
যে মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলছে ইউরোপ
পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ তখনই হয়, যখন চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে ফেলে। ফলে দিনের বেলাই কিছু সময়ের জন্য অন্ধকার নেমে আসে।

তৃণমূলের রাজনীতি থেকে উঠে এসে কঠিন সময়ে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের কাছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল তার মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির মহাসচিবকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত করা হলো।
এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতির আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করেন। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের শুরুতেই তারেক রহমান এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ছাত্রজীবনে ছাত্রনেতা, কর্মজীবনে অর্থনীতির শিক্ষক এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক জীবনে পৌরসভার চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী- দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় নানা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে মির্জা ফখরুল এখন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।
৭৮ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এক দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় পথ অতিক্রম করেছেন, যা নানা রাজনৈতিক দায়িত্ব, সাংগঠনিক নেতৃত্ব এবং চড়াই-উৎরাইয়ে পূর্ণ ছিল। বিএনপিকে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দলের ভেতরে একজন সহনশীল ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক হিসেবে তিনি সর্বজন শ্রদ্ধেয়।

প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা
মির্জা ফখরুলের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়িতে। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একজন প্রখ্যাত আইনজীবী, যিনি পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এরশাদ সরকারের আমলেও মন্ত্রী ছিলেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে মির্জা ফখরুল ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে (বামপন্থী) যোগ দেন এবং সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়া, তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল শাখার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।
শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি
শিক্ষাজীবন শেষে মির্জা ফখরুল শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন এবং ঢাকা কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দিলেও ১৯৮৬ সালে পূর্ণকালীন রাজনীতি করার লক্ষ্যে চাকরি ত্যাগ করেন।
১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবনে নতুন মোড় নেয়। এর আগে ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তিনি তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করেছিলেন।

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন।
বিএনপিতে উত্থান
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ফখরুল বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তিনি বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর তিনি পর্যায়ক্রমে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং একপর্যায়ে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান।
২০১১ সাল থেকে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে ভারমুক্ত হন। এরপর থেকে তিনি একটানা এই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার আগে তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির কৃষক সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহ-সভাপতি এবং পরবর্তীতে সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
কঠিন সময়ে ভরসার মুখ
মির্জা ফখরুলের এই রাজনৈতিক পথচলা বিশেষ করে ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ মেয়াদে বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। ওই সময় বিএনপিকে চরম রাজনৈতিক নিপীড়ন ও সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৮ সাল থেকে প্রায় দুই বছর কারাবন্দী ছিলেন এবং পরবর্তীতে অসুস্থতার কারণে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।

তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দেশ ছেড়ে লন্ডনে যান এবং সেখান থেকেই দলকে পরিচালনা করছিলেন।
শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে দেশে মির্জা ফখরুলই বিএনপির মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠেন। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রভাগে ছিলেন তিনি এবং একাধিকবার কারাবরণও করেন। শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে তিনি দলকে ধরে রাখতে ও আন্দোলন এগিয়ে নিতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন।
সংসদীয় ও মন্ত্রী জীবনের ক্যারিয়ার
মির্জা ফখরুল ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। খালেদা জিয়ার তৎকালীন সরকারে তিনি প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বগুড়া-৬ আসনে জয়লাভ করেন। তবে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি, যা দেশের সংসদীয় ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা ছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্তমান সরকারে মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদে তার আসনটি প্রধানমন্ত্রীর আসনের পাশেই অবস্থিত।
ঐক্যের প্রতীক ও নেতৃত্ব
বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রায়শই দলের কঠিন সময়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে ফখরুলের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন। ছাত্র রাজনীতি, শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, স্থানীয় সরকার, সংসদীয় রাজনীতি, মন্ত্রিত্ব এবং দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দেওয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি আজ বঙ্গভবনের দ্বারপ্রান্তে।
পারিবারিক জীবন
মির্জা ফখরুল ব্যক্তিগত জীবনে রাহাত আরা বেগমের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাদের দুই মেয়ে রয়েছে- মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।
তার স্ত্রী একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। তাদের বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একজন পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত এবং ছোট মেয়ে ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ তখনই হয়, যখন চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে ফেলে। ফলে দিনের বেলাই কিছু সময়ের জন্য অন্ধকার নেমে আসে।

ভারতের সঙ্গে এবার সরাসরি রেলপথে যোগাযোগ স্থাপন করতে চাইছে রাশিয়া। দেশটির সংবাদ সংস্থা তাসকে এ কথা জানিয়েছেন রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুশনুলিন।

ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কে যাওয়া ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে করে তুরস্ক থেকে যুক্তরাজ্যে উড়াল দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প বিমানে ওঠার কিছুক্ষণ পর গোপনে খাবারের ট্রাকের মাধ্যমে সেটি থেকে বের হয়ে অন্য একটি বিমানে ওঠেন এবং সেই বিমানেই যুক্তরাজ্যে যান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক সংঘাত সমাধানের আশা দিনে দিনে ক্ষীণ হয়ে আসছে। এ কারণে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।