গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ভবন ধসে ছয় শিশুসহ অন্তত ২০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৪ জন।
স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, সাততলা ভবনটি ধসে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়টি শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১০০ জন আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রয়টার্সের পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া একটি দেয়ালের নিচ থেকে দুজনকে বের করার চেষ্টা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসালকে রক্তমাখা স্কার্ফে মোড়ানো একটি ছোট মেয়েকে কোলে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
গাজা সিটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের পরিচালক রায়েদ আল-দাহশান বলেন, ধসে পড়া ভবনটিতে অন্তত ১০টি পরিবার বসবাস করত। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিতদের উদ্ধারের এখনও আশা রয়েছে।
দাহশান বলেন, “আমরা এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষের কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছি।”
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) গাজা কার্যালয়ের প্রধান আলেসান্দ্রো ম্রাকিচ বলেন, জাতিসংঘের কয়েকটি সংস্থা উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। মিসরের ত্রাণ সংস্থাও এ কাজে সহায়তা করছে।
ম্রাকিচ বলেন, “আপনারা যেমনটা দেখছেন, পরিস্থিতি খুবই করুণ। কারণ আমাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি নেই। ফলে কিছু মানুষ খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছেন।”
ম্রাকিচ আরও বলেন, “প্রায় ৪০০টি ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা জানি, এসব ভবন ধসে পড়বে, বিশেষ করে সামনে শীতকাল আসায়।”
গাজা সিটির আল শিফা হাসপাতালে স্বজন ও বন্ধুরা নিহতদের অনেকের শেষ বিদায় জানান। পরে মরদেহগুলো নিয়ে তারা কবরের দিকে যান।