মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল ও শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ রুখে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।
আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলনে এই দাবি তোলা হয়। ‘সবার জন্য শিক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন চাই’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই সম্মেলন উদযাপিত হয়েছে।
দেশে চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ছাত্ররাজনীতির আদর্শবাদী ও বিপ্লবী ধারাকে শক্তিশালী করাই তাদের এবারের সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য। আজ বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সূচনা হয় এবং একটি র্যালি বের করা হয়। উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের দাবি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের যে স্বপ্ন ছাত্র-জনতা দেখেছিল, তা বর্তমানে ক্রমশ ফিকে হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি অসম বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বলে তারা অভিযোগ করেছে। তাদের মতে, অতীত সরকারগুলোর মতো বর্তমান সরকারও এই ধরনের চুক্তির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় ভাগে আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, নবগঠিত কমিটির পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈর সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ছাত্রনেতারা বক্তব্য রাখেন।
ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ বলেন, “পুজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থায় সকল বস্তুই বাণিজ্যিকিকরণ করা হয়েছে। শিক্ষাও এর বাইরে না। আমাদের শিক্ষাও এখন পুজিবাদের পন্যের মতো বাণিজ্যিক করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও অধিকার বিঘ্নিত করা হচ্ছে।শিক্ষার অধিকার মৌলিক নয়, এটি একটি মানবিক অধিকার।”