লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় ইউসুফ আলী (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার সকালে উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের লতাবর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার ইউসুফ আলী উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাঞ্চনশ্বর কানার বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি রংপুর নিউ রুপসী বাংলা ক্লিনিকের পরিচালক।
মামলার এজাহার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিজ ক্লিনিকে প্রতিবেশী এক পোশাক শ্রমিক ও তার পরিবারের চিকিৎসার সুবাদে ওই পরিবারের সঙ্গে ইউসুফ আলীর সখ্যতা গড়ে ওঠে। ওই পোশাক শ্রমিক কাজের সুবাদে ঢাকায় এবং তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে থাকেন।
গত বৃহস্পতিবার ওই পরিবারের এক শিশু অসুস্থ হওয়ায় তাকে নিয়ে তার মা ও খালা লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে যান। তখন দম্পতির মেয়ে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বাড়িতে একা ছিল।
শিক্ষার্থীর বাড়িতে একা থাকার খবর জানতেন ইউসুফ আলী। সেদিন শিক্ষার্থীর মায়ের নম্বর নেওয়ার কথা বলে ইউসুফ তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর বাড়ির গেট ও ঘরের দরজা বন্ধ করে তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় মেয়েটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেন ইউসুফ। বাড়িতে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যান তিনি। পরে শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনে তার মাকে বিষয়টি জানায়। তাকে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে গত শুক্রবার সকালে এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা।
গতকাল রোববার অভিযুক্ত ইউসুফ আলীকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে।
এরপর আজ সোমবার সকালে লতাবর এলাকা থেকে ইউসুফ আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, “শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত ক্লিনিক পরিচালক ইউসুফ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”