Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> এক্সপ্লেইনার

‘মোস্তাফিজ ২.০’ হয়ে ফিরবেন নাহিদ রানা?

মাজহারুল ইসলাম

মাজহারুল ইসলাম

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০: ৫৭
‘মোস্তাফিজ ২.০’ হয়ে ফিরবেন নাহিদ রানা?
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদশের পেস বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় তারকা নাহিদ রানা। ছবি: বিসিবি

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে ড্র হওয়া টেস্টের পঞ্চম দিনের শেষ ঘণ্টায় একজনকে খুব মিস করেছে বাংলাদেশ দল। তিনি নাহিদ রানা। কেননা, চলতি বছরই পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে পঞ্চম দিনে একটা স্পেলে তার গতিময় বোলিংয়ের সামনে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা উড়ে গিয়েছিলেন। শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে কীভাবে বোলিং করতে হয়, সেটা এই মুহূর্তে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে নাহিদের চেয়ে সম্ভবত আর কেউ ভালো জানেন না। কিন্তু মাস তিনেক আগে পাওয়া এক চোটে তিনি এখনো মাঠের বাইরে, যা ক্রমেই চিন্তার কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য।নাহিদের না থাকাটা বাংলাদেশ দলকে লাল বলের ক্রিকেটে কতটা ভোগাচ্ছে, তার প্রমাণ সাম্প্রতিক সময়ের বাংলাদেশের খেলা টেস্টগুলো। জিম্বাবুয়ের কাছে বাংলাদেশ ইনিংস ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল আড়াই দিনে। মাঝে অস্ট্রেলিয়াকে ডারউইনে হারালেও পরে পরের টেস্টে হেরে গিয়েছিল দুই দিনে। আর আফগানিস্তানের সঙ্গে টেস্টটা হয়েছে ড্র।

Advertisement
‘নাহিদ রানার অ্যাকশনে যেন পরিবর্তন না আসে’, চরচাকে অ্যালান ডোনাল্ডnahid rana

এখানে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিকটি বড় ভূমিকা রাখলেও নাহিদের মতো একজন পার্থক্য গড়ে দেওয়া এক্সপ্রেস বোলারের অনুপস্থিতিটা বাংলাদেশ দল প্রায়ই টেস্টের বিশেষ মুহূর্তগুলোতে অনুভব করেছে।

আগামী দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য টেস্ট ক্রিকেটে এরকম মুহূর্ত তৈরি হতে পারে আরও। কেননা, ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে দুটি টেস্ট খেলার পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে বাংলাদেশ আরও দুটি টেস্ট খেলবে এবং এই চারটি ম্যাচই আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। বাংলাদেশের পেস বিপ্লবের এই সময়েও নাহিদের মতো একজনের না থাকাটা কমিয়ে দিয়েছে বোলিংয়ের শক্তিমত্তা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

সাদা বলের ক্রিকেটেও বাংলাদেশ দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নাহিদ রানা। ছবি: বিসিবি
সাদা বলের ক্রিকেটেও বাংলাদেশ দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নাহিদ রানা। ছবি: বিসিবি

প্রশ্ন হচ্ছে, নাহিদের ইনজুরি নিয়ে সম্প্রতি কেন এত আলোচনা? নাহিদের তো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজেই ফিরে আসার কথা ছিল। জুলাই মাসে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে তিনি গ্রেড ২ সাইড স্ট্রেইনের যে চোট পেয়েছিলেন, সেটার পুনর্বাসন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগেই তার ফিট থাকার আশ্বাস ছিল বিসিবির পক্ষ থেকে।

আইপিএল খেলা উচিত হবে নাহিদ রানার?thumbnailbee_Wb52X7blxQ8_hq

নাহিদ সেই মোতাবেক বোলিংও শুরু করেছিলেন। বাংলাদেশ দলের সঙ্গে এশিয়া কাপে অনুশীলনের সময় প্রথমে হাত ঘুরিয়েছেন, তারপরে একটু একটু একটু করে রানিংও শুরু করেছিলেন। এরপরে সামান্য দৌড়ে বোলিং।

