চরচা ডেস্ক

যারা বিষণ্নতায় ভুগছেন, তাদের কাছে ব্যায়াম করার পরামর্শের চেয়ে বিরক্তিকর আর খুব কম জিনিসই আছে। তবে অপ্রিয় উপদেশ মানেই যে তা ভুল–এমন নয়। একের পর এক গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিক ব্যায়াম মেজাজ ফুরফুরে রাখে এবং উদ্বেগ কমায়।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত দুটি বড় পরিসরের বিশ্লেষণ আরও এক ধাপ এগিয়ে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এটি থেরাপি বা অ্যান্টি-ডিপ্রেস্যান্ট ওষুধের মতোই কার্যকর।
প্রথমটি গত জানুয়ারিতে ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের একদল গবেষক কোকরেন রিভিউ হিসেবে প্রকাশ করেন, যা স্বাস্থ্যসেবা গবেষণার ক্ষেত্রে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি মেটা-অ্যানালাইসিস। এতে বিষণ্নতার ওপর ব্যায়ামের প্রভাব পরিমাপের জন্য পরিচালিত ৬৯টি দৈবচয়নভিত্তিক কন্ট্রোলড ট্রায়াল (আরসিটি)-এর ফলাফল একত্রিত করা হয়েছে।
দ্বিতীয় গবেষণাটি ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিন-এ প্রকাশিত হয়, যা ছিল একটি তথাকথিত ‘মেটা-মেটা-অ্যানালাইসিস’। এতে হাজারেরও বেশি ট্রায়াল এবং প্রায় ৮০ হাজার অংশগ্রহণকারীর তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। উভয় গবেষণারই ফলাফল একই। আর তা হলো, ব্যায়াম বিষণ্নতা ও উদ্বেগের উপসর্গগুলো উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দেয়।
তবে এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা রয়েছে। মেটা-অ্যানালাইসিসের মান নির্ভর করে তাতে অন্তর্ভুক্ত করা গবেষণাগুলোর ওপর। আর এতে ব্যায়াম সংক্রান্ত ট্রায়ালগুলোতে তথ্যের বিচ্যুতি ঘটার প্রবণতা থাকে। প্রথমত, এখানে অংশগ্রহণকারীদের ‘ব্লাইন্ডেড’ (গবেষণার বিষয়বস্তু সম্পর্কে অজ্ঞাত রাখা) করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ তারা জানেন যে, তারা ব্যায়াম করছেন কি না। ফলে তাদের মেজাজ সম্পর্কে নিজেদের দেওয়া তথ্যে ব্যক্তিগত প্রত্যাশা বা ভালো লাগার প্রভাব থেকে যেতে পারে। এই সব কারণে, কোকরেন রিভিউ তাদের অন্তর্ভুক্ত করা প্রতিটি গবেষণাকেই পক্ষপাতিত্বের উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে বিচার করেছে।
তা ছাড়া, মেটা-মেটা-অ্যানালাইসিসটিতে এমন কোনো গবেষণা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যেখানে অন্যান্য চিকিৎসার সরাসরি বিপরীতে ব্যায়ামকে পরীক্ষা করা হয়েছে। বরং, ব্যায়াম সংক্রান্ত ট্রায়াল থেকে প্রাপ্ত ফলাফলগুলোকে অ্যান্টি-ডিপ্রেস্যান্ট বা থেরাপির পৃথক ট্রায়াল থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
কিন্তু ব্যায়াম সংক্রান্ত গবেষণার বিপরীতে, অ্যান্টি-ডিপ্রেস্যান্টের আরসিটিগুলো সাধারণত যথাযথভাবে ‘ব্লাইন্ডেড’ (অংশগ্রহণকারীরা ওষুধ না কি প্লাসিবো–খাচ্ছেন তা জানেন না) থাকে। এগুলোতে শক্তিশালী ‘প্লাসিবো ইফেক্ট’ কাজ করে, যার ফলে একই রকম চমকপ্রদ ফলাফল পাওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের নিউরোসায়েন্সের অধ্যাপক জোনাথন রোয়াইজার দ্য ইকোনমিস্টকে বলেন, “আমি মনে করি না এটি একটি ন্যায্য তুলনা।”

তা সত্ত্বেও, বেশিরভাগ গবেষক আত্মবিশ্বাসী যে, ব্যায়াম মেজাজ ভালো করতে সাহায্য করে। দৌঁড়ানো, হাঁটা বা সাইকেল চালানোর মতো অ্যারোবিক ওয়ার্কআউটগুলো সবক্ষেত্রেই বিশেষভাবে উপকারী বলে মনে হয়। বিষণ্নতার ক্ষেত্রে একা ঘাম ঝরানোর চেয়ে দলগত বা প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম করা বেশি কার্যকর এবং এর সুফল পেতে কয়েক মাস সময় লাগে। অন্যদিকে উদ্বেগের জন্য লো-ইন্টেনসিটি অ্যাক্টিভিটি যেমন- হাঁটা, বাইসাইকেল চালানো, স্ট্রেচিং, ইয়োগা (যোগব্যায়াম), তাই-চি, ধীর লয়ে নাচা, এমনকি ঘরের কাজ সেরা ফলাফল দেয় বলে মনে করা হয়।
