ads

বাংলা একাডেমিতে ‘জুলাই চব্বিশ ও সংস্কৃতির লড়াই’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
বাংলা একাডেমিতে ‘জুলাই চব্বিশ ও সংস্কৃতির লড়াই’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ কর্ণারে বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘জুলাই চব্বিশ ও সংস্কৃতির লড়াই’ সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাওয়াল খান।

দেশের সাম্প্রতিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে ‘জুলাই চব্বিশ ও সংস্কৃতির লড়াই’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ কর্ণারে বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সংস্কৃতির ভূমিকা, সামাজিক মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং মানবিক সমাজ নির্মাণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

বক্তারা মনে করেন, একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশ ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্গঠনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের বাস্তবতায় সংস্কৃতির প্রশ্নকে নতুনভাবে ভাবা এবং সমাজকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

Advertisement

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, লেখক ও গবেষক শাওয়াল খান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি জাতির আত্মপরিচয়, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রধান ভিত্তি হলো সংস্কৃতি। রাজনৈতিক পরিবর্তন যদি সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই পরিবর্তনের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তিনি বলেন, সমাজে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান প্রতিষ্ঠা করতে হলে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি শিল্পীদের সামাজিক দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন এবং বলেন, সত্য, ন্যায় ও মানবতার পক্ষে শিল্পীদের ভূমিকা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ।

চরচা সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, “ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সংস্কৃতি মানুষের আশা, প্রতিবাদ এবং পুনর্গঠনের ভাষা হয়ে উঠেছে। তাই বর্তমান সময়েও সংস্কৃতির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

গবেষক অধ্যাপক সামিনা লুৎফা নিত্রা বলেন, “একটি সুস্থ সমাজ গঠনে কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক ন্যায়ের সমন্বিত বিকাশ। সমাজে অসহিষ্ণুতা ও বিভাজনের পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।”

সভায় আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় উপসচিব সাইফুল ইসলাম, ডা. জহিরুল ইসলাম কচি এবং কবি নাহিদ হাসান নলেজ।

সম্পর্কিত