কিন্তু বিধিবাম! নতুন করে আরেকটি চোটে পড়ার কারণে নাহিদকে আপাতত বোলিং না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি বিসিবিতে আসছেন, কিন্তু সেটা তার রানিংয়ের মধ্যেই আছে বা তিনি অন্যান্য অ্যাক্টিভিটিজ করছেন। বোলিং একেবারেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নাহিদের।

টেস্ট ক্রিকেটে ক্রমশ বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের বিজ্ঞাপন হয়ে উঠছেন নাহিদ রানা। ছবি: বিসিবি
টেস্ট ক্রিকেটে ক্রমশ বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের বিজ্ঞাপন হয়ে উঠছেন নাহিদ রানা। ছবি: বিসিবি

কেন? কারণটা হচ্ছে, নাহিদের কোমরের নিচের অংশটাতে ব্যথা অনুভব করছেন। যখন বোলিং করতে যাচ্ছেন, তখন কোনো চোট অনুভব হচ্ছে না। কিন্তু যখনই বোলিং করছেন, রিলিজ করার পরবর্তী সময়ে কোমরের নিচের অংশে তিনি বেশ ব্যথা অনুভব করছেন। আর এই কারণেই বিসিবি তাকে বোলিং করা থেকে বিরত রেখেছে।

নাহিদের নতুন করে পাওয়ার চোটের আগে সাইড স্ট্রেইন নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে এই চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় একটু এদিক-ওদিক হলে নতুন চোটের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

যারা একটু গতিময় পেস বোলিং করেন, তাদের জন্য সাইড স্ট্রেইনের চোটে পড়াটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা। জোরে বোলিং করার সময় হঠাৎ শরীরের এক পাশে প্রায়ই তীব্র ব্যথা অনুভব করেন পেসাররা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একবার যদি সাইড স্ট্রেইনের ব্যথাটা অনুভব হয়, তাহলে সেই বোলারের পক্ষে আর খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না।

পেসারদের দেশেই গতির ঝড় তুলছেন বাংলাদেশের নাহিদ রানা!nahid rana

এই চোটের পেছনে বোলারের জোরে বল করার প্রচেষ্টাকেই মূলত চিকিৎসকেরা দায়ী করে থাকেন। বলের গতি বাড়াতে গিয়ে বোলার যখন বোলিং করা হাতের ঠিক বিপরীত পাশে সামনের হাতটি জোরে নিজের দিকে টেনে নিয়ে আসেন, তখন সেই পাশের পেশিতে অতিরিক্ত একটা চাপ পড়ে এবং সেখান থেকেই সাইড স্ট্রেইনের উৎপত্তি হতে পারে।

বয়স ও বোলিংয়ের তীব্রতাও সাইড স্ট্রেইনের সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২৪ বছরের কম বয়সী বোলারদের ক্ষেত্রে এই সাইড স্ট্রেইনের চোটে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিটা অনেক বেশি থাকে তুলনামূলক ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী পেসারদের তুলনায়। আর ৩০ বছর বয়সী বোলারদের তুলনায় এই ঝুঁকিটা তাদের থাকে তিন গুণ বেশি। নাহিদের বয়স ২৪ হওয়ায় তাকে নিয়ে বিসিবিকে বাড়তি সতর্ক থাকতেই হচ্ছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে চোট পান নাহিদ রানা। ছবি: বিসিবি
চলতি বছরের জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে চোট পান নাহিদ রানা। ছবি: বিসিবি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অনেক বড় বড় বোলারও সাইড স্ট্রেইনের চোটে পড়েছেন, ফিরেছেনও। অনেকে আবার এটার জন্য নিজেদের গতি হারিয়েছেন বা ছন্দ হারিয়ে ফেলেছেন। কেউ হয়তো বা ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে সাইড স্ট্রেইনের চোটে পড়েছেন। এরপর তারা যখন ফিরেছেন, তখন কিন্তু আর সেই ছন্দে দেখা যায় না, ব্যতিক্রমও অবশ্য আছে।

