রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছে দুটি পক্ষ। প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থানের পর আজ রোববার দুপুর ১টার দিকে উভয়পক্ষ কর্মসূচি শেষ করে স্থান ত্যাগ করে। তবে আগামীকাল সোমবার আবারও একই স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে তারা।
আজ সকাল ১০টা থেকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেয় সচেতন গ্রাহক ফোরাম এবং ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দুপক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মীরা ইসলামী ব্যাংককে এস আলম গ্রুপের প্রভাবমুক্ত করা, ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান নেন। তাদের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ব্যাংকের ভেতরে গিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য ঘটনাস্থলে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ।
এ বিষয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, “যেকোনো আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করা উচিত। একই সঙ্গে এমন জায়গায় কর্মসূচি পালনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষের চলাচল কম এবং জনদুর্ভোগের আশঙ্কা কম।”
তিনি বলেন, “ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে দুটি পক্ষের কর্মসূচি চলছিল। চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি দিতে ব্যাংকের ভেতরে যান। বিপুলসংখ্যক মানুষ এক জায়গায় জমায়েত হলে তাদের নিয়ন্ত্রণ বা সরিয়ে দিতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা এবং হতাহতের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এ কারণে পুলিশ বড় ধরনের জমায়েত নিরুৎসাহিত করছে।”
এই কর্মসূচির সঙ্গে সাম্প্রতিক কোনো রাজনৈতিক ঘটনা বা আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচির যোগসূত্র পাওয়া গেছে কি না, জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ব্যাংকপাড়ায় যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে।”