ব্যায়াম কেন কাজ করে তা এখনও খুব একটা স্পষ্ট নয়। প্রচলিত ধারণা হলো, ব্যায়াম ‘এনডোরফিন’ (ফিল-গুড হরমোন) নিঃসরণের মাধ্যমে মনকে প্রফুল্ল বা ‘হাই’ করে। তবে এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি খুব সামান্য।
২০২১ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, দৌঁড়বিদদের ওপিওড রিসেপ্টরগুলো ব্লক করে দেওয়ার পরেও ব্যায়াম পরবর্তীতে তাদের আনন্দানুভূতি বা উদ্বেগ কমে যাওয়ার হার মোটেও কমেনি। গবেষকরা এখন মনে করেন, এর বদলে ‘এন্ডোক্যানাবিনোয়েডস’ (শরীর ও মস্তিষ্কে উৎপন্ন রাসায়নিক যা গাঁজার সক্রিয় অণুর মতো একই রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে) এই স্বল্পমেয়াদী মানসিক প্রশান্তির জন্য দায়ী হতে পারে।
অন্যান্য জৈবিক প্রক্রিয়াও এক্ষেত্রে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ব্যায়াম শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং মস্তিষ্কের নমনীয়তা বা ‘ব্রেইন প্লাস্টিসিটি’র উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। সেই সাথে এটি মস্তিষ্কে ডোপামিনের নিঃসরণও বাড়িয়ে দেয়। ডোপামিন মূলত কোনো কাজের শ্রমের বিপরীতে তার প্রাপ্তি বা পুরস্কারের বিষয়টি মূল্যায়ন করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকে। তাই এর নিঃসরণ বাড়লে বিষণ্নতার কারণে সৃষ্ট যে উদ্যমহীনতা বা অনুপ্রেরণার অভাব, তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতে পারে।
এর বাইরেও ব্যায়ামের কিছু মনস্তাত্ত্বিক উপকারিতা রয়েছে। এটি মানুষের মধ্যে এক ধরণের অর্জনের অনুভূতি, নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং শেষ পর্যন্ত কোনো বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সক্ষমতা তৈরি করে। আর মেজাজ ফুরফুরে রাখতে এই প্রতিটি বিষয়ই বেশ পরিচিত। সুতরাং, ঘাম ঝরানোর মতো যথেষ্ট কারণ কিন্তু আপনার হাতে রয়েছে।

যারা বিষণ্নতায় ভুগছেন, তাদের কাছে ব্যায়াম করার পরামর্শের চেয়ে বিরক্তিকর আর খুব কম জিনিসই আছে। তবে অপ্রিয় উপদেশ মানেই যে তা ভুল–এমন নয়। একের পর এক গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিক ব্যায়াম মেজাজ ফুরফুরে রাখে এবং উদ্বেগ কমায়।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত দুটি বড় পরিসরের বিশ্লেষণ আরও এক ধাপ এগিয়ে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এটি থেরাপি বা অ্যান্টি-ডিপ্রেস্যান্ট ওষুধের মতোই কার্যকর।
প্রথমটি গত জানুয়ারিতে ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের একদল গবেষক কোকরেন রিভিউ হিসেবে প্রকাশ করেন, যা স্বাস্থ্যসেবা গবেষণার ক্ষেত্রে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি মেটা-অ্যানালাইসিস। এতে বিষণ্নতার ওপর ব্যায়ামের প্রভাব পরিমাপের জন্য পরিচালিত ৬৯টি দৈবচয়নভিত্তিক কন্ট্রোলড ট্রায়াল (আরসিটি)-এর ফলাফল একত্রিত করা হয়েছে।
দ্বিতীয় গবেষণাটি ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিন-এ প্রকাশিত হয়, যা ছিল একটি তথাকথিত ‘মেটা-মেটা-অ্যানালাইসিস’। এতে হাজারেরও বেশি ট্রায়াল এবং প্রায় ৮০ হাজার অংশগ্রহণকারীর তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। উভয় গবেষণারই ফলাফল একই। আর তা হলো, ব্যায়াম বিষণ্নতা ও উদ্বেগের উপসর্গগুলো উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দেয়।
তবে এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা রয়েছে। মেটা-অ্যানালাইসিসের মান নির্ভর করে তাতে অন্তর্ভুক্ত করা গবেষণাগুলোর ওপর। আর এতে ব্যায়াম সংক্রান্ত ট্রায়ালগুলোতে তথ্যের বিচ্যুতি ঘটার প্রবণতা থাকে। প্রথমত, এখানে অংশগ্রহণকারীদের ‘ব্লাইন্ডেড’ (গবেষণার বিষয়বস্তু সম্পর্কে অজ্ঞাত রাখা) করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ তারা জানেন যে, তারা ব্যায়াম করছেন কি না। ফলে তাদের মেজাজ সম্পর্কে নিজেদের দেওয়া তথ্যে ব্যক্তিগত প্রত্যাশা বা ভালো লাগার প্রভাব থেকে যেতে পারে। এই সব কারণে, কোকরেন রিভিউ তাদের অন্তর্ভুক্ত করা প্রতিটি গবেষণাকেই পক্ষপাতিত্বের উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে বিচার করেছে।
