মধ্যপ্রাচ্যের অনেক আরব দেশ উচ্চ অর্থনৈতিক ও সামরিক ব্যয় সত্ত্বেও কার্যকর সামরিক সক্ষমতা দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের বিমান বাহিনী কিছুটা সফল হলেও ইসরায়েলের সঙ্গে বিরোধে তারা প্রায়ই ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৯১ সালের পারস্য যুদ্ধে মিশর দুটি সাঁজোয়া ডিভিশন মোতায়েন করেও ইরাকি প্রতিরোধের সঙ্গে একা লড়াই করতে পারছিল না; পরে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। সেই সময় সৌদি আরবের মতো দেশগুলো কেবল সীমিত সেনা পাঠিয়েছিল।
উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা (জিসিসি) বা ছয়টি দেশের মোট সামরিক ব্যয় ১২০ বিলিয়ন ডলার হলেও, এসব দেশের বাহিনী কার্যকর নয়। এদের কাছে আছে ৯ লাখ ৪৪ হাজার সেনা, ৪,৮০০ ট্যাঙ্ক ও ১,০০০ যুদ্ধবিমান। যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজের গবেষক আন্দ্রেয়াস ক্রেইগের মতে, অনেক চটকদার সামরিক কেনাকাটা মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য। উদাহরণস্বরূপ, কাতার ও সৌদি এফ-১৫, রাফায়েল ও টাইফুন যুদ্ধবিমান কিনেছে। তবে এসব যন্ত্রপাতি বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকরতা দেখাতে ব্যর্থ।
নৌবাহিনীর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরও প্রকট। বাণিজ্যিক জাহাজের উপর অর্থনীতি নির্ভরশীল হওয়ায় বড় নৌবাহিনী গড়া হয় না। কাতারের নৌবাহিনী ইতালি থেকে জাহাজ কিনলেও পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত নাবিক নেই। এসব দেশে প্রায়ই অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই, যা তীব্র হামলা প্রতিরোধ করতে সক্ষম।
রাজনৈতিক কারণও গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃত্ববাদী আরব শাসকরা সেনাদের স্বাধীনভাবে অভিযান চালাতে দিতে নারাজ। প্রশিক্ষণ পূর্বনির্ধারিত এবং বাস্তব যুদ্ধের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন। ফলে সেনাবাহিনী প্রায় প্রাইটোরিয়ান বাহিনীর মতো কাজ করে—রাজপরিবার ও রাষ্ট্র ক্ষমতা রক্ষার জন্য। সৌদি আরবের ন্যাশনাল গার্ড রাজপরিবারের নিরাপত্তায় নিয়োজিত, মিশরের সেনাবাহিনী বিস্তৃত বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য পরিচালনা করে।
সামরিক সমন্বয়, আস্থা ও অভিজ্ঞতার অভাবও সমস্যা বাড়ায়। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে যৌথ জিসিসি সামরিক কাঠামোর প্রস্তাব বাতিল হয়, কারণ ছোট দেশগুলো বড় প্রতিবেশীর প্রতি সেনা নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করতে নারাজ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামাজিক বিভাজন, অহংকার ও সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোপনীয়তা এ অব্যবস্থার মূল কারণ।
ফলশ্রুতিতে, অর্থ ও আধুনিক অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও আরব সেনাবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর নয়। রাজনৈতিক কাঠামো, সামাজিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রশিক্ষণের অভাব না বদলালে এই পরিস্থিতি সহজে পরিবর্তন হবে না।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, মিডল ইস্ট রিভিউ অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ও দ্য ইকোনমিস্ট