ads

রাবির দুই শিক্ষার্থী ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ মামলায় গ্রেপ্তার

রাবির দুই শিক্ষার্থী ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ মামলায় গ্রেপ্তার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ছবি: ফেসবুক

ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী আনাস ও মাহমুদুল হাসানকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Advertisement

গাজিউর রহমান জানান, রাবি থেকে ছাত্রলীগ কর্মী পরিচয়ে আটক হওয়া দুইজনকে মতিহার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাতে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবীর বলেছিলেন, রাবির ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তাদের আগে কোনো একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। বর্তমানে তারা দুইজন চিকিৎসাধীন আছে।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ব্যানারে সম্প্রতি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে দেয়াললিখন, ব্যানার টাঙানো এবং গতকাল রাকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল রাকসুতে হামলার জেরে ছাত্রলীগের সাবেক এক কর্মীসহ তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় পেটান রাকসু ও শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। সোমবার দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে দফায় দফায় এই ঘটনা ঘটে।

প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, আগের ঘটনার জেরে প্রক্টর দপ্তরে একটি বিচার শালিস বসে। সেখানে রাকসু জি এস সালাহউদ্দিন আম্মার একজন শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ বলে অভিযুক্ত করেন এবং পুলিশে ধরিয়ে দিতে বলেন। সেখানে তাদের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাকসু ভবনে হাতাহাতি এবং লাইব্রেরিতে মারধরের সব ঘটনা ঘটে। এরপর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশ আনাস ও হাসান নামে দুইজনকে আটক করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির জন্য ভিসি স্যার দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন।

আটকের পর রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “পুলিশ ও প্রশাসন আমাদের অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে। ফলে আমরা আমাদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করলাম।”

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার চরচাকে বলেন, “আমাদের রাকসু ভবনে গিয়ে মারধর করেছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা।”

এদিকে, হামলার শিকার সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী আনাস চরচাকে বলেন, “আমাদের প্রক্টর অফিসে ডাকলে সেখানে আমাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দেয়। সালাউদ্দিন আম্মার লোকজন নিয়ে এসে আমাকে মারধর শুরু করে। তারপর আমাদের প্রক্টর অফিস থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আমরা সেখান থেকে লাইব্রেরিতে চলে আসি। এরপর অন্য কেউ হয়তো রাকসুর সামনে তাদের সাথে হাতাহাতি করে। এর পর আম্মার লোকজন নিয়ে এসে লাইব্রেরির ভেতরে ঢুকে আমাকে মারধর করে।”

সম্পর্কিত