তা ছাড়া, মেটা-মেটা-অ্যানালাইসিসটিতে এমন কোনো গবেষণা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যেখানে অন্যান্য চিকিৎসার সরাসরি বিপরীতে ব্যায়ামকে পরীক্ষা করা হয়েছে। বরং, ব্যায়াম সংক্রান্ত ট্রায়াল থেকে প্রাপ্ত ফলাফলগুলোকে অ্যান্টি-ডিপ্রেস্যান্ট বা থেরাপির পৃথক ট্রায়াল থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
কিন্তু ব্যায়াম সংক্রান্ত গবেষণার বিপরীতে, অ্যান্টি-ডিপ্রেস্যান্টের আরসিটিগুলো সাধারণত যথাযথভাবে ‘ব্লাইন্ডেড’ (অংশগ্রহণকারীরা ওষুধ না কি প্লাসিবো–খাচ্ছেন তা জানেন না) থাকে। এগুলোতে শক্তিশালী ‘প্লাসিবো ইফেক্ট’ কাজ করে, যার ফলে একই রকম চমকপ্রদ ফলাফল পাওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের নিউরোসায়েন্সের অধ্যাপক জোনাথন রোয়াইজার দ্য ইকোনমিস্টকে বলেন, “আমি মনে করি না এটি একটি ন্যায্য তুলনা।”

তা সত্ত্বেও, বেশিরভাগ গবেষক আত্মবিশ্বাসী যে, ব্যায়াম মেজাজ ভালো করতে সাহায্য করে। দৌঁড়ানো, হাঁটা বা সাইকেল চালানোর মতো অ্যারোবিক ওয়ার্কআউটগুলো সবক্ষেত্রেই বিশেষভাবে উপকারী বলে মনে হয়। বিষণ্নতার ক্ষেত্রে একা ঘাম ঝরানোর চেয়ে দলগত বা প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম করা বেশি কার্যকর এবং এর সুফল পেতে কয়েক মাস সময় লাগে। অন্যদিকে উদ্বেগের জন্য লো-ইন্টেনসিটি অ্যাক্টিভিটি যেমন- হাঁটা, বাইসাইকেল চালানো, স্ট্রেচিং, ইয়োগা (যোগব্যায়াম), তাই-চি, ধীর লয়ে নাচা, এমনকি ঘরের কাজ সেরা ফলাফল দেয় বলে মনে করা হয়।
ব্যায়াম কেন কাজ করে তা এখনও খুব একটা স্পষ্ট নয়। প্রচলিত ধারণা হলো, ব্যায়াম ‘এনডোরফিন’ (ফিল-গুড হরমোন) নিঃসরণের মাধ্যমে মনকে প্রফুল্ল বা ‘হাই’ করে। তবে এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি খুব সামান্য।
২০২১ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, দৌঁড়বিদদের ওপিওড রিসেপ্টরগুলো ব্লক করে দেওয়ার পরেও ব্যায়াম পরবর্তীতে তাদের আনন্দানুভূতি বা উদ্বেগ কমে যাওয়ার হার মোটেও কমেনি। গবেষকরা এখন মনে করেন, এর বদলে ‘এন্ডোক্যানাবিনোয়েডস’ (শরীর ও মস্তিষ্কে উৎপন্ন রাসায়নিক যা গাঁজার সক্রিয় অণুর মতো একই রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে) এই স্বল্পমেয়াদী মানসিক প্রশান্তির জন্য দায়ী হতে পারে।
অন্যান্য জৈবিক প্রক্রিয়াও এক্ষেত্রে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ব্যায়াম শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং মস্তিষ্কের নমনীয়তা বা ‘ব্রেইন প্লাস্টিসিটি’র উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। সেই সাথে এটি মস্তিষ্কে ডোপামিনের নিঃসরণও বাড়িয়ে দেয়। ডোপামিন মূলত কোনো কাজের শ্রমের বিপরীতে তার প্রাপ্তি বা পুরস্কারের বিষয়টি মূল্যায়ন করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকে। তাই এর নিঃসরণ বাড়লে বিষণ্নতার কারণে সৃষ্ট যে উদ্যমহীনতা বা অনুপ্রেরণার অভাব, তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতে পারে।
এর বাইরেও ব্যায়ামের কিছু মনস্তাত্ত্বিক উপকারিতা রয়েছে। এটি মানুষের মধ্যে এক ধরণের অর্জনের অনুভূতি, নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং শেষ পর্যন্ত কোনো বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সক্ষমতা তৈরি করে। আর মেজাজ ফুরফুরে রাখতে এই প্রতিটি বিষয়ই বেশ পরিচিত। সুতরাং, ঘাম ঝরানোর মতো যথেষ্ট কারণ কিন্তু আপনার হাতে রয়েছে।