Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

ইউরোপ: এক মহাদেশের নীরব মৃত্যু

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭: ২৩
ইউরোপ: এক মহাদেশের নীরব মৃত্যু

ইউরোপকে আমরা সাধারণত দেখি সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, স্থির গণতন্ত্র আর উন্নত জীবনের প্রতীক হিসেবে। কিন্তু আজ সেই মহাদেশই এক গভীর সংকটে ডুবে আছে। যে সংকট অনেকের চোখের আড়ালে। কিন্তু তা ভবিষ্যতের জন্য ভয়ংকর। ২০৩৫ সালের আগে এই অঞ্চল কী রূপ নেবে, সে সম্পর্কে সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণ সতর্ক করে দিচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

২০০৮ সালে আমেরিকা ও ইউরোপের অর্থনীতি প্রায় সমান ছিল। আজ মার্কিন অর্থনীতি লাফিয়ে উঠে ৮৭ শতাংশ বেড়ে ২৭ ট্রিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে। আর ইউরোপ? মাত্র ১৩ শতাংশ অগ্রগতি। সংখ্যায় যা মাত্র ১৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এ ঘাটতি এখন জাপানের পুরো অর্থনীতির সমান। প্রশ্নটা তাই সহজ, ইউরোপ কি ধীরে ধীরে বিশ্বের বৃহত্তম ‘উন্মুক্ত জাদুঘর’-এ পরিণত হচ্ছে?

এই ক্ষয় একদিনে হয়নি। ধীরে, নীরবে, কিন্তু অবধারিতভাবে ছয়টি গভীর ক্ষত ইউরোপকে দুর্বল করে তুলেছে। এবং এ ক্ষতগুলোর বড় অংশই নিজের সৃষ্টি।

জার্মানির পতন মানেই ইউরোপের পতন

Advertisement
Advertisement
Advertisement

দশকের পর দশক ধরে জার্মানি ছিল ইউরোপের শিল্পভিত্তি। কিন্তু সেই ইঞ্জিন এখন নিঃশব্দে অচল হয়ে যাচ্ছে। সস্তা রুশ গ্যাস, চীনা বাজার আর মার্কিন নিরাপত্তা–এই তিন স্তম্ভের ওপর দাঁড়ানো জার্মান শিল্প এখন তিনদিকেই আঘাতপ্রাপ্ত।

নর্ড স্ট্রিম বিস্ফোরণের পর সস্তা রুশ জ্বালানি বন্ধ। ফলে জ্বালানি খরচ যে মাত্রায় বেড়েছে, তাতে বিএএসএফ-এর মতো জায়ান্টরা তাদের কারখানা চীনে পাঠিয়ে দিচ্ছে। জার্মানির পরিবেশবান্ধব প্রতিশ্রুতি আজ অদ্ভুত এক দ্বন্দ্বে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে আবার কয়লা পোড়ানোয় ফিরে যেতে হচ্ছে।

এক কথায়, ইউরোপের শিল্পভিত্তি ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে।

ট্রাম্প ও পুতিন–দুজনই পশ্চিম ইউরোপকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছেনtrump-putin

বয়স বাড়ছে, জন্ম কমছে: পরিণতি ভয়াবহ

ইউরোপের জনসংখ্যা কাঠামো ভেঙে পড়ছে। ইতালির জন্মহার এখন ১.১৮–মানে ভবিষ্যতে ইতালিকে টিকে থাকতে হলে এই জন্মহার খুবই কম। বলা যায় বিপজ্জনক। ২০৫০ সালে ইউরোপের অনেক দেশে দুই জনেরও কম কর্মশক্তিসম্পন্ন মানুষকে একজন অবসরপ্রাপ্তের ভার বহন করতে হবে।

ফলে পেনশন খাতে চাপ বাড়ছে। কর বেড়ে যাচ্ছে। আর তরুণেরা ভালো সুযোগের সন্ধানে ইউরোপ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এদিকে বৃদ্ধ ভোটারদের আধিপত্য রাজনৈতিকভাবে যে কোনো সংস্কারকে আটকে রাখছে। ইউরোপ যেন নিজের বৃদ্ধত্বে নিজেই আটকে গেছে।

উদ্ভাবনহীন এক মহাদেশ

একটা প্রশ্ন আমরা ক’জন করি–বিশ্বের কোন বড় প্রযুক্তি ইউরোপীয়? উত্তরটা বিব্রতকর। নেই বললেই চলে। একটা কথা ইতিমধ্যে বেশ চালু হয়ে গেছে। বলা হচ্ছে– (প্রযুক্তি খাতে) উদ্ভাবন করে আমেরিকা, নকল করে চীন আর এ নিয়ে আইন করে ইউরোপ।

তাই স্মার্টফোন, সার্চ ইঞ্জিন, সামাজিক মাধ্যম, ক্লাউড–সবই আমেরিকার দখলে। আর স্টার্টআপগুলো? ইউরোপে বড় হতে না পেরে আমেরিকায় গিয়ে তালিকাভুক্ত হয়। ইউরোপ এখন নিয়ম-কানুন তৈরির ভার নিয়ে নিজের উদ্ভাবনের পথ রুদ্ধ করে ফেলেছে। ইউরোপ জুড়ে প্রযুক্তিতে আজ এক বিশাল শূন্যতা বিরাজ করছে।

