থ্রি-হুইলারে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন মালিক ও শ্রমিকরা। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ১৭টি অভ্যন্তরীণ রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে বানারীপাড়া উপজেলার শিমুলতলা এলাকায় থ্রি-হুইলারের মালিক-চালকদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রুটের বাসের শ্রমিকদের বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তা উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রূপ নেয়।
বাস শ্রমিকদের অভিযোগ, শিমুলতলা এলাকায় থ্রি-হুইলারের মালিক ও শ্রমিকরা প্রভাব বিস্তার করে প্রায় ২০টি যাত্রীবাহী বাস আটকে রাখেন। খবর পেয়ে বরিশাল বাস মালিক গ্রুপের নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও দুপুর পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। পরে বরিশাল বাস মালিক ও শ্রমিক নেতারা নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। ফলে টার্মিনালে এসে অনেক যাত্রীকে ফিরে যেতে হয়েছে। কেউ কেউ বিকল্প যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
বাস মালিক ও শ্রমিকদের দাবি, মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলারের কারণে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। বিভিন্ন বাস কাউন্টারের সামনে থ্রি-হুইলার দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানোয় বাস চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে এসব যান চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়ে এলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী থ্রি-হুইলার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।
এদিকে, আকস্মিক বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বানারীপাড়া থেকে বরিশালগামী যাত্রী মোতালেব মিয়া বলেন, “বরিশালে জরুরি কাজে যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিলাম। কিন্তু বাস বন্ধ থাকায় পথে আটকে আছি। কখন বাস চলবে, সেটাও জানি না।”
জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, “বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”