যেমন এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেসার যশপ্রীত বুমরা। ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে সাইড স্ট্রেইনের চোটে গ্রেড ৩ চোটে পড়েছিলেন। অল্প বিরতির পর তিনি ফিরে এসেছিলেন। সেই সময়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচ মিস করেছেন বটে। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তার ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টটা এত ভালোভাবে সামাল দিয়েছে যে, তিনি যখন ফিরেছেন, তখন শুরু থেকেই আবার সেরা ছন্দে পারফর্ম করতে পেরেছেন।

১৪০, ১৪৪, ১৫০.২, ১৪১, ১৪৯.১ ও ১৪৮.৫ কিমি–এক ওভারে নাহিদ রানার গতির ঝড়nahid rana bd

নাহিদের ক্ষেত্রেও বিসিবির চাওয়া একই। মেডিক্যাল বিভাগ মনে করছে, নাহিদ কবে থেকে বোলিং করতে পারবেন আর তিনি কবে থেকে আগের মতো জোরে বোলিং করতে পারবেন, দুটি ভিন্ন ব্যাপার। নাহিদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিসিবির একটি সূত্র চরচাকে জানিয়েছে, তিনি সম্ভবত ছয় থেকে আট সপ্তাহ পর বোলিং শুরু করতে পারবেন। তবে নাহিদ ঘণ্টায় ১৪৫ থেকে ১৫০ কিলোমিটার বেগে নিয়মিতভাবে বোলিং করার মতো অবস্থায় ঠিক কবে যাবেন, তা নিয়ে বিসিবি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে।

নাহিদের ক্ষেত্রে যে সমস্যাটা হয়েছে, কোমর থেকে নিচের অংশগুলোর ব্যায়ামগুলো ঠিকমতো করতে পারেননি। আর তাই তিনি যখন রিকভারি শেষে বোলিংয়ে ফিরলেন, দেখা যাচ্ছে, তিনি কোমরের সেই নিচের অংশটাতে ব্যথা অনুভব করছেন।

ছবি: বিসিবি
ছবি: বিসিবি

কারণ, শারীরিকভাবে তার যে দুর্বলতাটা, এর মধ্যে সময়ের সঙ্গে তৈরি হয়ে গিয়েছিল, সেটা এখনো তিনি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ফলে, কয়েক কদম দৌড়ে বোলিং করার পরপরই তার কোমরের নিচের অংশে ব্যথা হচ্ছে। তবে দেশে কয়েক দফায় পরীক্ষা করেও কিছু ধরা পড়েনি।

তাহলে কি নাহিদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে সবকিছু হয়তো পরিকল্পনা মাফিক এগোয়নি? বিসিবি যা বলছে, নাহিদ ঠিকমতো ব্যায়ামটা করতে পারেননি, এজন্য তার শারীরিক দুর্বলতা রয়ে গেছে বলেই এই ব্যথার আবির্ভাব। কিন্তু এই তথ্য তো চিকিৎসকদের কাছে থাকার কথা। সেটা জেনেও কেন তারা নাহিদকে বোলিং করার অনুমতি দিয়েছেন?

বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ধরনের চোট থেকে সেরে ওঠার জন্য সম্ভাব্য ছয় থেকে সাত সপ্তাহ লাগে। তবে সামনের ব্যস্ত টেস্ট ক্রিকেটের সূচি এবং আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপও থাকায় নাহিদের ব্যাপারে তারা চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে চান।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার চরচাকে বলেছেন, “আমাদের অবস্থান কিন্তু পরিষ্কার। আমরা সম্পূর্ণ ফিট নাহিদ রানাকে চাই। আমরা তার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। কিন্তু মেডিকেল বিভাগের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় তাকে দলে রাখা সম্ভব হয়নি। আশা করছি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের শুরু থেকেই তাকে পাওয়া যাবে।”

