সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘বিইটিএ বাজেট ইভ্যালুয়েশন অ্যান্ড ট্রেন্ড অ্যানালাইসিস’ শীর্ষক দিনব্যাপী একটি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় বাজেট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগ আয়োজিত প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থী, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব ও আর্থিক নীতি নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. লতিফুল হক। তিনি অর্থনৈতিক গবেষণায় প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি বিশ্লেষণের বাস্তব গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের রাজস্বনীতি, কর ব্যবস্থা ও সরকারি ব্যয় নিয়ে একটি প্রাণবন্ত প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম মোফাজ্জল হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (করনীতি) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।
আলোচনায় জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্যানেলিস্টরা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বর্তমানে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশের মধ্যে রয়েছে, যা নির্ধারিত ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
তারা আরও বলেন, বরাদ্দের একটি বড় অংশ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে পরিচালন ব্যয়ে ব্যয় হয়। অতীতের বাজেটগুলোতেও শিক্ষক কল্যাণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের তুলনায় অবকাঠামোগত উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক নীতি ও সরকারি অর্থ ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান ও বিশ্লেষণী দক্ষতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
প্রথমে ‘বাজেট ২০২৬’ শীর্ষক পলিসি ডিবেট অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী দলগুলো সমসাময়িক অর্থনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে এবং সরকারি নীতির মূল্যায়ন করে। এছাড়া, কেস স্টাডি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলগুলো বাস্তব বাজেট-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান প্রস্তাব করে। আরও অনুষ্ঠিত হয় কেস স্টাডি প্রতিযোগিতা।