জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান।
আজ রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ‘বে অফ বেঙ্গল কনভার্সেশন’-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রথম আলো সম্পাদক জানান, ‘‘বিএনপির ৩১ দফা রাজনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি ও নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন, সাংবাদিকদের হয়রানি রোধে বিশেষ আইনি সেল তৈরি এবং বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনার অধিকার নিশ্চিতের যে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করা হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’’
অতীতের গণতান্ত্রিক সহনশীলতার স্মৃতিচারণ করে মতিউর রহমান বলেন, ‘‘এর আগে বিএনপি সরকারের আমলেও ‘ভোরের কাগজ’ ও ‘প্রথম আলো’র সম্পাদক হিসেবে সরকারের কঠোর সমালোচনা করা হলেও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো হয়রানিমূলক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। এমনকি তৎকালীন তরুণ বিএনপি নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে সংবাদপত্রের পাতায় ও মুখোমুখি তীব্র বিতর্ক হলেও তা সবসময় গঠনমূলকভাবেই মীমাংসা হয়েছে।’’ সেই প্রেক্ষাপট টেনেই তিনি নতুন সরকারের কাছে গণমাধ্যমের প্রতি উদার ও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের চরম অস্থিরতা ও গণমাধ্যমের ওপর চাপের বিবরণ তুলে ধরেন মতিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘‘সে সময় মিডিয়া রিফর্ম কমিশন গঠিত হলেও তার গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। চরমপন্থী গোষ্ঠীর ধারাবাহিক উসকানি ও সাত দিনের ঘেরাও কর্মসূচির পর ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। তৎকালীন সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় পুরো ভবন পুড়ে ছাই হওয়ার পরই কেবল ফায়ার সার্ভিসকে সেখানে যেতে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর দেশের সংবাদপত্র খাত চরম অনিশ্চয়তা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের মুখে পড়তে বাধ্য হয়।’’
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের তীব্র নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘২০২৪ সালের শুরুতে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে প্রথম আলোর মালিকানা ও সম্পাদনা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম আলোকে ‘গণতন্ত্র ও দেশের শত্রু’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছিলেন।’’
নিজের ৫৬ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা টেনে মতিউর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘১৯৬২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় যে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার দাবি তোলা হয়েছিল, ক্ষমতার বহু পটপরিবর্তন সত্ত্বেও দীর্ঘ ৬৪ বছর ধরে গণমাধ্যমকর্মীদের সেই একই মৌলিক অধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এই ১৭ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশে স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতার স্থায়ী পরিবেশ নিশ্চিত করবে।