সামদানী হক নাজুম, ঢাকা

গত বছরের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন।
প্রায় দুই দশক পর কোনো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের দেশে ফেরা নিয়ে কথা বললেন তারেক রহমান নিজেই। ‘শিগগিরই’ ফেরার কথা জানালেও সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ উল্লেখ করেননি তিনি।
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কবে দেশে ফিরছেন? উত্তরে তিনি বলেন, “দ্রুতই মনে হয়। দ্রুতই ইনশাআল্লাহ।”
তার কাছে আবারও জানতে চাওয়া হয়েছিল, নির্বাচনের আগে তিনি দেশে থাকবেন কি না?
তারেক রহমান বলেন, “রাজনীতি যখন করি, আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে স্বাভাবিক (যে), নির্বাচনের সাথে রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক কর্মীর একটি ওতপ্রোত সম্পর্ক (থাকে)। কাজেই যেখানে একটি প্রত্যাশিত, জনগণের প্রত্যাশিত নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনের সময় কেমন করে দূরে থাকব?”
“আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, ইচ্ছা থাকবে, আগ্রহ থাকবে- সেই প্রত্যাশিত, যে প্রত্যাশিত নির্বাচন জনগণ চাইছে, সেই প্রত্যাশিত নির্বাচন যখন অনুষ্ঠিত হবে, জনগণের সাথে জনগণের মাঝেই থাকব ইনশাআল্লাহ,” যোগ করেন তারেক।
তারেক রহমান নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “জি, ইনশাআল্লাহ।”
তারেকের এই সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব সোমবার সকালে প্রকাশ করে বিবিসি বাংলা।
কিছু দিন ধরেই বিএনপির নেতারা বলছিলেন, তাদের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ‘শিগগিরই’ ফিরবেন। তবে সেই ‘শিগগিরই’ যে কবে, সেই প্রশ্নের জবাব পাওয়া পাওয়া যায়নি। তারেক নিজেও সেটি ভেঙে বলেননি।
বিবিসির আরেক প্রশ্নের জবাবে দেশে না ফেরার জন্য নিরাপত্তার শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারেক। বলেন, “বিভিন্ন রকম শঙ্কার কথা তো আমরা অনেক সময় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে শুনেছি। সরকারেরও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকেও তো অনেক সময় অনেক শঙ্কার কথা বিভিন্ন মাধ্যমে, বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে।”
তারেক রহমানের নির্বাচনী ভাবনা
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নিজের ভাবনা জানিয়েছেন তারেক রহমান। দেশে এসে নির্বাচনে অংশ নেবেন তিনি। পাশাপাশি দলের সভানেত্রী খালেদা জিয়া সুস্থ্য থাকলে তিনিও নির্বাচনে অংশ নেবেন।
বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না- এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তারেক জানান, এটি দল এবং জনগণের সিদ্ধান্ত।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমমনা দলগুলোকে নিয়ে জোটবদ্ধ নির্বাচন করবে বিএনপি। বিএনপির ৩১ দফা দাবির সঙ্গে সহমত পোষণকারী দলগুলোকেই কাছে টানার কথা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “যে দলগুলোকে আমরা পেয়েছি আমাদের সাথে রাজপথের আন্দোলনে, আমরা চাই সকলকে সাথে নিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠন করতে।”
মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে বিএনপি। এলাকায় যার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যাকে মানুষ চায়, যিনি তার নিজ এলাকার সমস্যাগুলো জানেন, তেমন ব্যক্তিকেই দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে জানান, তারেক রহমান। মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ কিংবা, ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনো প্রভাব থাকবে না বলে জানান তারেক।
একইসঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিএনপি এখন আগের চেয়েও পরিণত দল বলে দাবি করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং জনগণের জন্য রাজনীতির তাগিদ থেকেই কোনো অভিযোগ মিললেই তাৎক্ষণিক তদন্ত সাপেক্ষে কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় বিএনপি। আসন্ন নির্বাচনে জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে তারেক বলেন, “জনগণ যদি আমাদেরকে সেই সুযোগ দেন, তাহলে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আমরা যাতে একটি এমন অবস্থা তৈরি করতে পারি, যেখানে কিছুটা হলেও আমরা বহিঃবিশ্বে বিশ্বের অন্য দেশের সামনে কিছুটা হলেও যাতে সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারি।”
ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী কিছু দলকে নিয়ে বিএনপি-বিরোধী একটি জোট করার যে ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেটা নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। এটি বিএনপির জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে না বলেও মনে করেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থানে নিজের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। ব্যক্তি নয়, বরং গণতন্ত্রকামী জনগণই ‘মূল মাস্টারমাইন্ড’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিদেশে থাকলেও মাঠের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন বলে জানান তারেক রহমান।

গত বছরের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন।
প্রায় দুই দশক পর কোনো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের দেশে ফেরা নিয়ে কথা বললেন তারেক রহমান নিজেই। ‘শিগগিরই’ ফেরার কথা জানালেও সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ উল্লেখ করেননি তিনি।
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কবে দেশে ফিরছেন? উত্তরে তিনি বলেন, “দ্রুতই মনে হয়। দ্রুতই ইনশাআল্লাহ।”
তার কাছে আবারও জানতে চাওয়া হয়েছিল, নির্বাচনের আগে তিনি দেশে থাকবেন কি না?
