২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার দীর্ঘ ২৫ বছর পর অবশেষে এক ভয়ানক সত্য উন্মোচিত হলো। হামলার পরপরই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মারাত্মক বায়ু দূষণ এবং বিষাক্ত রাসায়নিকের ঝুঁকি সম্পর্কে তৎকালীন নিউইয়র্ক শহর কর্তৃপক্ষের কাছে সমস্ত তথ্য থাকা সত্ত্বেও তা জনগণের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল।
গতকাল মঙ্গলবার নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি ১ লাখ ৭0 হাজার পৃষ্ঠার নথি অনলাইনে প্রকাশের ঘোষণা দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন। নিউইয়র্কের মেয়র জানান, নথিগুলো প্রকাশের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে হামলার ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে ‘মিথ্যাচার’ করেছিল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাতে প্রকাশিত এক খবরে এ তথ্য জানা যায়।
টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার পর ওঠা বিশালাকার ধূলিকণা মেঘ ও বিষাক্ত দূষণ মাসজুড়ে স্থায়ী ছিল। ফেডারেল স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির তথ্যমতে, পরবর্তী বছরগুলোতে এই দূষিত পরিবেশের সংস্পর্শে এসে ৯ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন এবং হাজার হাজার নিউইয়র্কবাসী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে আজও ভুগছেন। স্বাস্থ্যগত সমস্যা, বায়ুর গুণমান এবং শহরের গৃহীত পদক্ষেপের বিবরণ সম্বলিত এই নথিগুলো প্রকাশের বিষয়ে মেয়র মামদানি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “গ্রাউন্ড জিরোর চারপাশের দূষিত বাতাস সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কী জানত, কখন জেনেছিল এবং আইনি দায় এড়াতে তারা কী ভূমিকা নিয়েছিল—তা এসব নথিতে স্পষ্ট।”
এই তথ্য উন্মোচন সম্ভব হয়েছে ‘৯/১১ হেলথ ওয়াচ’ নামক ভুক্তভোগীদের অধিকার রক্ষা সংস্থার দায়ের করা মামলার চুক্তির অংশ হিসেবে। সংস্থাটির প্রধান বেঞ্জামিন শেভাত এক বিবৃতিতে জানান, টানা ২৫ বছর ধরে চারটি মেয়র প্রশাসন জনসাধারণ, কংগ্রেস এবং সিটি কাউন্সিলের কাছ থেকে লোয়ার ম্যানহাটন ও ওয়েস্ট ব্রুকলিনের বিষাক্ত বায়ুর প্রকৃত সত্য গোপন করে রেখেছিল। তৎকালীন নগর কর্মকর্তারা জনগণকে বাতাস ‘নিরাপদ’ বলে আশ্বস্ত করলেও বাস্তবে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। মেয়র মামদানি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যাদের ওপর মানুষ ভরসা করেছিল, সেই দায়িত্বশীল নেতাদের মিথ্যাচারের কারণেই আজ হাজার হাজার মানুষ অসুস্থ।
গতকাল প্রকাশিত ১ লাখ ৭0 হাজার নথি ছাড়াও আগামী ১২ মাসে আরও নথি ধাপে ধাপে প্রকাশিত হবে। এগুলো মূলত হামলার সময়ের মেয়র রুডি জুলিয়ানি এবং পরবর্তী মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গের মেয়াদের সাথে সম্পর্কিত। তৎকালীন জুলিয়ানি প্রশাসনের আইনি দায়বদ্ধতা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিষয়ক আলোচনা এবং ব্লুমবার্গের মেয়াদে কংগ্রেসম্যান জেরি ন্যাডলার কর্তৃক উত্থাপিত বায়ুর মান সংক্রান্ত জন উদ্বেগের বিষয়টি এসব নথিতে উঠে এসেছে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ছিনতাইকৃত দুটি বিমান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিধ্বস্ত করে ২,৯৭৭ জনের প্রাণহানি ঘটানো হয়। তৃতীয় বিমানটি পেন্টাগনে এবং যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভেনিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে বিধ্বস্ত হয়েছিল। তবে এই হামলার সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রশাসনের তথ্য গোপনের কারণে যে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছিল, ২৫ বছর পর তা নতুন করে ন্যায়বিচারের দাবি তুলছে।