তবে বিসিবির একটি সূত্র চরচাকে জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রথম টেস্টে নাহিদকে পাওয়া যাবে না ভেবেই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।

ছোট ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গতিময় বোলার হয়ে গেছেন নাহিদ রানা। ছবি: বিসিবি
ছোট ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গতিময় বোলার হয়ে গেছেন নাহিদ রানা। ছবি: বিসিবি

নাহিদ কবে শতভাগ সুস্থ হয়ে কবে ফিরতে পারবেন, সেটা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পেতে নাহিদকে এখন দেশের বাইরে পাঠাতে যাচ্ছে বিসিবি। উন্নত চিকিৎসা এবং পরবর্তী অ্যাসেসমেন্টের জন্য আলোচনা চলছে কাতার, অস্ট্রেলিয়া বা সিঙ্গাপুরে পাঠানোর ব্যাপারে। সেই ফলাফল আসা পর্যন্ত নাহিদের ফেরা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।

তবে নাহিদের জন্য এরকম একটা চোট এবং চোট-পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়াটা দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি ফিরেই যদি আবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি—যাই খেলুন না কেন, সেখানে সেরা রূপেই হাজির হতে হবে তাকে। দলও নিশ্চিতভাবে তাকে সেভাবেই দেখতে চাইবে।

কিন্তু আরেকটি চোটের ঝুঁকি এড়াতে নাহিদের গতি কমে গেলে সেটা তার ও দলের উভয়ের জন্যই চিন্তার কারণ হবে। গতিই যে নাহিদের বোলিংয়ের মূল অস্ত্র। ফলে তার গতি যদি ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত কমে যায়, নিশ্চিতভাবেই তিনি আগের মতো কার্যকর হতে পারবেন না।

আর শেষ পর্যন্ত নাহিদ যদি দক্ষিণ আফ্রিকা সফর মিস করেন, সেটা তার জন্য হবে বড় একটা সেটব্যাক। সেক্ষেত্রে নাহিদের পেশাদার ক্রিকেটে ফেরাটা একেবারে পিছিয়ে যাবে আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত, যেখানে বিসিবির নতুন প্রতিযোগিতা ডি-থ্রি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট দিয়ে তিনি ফিরতে পারেন।

অর্থাৎ পাঁচ মাসের লম্বা বিরতি। পেসাররা একেবারে বাধ্য না হলে এত লম্বা সময়ের জন্য বাইরে থাকতে চান না। অনেক সময় পেসারদের দেখা গেছে, লম্বা সময় চোট থেকে ফিরে অনেকেই গতির সঙ্গে কিছুটা আপস করেন। বাংলাদেশেরই রয়েছে এর একটা উদাহরণ—মোস্তাফিজুর রহমান।

২০১৬ সালে মোস্তাফিজুর কাঁধের চোটে পড়েছিলেন। এরপর তিনি পুনর্বাসন প্রক্রিয়া থেকে ফিরেছিলেন বটে, তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থেকে গিয়েছিল। মোস্তাফিজুরের বোলিং এখনো সহায়ক কন্ডিশন ছাড়া ফ্ল্যাট উইকেটে ততটা কার্যকর হয় না, এটার মূল কারণটা হচ্ছে মোস্তাফিজুর রহমানের গতি অনেকটাই কমে গেছে সেই চোট থেকে ফেরার পর।

ছবি: বিসিবি
ছবি: বিসিবি

গতি কমিয়ে কীভাবে নিজেকে কার্যকর রাখা যায়, সেটাই তাকে শিখতে হয়েছে সাদা বলের ক্রিকেটে। চোট-আঘাতের ভয়ে তিনি টেস্ট খেলাই ছেড়ে দিয়েছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অবশ্য নিয়মিত মুখ হয়েছেন।