পুঁজি আছে, কিন্তু ইউরোপে বিনিয়োগ করে না

ইউরোপীয়দের হাতে টাকা আছে, কিন্তু তারা ঝুঁকি নিতে চান না। শেয়ারে বিনিয়োগ অনেক কম। এ কারণে উদ্যোক্তারা পুঁজির অভাবে বড় হতে পারেন না। এই সুযোগে আমেরিকা ইউরোপের সঞ্চয় টেনে নিচ্ছে। ARM, Spotify, BioNTech–সবই আমেরিকায় তালিকাভুক্ত। নরওয়ের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলও বড় বিনিয়োগ করে নিউইয়র্কে স্টক এক্সচেঞ্জে।

বাস্তবতা হলো, ইউরোপ নিজের টাকায় অন্যের উদ্ভাবনকে ভরসা দিচ্ছে।

সবুজ স্বপ্নের বিপরীতে তিক্ত বাস্তবতা

ইউরোপ চেয়েছিল সবুজ শক্তিতে নেতৃত্ব দিতে। কিন্তু সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়োর কারণে বিপর্যয় ডেকে এনেছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ বন্ধ–সব মিলিয়ে রুশ গ্যাসই ছিল একমাত্র ভরসা। ইউক্রেন যুদ্ধ সেই মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে।

ইউরোপের এই দেশগুলোর জ্বালানি খরচ আমেরিকার তুলনায় ১০ গুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ খরচ প্রতিযোগিতাকে অসম্ভব করে তুলছে। গ্রিড অস্থির, দাম অনিয়ন্ত্রিত। আর অন্যদিকে চীন দ্রুত গতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বাড়িয়ে চলেছে। ইউরোপ এখন পরিবেশ রক্ষার নৈতিক নেতৃত্ব তো হারিয়েছেই, অর্থনৈতিক ক্ষমতাও হারাচ্ছে।

ইউরোপের জন্য বোঝা কে, ট্রাম্প না জেলেনেস্কিusa-ukrine-2

মার্কিন ছাতার নিচে থাকা দিনের অবসান

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ প্রতিরক্ষা ব্যয় কমিয়ে জীবন চালাতে পেরেছে। কারণে তার চারপাশে মার্কিন সুরক্ষা বলয় ছিল। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে–সে যুগ শেষ।

এখন প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে হবে। কিন্তু ইতিমধ্যে কর, পেনশন ও জনসংখ্যা সংকটে বাজেট ভেঙে পড়ছে। ইউরোপ এক বিপজ্জনক দোটানায়: কল্যাণব্যবস্থা রক্ষা করবে, নাকি নিরাপত্তা?

ইউরোপ-কোথায় যাচ্ছে, আর বাঁচানো যাবে কি?

সব বিশ্লেষণের উপসংহার পরিষ্কার: ইউরোপের সংকট গভীর, কাঠামোগত এবং বহু ক্ষেত্রে আত্মঘাতী। মহাদেশটি আজ দুই ভবিষ্যতের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে–

  • পুনর্জাগরণ: সাহসী সংস্কার, নিয়ম শিথিল করা, পুঁজিবাজার এক করে ফেলা, পারমাণবিক শক্তিতে ফিরে আসা, জন্মহার বাড়ানো।
  • জাদুঘর ভবিষ্যৎ: উচ্চব্যয়ের ধারা অব্যাহত রাখা, নিম্ন–প্রবৃদ্ধির, অন্যের উদ্ভাবনের ওপর নির্ভরশীল অবসরপ্রিয় মহাদেশ।

এর কোনটা বেছে নেবে ইউরোপ? তার রাজনৈতিক কাঠামো, প্রবীণ ভোটারের সংখ্যা আর ভাঙা ঐক্য দেখে মনে হয়–পথটা সহজ হবে না।

শেষ প্রশ্ন–আরো গভীর সত্যের সামনে দাঁড় করায়

এই আলোচনার শেষে একটি প্রশ্ন অনিবার্যভাবে উঠে আসে। যদি আপনি আজ একজন তরুণ ইউরোপীয় হন তাহলে এখানে থাকবেন, নাকি সুযোগের সন্ধানে অন্য কোথাও উড়ে যাবেন? এই প্রশ্নটাই বলে দেয়–ইউরোপ এখন বিশ্বের সামনে এক বড় সতর্কবার্তা। সমৃদ্ধি স্বয়ংক্রিয় নয়। রাষ্ট্র ও সমাজে বিনিয়োগ, সংস্কার ও দূরদর্শিতা ছাড়া কোনো মহাদেশই চিরদিন শীর্ষে থাকে না।

ইউরোপ তার ভবিষ্যৎ নিয়ে যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, বিশ্বের বাকি অংশও সেখান থেকেই শিখবে আমাদের সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা– অর্থনৈতিক যাত্রায় স্থির দাঁড়িয়ে থাকা মানেই ধীরে ধীরে পেছনে পড়ে যাওয়া। আর এর পরিণতি মৃত্যু।

বিষয়: ইউরোপভূরাজনীতিবিশ্ব রাজনীতিবিনিয়োগ
সর্বশেষ
  • ১

    ই-সিগারেটসহ নতুন তামাকপণ্য ব্যবহারকারী সাড়ে ৫% তরুণ: গবেষণার ফল

  • ২

    খুলনা বিভাগে হাম-ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু

  • ৩

    নির্বাচনের আগে যুদ্ধ থামবে না, তেলের দামও কমবে না: ট্রাম্প

  • ৪

    মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ

  • ৫

    সাংবাদিকদের দমনের উদ্দেশ্যে কোনো আইন করা হচ্ছে না: তথ্যমন্ত্রী

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।