চরচা ডেস্ক

ইরানের খারগ দ্বীপে আমেরিকার সামরিক বাহিনী বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তেল অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, অত্যন্ত গোপনীয়তার চাদরে ঢাকা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কঠোর পাহারায় বেষ্টিত এই দ্বীপে সাধারণের প্রবেশাধিকার নেই। কেবল সরকারি নিরাপত্তা ছাড়পত্রধারীদেরই সেখানে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে।
বুশেহর বন্দর থেকে ৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ১৫ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ২৮ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত এই খারগ দ্বীপ নিঃসন্দেহে ইরানের অর্থনীতির মূল মেরুদণ্ড। দেশটির মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়, যা বছরে প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ব্যারেল। তাই এটিকে ইরানের লাইফলাইনও বলা হয়।
মাত্র ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৪-৫ কিলোমিটার প্রস্থের এই ক্ষুদ্র দ্বীপটির চারপাশের গভীর জলভাগ একে একটি অনন্য ভৌগোলিক সুবিধা প্রদান করেছে। এই গভীরতার কারণেই দানবীয় সুপার-ট্যাঙ্কারগুলো এখানে নিরাপদে ভিড়তে পারে এবং মূলত এশীয় বাজারের উদ্দেশ্যে অপরিশোধিত তেল বোঝাই করতে পারে, যার মধ্যে চীন শীর্ষ আমদানিকারক হিসেবে অবস্থান করছে।
বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে উৎপাদন ব্যাহত হলেও ইরান অত্যন্ত আগ্রাসীভাবে এই দ্বীপের অবকাঠামো সম্প্রসারণ করেছে।
সাম্রাজ্য বিস্তারের ক্ষেত্রে এই দ্বীপ ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক যুগে, পর্তুগিজরা উপসাগরের অন্যান্য দ্বীপের সাথে প্রথম খারগের নিয়ন্ত্রণ নেয়। আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে এখানে ডাচদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ডালপালা মেলতে শুরু করে। হাইড্রোকার্বন বা খনিজ তেলের খনি আবিষ্কৃত হওয়ার অনেক আগে থেকেই তাই এই দ্বীপের কৌশলগত সামুদ্রিক অবস্থান বিজেতাদের কাছে ছিল এক পরম আকাঙ্ক্ষিত রত্ন। কেউ কেউ ভুলবশত খারগ নামটি আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন শহর চ্যারাক্স স্পাসিনোর সাথে গুলিয়ে ফেলেন, যা বর্তমানে টাইগ্রিস ও কারখে নদীর সংযোগস্থলে বসরা শহরের কাছে অবস্থিত ছিল। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক রেকর্ড নিশ্চিত করে যে, এই দুই স্থানের মধ্যে কোনো যোগসূত্র নেই।
বিংশ শতাব্দীতে দ্বীপের ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায়ের সূচনা হয়। ১৯২৫ থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত ইরানের শাহ থাকা রেজা শাহ পাহলভি এই দ্বীপটিকে রাজনৈতিক বন্দীদের এক প্রত্যন্ত নির্বাসন কেন্দ্রে পরিণত করেন। ফলে এর বিশাল সম্ভাবনা তখন অব্যবহৃতই থেকে গিয়েছিল।
দ্বীপটির আধুনিক অবয়বের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ। এখানে মানব বসতির প্রমাণ পাওয়া যায় খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শেষভাগ থেকে, যা ইলামাইট, আকিমেনিড এবং সাসানিড যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত।
এখানকার অন্যতম পবিত্র স্থান হলো মীর মোহাম্মদ মাজার, যা হিজরি সপ্তম শতাব্দীতে (১৩ শ শতাব্দীর শেষভাগ) পাথর ও কাদা দিয়ে নির্মিত দুটি মোচাকৃতি গম্বুজ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কাছেই অবস্থিত মীর আরাম মাজার, যেখানে ১২ মিটারের একটি পাথরে ইসলামি লিপি খোদাই করা আছে এবং রয়েছে দুটি মশাল, যা আকিমেনিড আমলের বলে ধারণা করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই স্থানটি নূহ (আ.)-এর বংশধর মীর আরামের স্মৃতিবিজড়িত।
দ্বীপের অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে ১৭৪৭ সালের ডাচ দুর্গের ধ্বংসাবশেষ, ডাচ বাগান, খারগ ফলের বাগান, একটি পুরনো রেলপথ, ইসলামি কবরস্থান এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি আকিমেনিড শিলালিপি।
ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে খারগ দ্বীপকে চরম মূল্যও দিতে হয়েছে। আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় এটি ভয়াবহ ও নিরবচ্ছিন্ন বোমা হামলার শিকার হয়, যদিও পরবর্তীতে ইরান সরকার অত্যন্ত যত্নসহকারে এটি পুনর্নির্মাণ করে।

