূলধারায় তুলে ধরতে গণমাধ্যমকে আরও গতিশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তরুণ ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে তরুণদের প্রত্যাশাগুলো নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা সম্ভব।’’
সংলাপের সমাপনী বক্তব্যে ভয়েস-এর নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপ্ন মাহমুদ বলেন, “তরুণদের অংশগ্রহণ শুধু প্রতীকী প্রতিনিধিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের প্রভাব বজায় রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।”
আলোচনায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সহকারী সম্পাদক ও তরুণ প্রতিনিধিরা প্রবীণদের অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের উদ্যমকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তারা গণমাধ্যমের প্রশাসনিক ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নারী ও আদিবাসী সাংবাদিকদের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার অর্জনে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চার আহ্বান জানান।