এখন নাহিদের বেলায়ও এমনটা হবে কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে। পাশাপাশি, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে কিন্তু ইতিমধ্যেই তিনি একটা হট কেকে পরিণত হয়েছেন। সেই লোভ সামলে তিনি কতটা সময় টেস্ট ক্রিকেটের জন্য চোটের ঝুঁকি নিয়ে গতিময় বোলিং করতে চাইবেন, সেই প্রশ্নও সামনে উঠতে পারে।

পেসারদের দেশে নাহিদ রানার গতির ঝড়, বাংলাদেশের আক্ষেপ কি ঘুচল?nahid rana f

আর তাই নাহিদ কবে ফিরবেন, সেই আলোচনার চেয়ে তিনি ফেরার পর কোন রূপে ফিরবেন, সেটা সবচেয়ে বড় একটা আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা, নাহিদ যদি সেই গতিময় রূপে ফিরতে না পারেন বা তার যদি সেই গতি ও ছন্দ ফিরে পেতে অনেকটা সময় লাগে, তাহলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বড় সমস্যায় পড়ে যাবে।

নাহিদের জন্য তাই ফেরাটাই শুধুমাত্র মূল বিষয় নয়। তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ বা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরও যদি মিস করেন, বিসিবি আপাতত খুব একটা চিন্তিত নয়। যদি এই সিরিজগুলোতে নাহিদ রানার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ হেরে যায়, সেই ক্ষতিটাও তারা মেনে নিতে প্রস্তুত।

বিসিবি চায় পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া নাহিদকে ফিরে পেতে। নাহিদের চোট কি সেই চাওয়ায় সাড়া দেবে? নাকি মোস্তাফিজ ২.০ দেখতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রকেট?

বিষয়: বিসিবিক্রিকেটক্রিকেটারবাংলাদেশ ক্রিকেটনাহিদ রানা
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    খুলনায় পুলিশের ওপর হামলার পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ২

  • ২

    ইউপি নির্বাচন: এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কি ভোটে অংশ নিতে পারবেন?

  • ৩

    ফ্রান্স এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে

  • ৪

    ঢাকার বায়ুদূষণ দেশের জন্য লজ্জার: প্রধানমন্ত্রী

  • ৫

    কপ-৩১ সামনে রেখে শ্রম অধিকার রক্ষার দাবি ৩ সংস্থার

সম্পর্কিত
  • ইরান-হুতিদের কারণে কতটা ঝুঁকিতে উপসাগরীয় ডেটা সেন্টারগুলো

    ইরান-হুতিদের কারণে কতটা ঝুঁকিতে উপসাগরীয় ডেটা সেন্টারগুলো

    উপসাগরীয় দেশগুলো এতদিন নিজেদের আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেও প্রযুক্তির জন্য শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু চলমান যুদ্ধ তাদেরকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। ইরান এখন প্রযুক্তির এই নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তাকেই একটি ভূ-রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার বানাতে চাইছে।

  • হুতি কারা, কী চায় তারা?

    হুতি কারা, কী চায় তারা?

    হুতিরা উত্তর ইয়েমেনের একটি সশস্ত্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠী। তারা দেশটির সংখ্যালঘু জায়দি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করে। জায়দিবাদ শিয়া ইসলামের একটি শাখা।

  • নিজ দেশেই কেন নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে ভারতীয়দের?

    নিজ দেশেই কেন নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে ভারতীয়দের?

    এসআইআরের সবচেয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে থাকা এসওয়াই কুরেশি। তার অভিযোগ, মুসলিমদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই দেশজুড়ে এই হয়রানিমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

  • এক প্ল্যাটফর্মে মিলবে ব্যবসার সব অনুমোদন, কীভাবে

    এক প্ল্যাটফর্মে মিলবে ব্যবসার সব অনুমোদন, কীভাবে

    আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে ব্যবসা অনুমোদন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এর আওতায় একটি ডিজিটাল ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে বিনিয়োগ সংক্রান্ত