ইরানের খারগ দ্বীপে আমেরিকার সামরিক বাহিনী বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তেল অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, অত্যন্ত গোপনীয়তার চাদরে ঢাকা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কঠোর পাহারায় বেষ্টিত এই দ্বীপে সাধারণের প্রবেশাধিকার নেই। কেবল সরকারি নিরাপত্তা ছাড়পত্রধারীদেরই সেখানে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে।
বুশেহর বন্দর থেকে ৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ১৫ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ২৮ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত এই খারগ দ্বীপ নিঃসন্দেহে ইরানের অর্থনীতির মূল মেরুদণ্ড। দেশটির মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়, যা বছরে প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ব্যারেল। তাই এটিকে ইরানের লাইফলাইনও বলা হয়।
মাত্র ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৪-৫ কিলোমিটার প্রস্থের এই ক্ষুদ্র দ্বীপটির চারপাশের গভীর জলভাগ একে একটি অনন্য ভৌগোলিক সুবিধা প্রদান করেছে। এই গভীরতার কারণেই দানবীয় সুপার-ট্যাঙ্কারগুলো এখানে নিরাপদে ভিড়তে পারে এবং মূলত এশীয় বাজারের উদ্দেশ্যে অপরিশোধিত তেল বোঝাই করতে পারে, যার মধ্যে চীন শীর্ষ আমদানিকারক হিসেবে অবস্থান করছে।
বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে উৎপাদন ব্যাহত হলেও ইরান অত্যন্ত আগ্রাসীভাবে এই দ্বীপের অবকাঠামো সম্প্রসারণ করেছে।
সাম্রাজ্য বিস্তারের ক্ষেত্রে এই দ্বীপ ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক যুগে, পর্তুগিজরা উপসাগরের অন্যান্য দ্বীপের সাথে প্রথম খারগের নিয়ন্ত্রণ নেয়। আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে এখানে ডাচদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ডালপালা মেলতে শুরু করে। হাইড্রোকার্বন বা খনিজ তেলের খনি আবিষ্কৃত হওয়ার অনেক আগে থেকেই তাই এই দ্বীপের কৌশলগত সামুদ্রিক অবস্থান বিজেতাদের কাছে ছিল এক পরম আকাঙ্ক্ষিত রত্ন। কেউ কেউ ভুলবশত খারগ নামটি আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন শহর চ্যারাক্স স্পাসিনোর সাথে গুলিয়ে ফেলেন, যা বর্তমানে টাইগ্রিস ও কারখে নদীর সংযোগস্থলে বসরা শহরের কাছে অবস্থিত ছিল। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক রেকর্ড নিশ্চিত করে যে, এই দুই স্থানের মধ্যে কোনো যোগসূত্র নেই।
বিংশ শতাব্দীতে দ্বীপের ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায়ের সূচনা হয়। ১৯২৫ থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত ইরানের শাহ থাকা রেজা শাহ পাহলভি এই দ্বীপটিকে রাজনৈতিক বন্দীদের এক প্রত্যন্ত নির্বাসন কেন্দ্রে পরিণত করেন। ফলে এর বিশাল সম্ভাবনা তখন অব্যবহৃতই থেকে গিয়েছিল।
দ্বীপটির আধুনিক অবয়বের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ। এখানে মানব বসতির প্রমাণ পাওয়া যায় খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শেষভাগ থেকে, যা ইলামাইট, আকিমেনিড এবং সাসানিড যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত।
এখানকার অন্যতম পবিত্র স্থান হলো মীর মোহাম্মদ মাজার, যা হিজরি সপ্তম শতাব্দীতে (১৩ শ শতাব্দীর শেষভাগ) পাথর ও কাদা দিয়ে নির্মিত দুটি মোচাকৃতি গম্বুজ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কাছেই অবস্থিত মীর আরাম মাজার, যেখানে ১২ মিটারের একটি পাথরে ইসলামি লিপি খোদাই করা আছে এবং রয়েছে দুটি মশাল, যা আকিমেনিড আমলের বলে ধারণা করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই স্থানটি নূহ (আ.)-এর বংশধর মীর আরামের স্মৃতিবিজড়িত।
দ্বীপের অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে ১৭৪৭ সালের ডাচ দুর্গের ধ্বংসাবশেষ, ডাচ বাগান, খারগ ফলের বাগান, একটি পুরনো রেলপথ, ইসলামি কবরস্থান এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি আকিমেনিড শিলালিপি।
ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে খারগ দ্বীপকে চরম মূল্যও দিতে হয়েছে। আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় এটি ভয়াবহ ও নিরবচ্ছিন্ন বোমা হামলার শিকার হয়, যদিও পরবর্তীতে ইরান সরকার অত্যন্ত যত্নসহকারে এটি পুনর্নির্মাণ করে।