দশ বছর আগে ঢাকার কেরানীগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে দুলাল হোসেন ওরফে দুলু নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।
খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন- দুলালের ভাই হারুন, ভাবী মোরশেনা, বোন সুমাইয়া ও বোন জামাই রাজু।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) সাজার তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আসামির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা খালাস পেয়েছেন।”
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০১ সালে দুলালের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন শারমিন। তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে অপর আসামিদের কু-পরামর্শ ও প্ররোচনায় দুলাল শারমিনের পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মারধর করতো।
২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসামিরা যৌতুকের জন্য শারমিনকে মারপিট করে। ঘটনার বিষয়ে শারমিন তার মাকে জানায়, আসামিরা তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। শারমিনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শারমিন।
এ ঘটনায় তার মা মোসা. মোমেলা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দুলালের মা জরিনাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি মামলার তদন্ত শেষে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক এ কে এম সাইদুজ্জামান। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল নয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। মামলার বিচার চলাকালে জরিনা বেগম মারা যান।