তারেক রহমান বলেন, “রাজনীতি যখন করি, আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে স্বাভাবিক (যে), নির্বাচনের সাথে রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক কর্মীর একটি ওতপ্রোত সম্পর্ক (থাকে)। কাজেই যেখানে একটি প্রত্যাশিত, জনগণের প্রত্যাশিত নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনের সময় কেমন করে দূরে থাকব?”
“আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, ইচ্ছা থাকবে, আগ্রহ থাকবে- সেই প্রত্যাশিত, যে প্রত্যাশিত নির্বাচন জনগণ চাইছে, সেই প্রত্যাশিত নির্বাচন যখন অনুষ্ঠিত হবে, জনগণের সাথে জনগণের মাঝেই থাকব ইনশাআল্লাহ,” যোগ করেন তারেক।
তারেক রহমান নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “জি, ইনশাআল্লাহ।”
তারেকের এই সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব সোমবার সকালে প্রকাশ করে বিবিসি বাংলা।
কিছু দিন ধরেই বিএনপির নেতারা বলছিলেন, তাদের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ‘শিগগিরই’ ফিরবেন। তবে সেই ‘শিগগিরই’ যে কবে, সেই প্রশ্নের জবাব পাওয়া পাওয়া যায়নি। তারেক নিজেও সেটি ভেঙে বলেননি।
বিবিসির আরেক প্রশ্নের জবাবে দেশে না ফেরার জন্য নিরাপত্তার শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারেক। বলেন, “বিভিন্ন রকম শঙ্কার কথা তো আমরা অনেক সময় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে শুনেছি। সরকারেরও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকেও তো অনেক সময় অনেক শঙ্কার কথা বিভিন্ন মাধ্যমে, বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে।”
তারেক রহমানের নির্বাচনী ভাবনা
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নিজের ভাবনা জানিয়েছেন তারেক রহমান। দেশে এসে নির্বাচনে অংশ নেবেন তিনি। পাশাপাশি দলের সভানেত্রী খালেদা জিয়া সুস্থ্য থাকলে তিনিও নির্বাচনে অংশ নেবেন।
বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না- এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তারেক জানান, এটি দল এবং জনগণের সিদ্ধান্ত।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমমনা দলগুলোকে নিয়ে জোটবদ্ধ নির্বাচন করবে বিএনপি। বিএনপির ৩১ দফা দাবির সঙ্গে সহমত পোষণকারী দলগুলোকেই কাছে টানার কথা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “যে দলগুলোকে আমরা পেয়েছি আমাদের সাথে রাজপথের আন্দোলনে, আমরা চাই সকলকে সাথে নিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠন করতে।”
মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে বিএনপি। এলাকায় যার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যাকে মানুষ চায়, যিনি তার নিজ এলাকার সমস্যাগুলো জানেন, তেমন ব্যক্তিকেই দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে জানান, তারেক রহমান। মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ কিংবা, ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনো প্রভাব থাকবে না বলে জানান তারেক।
একইসঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিএনপি এখন আগের চেয়েও পরিণত দল বলে দাবি করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং জনগণের জন্য রাজনীতির তাগিদ থেকেই কোনো অভিযোগ মিললেই তাৎক্ষণিক তদন্ত সাপেক্ষে কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় বিএনপি। আসন্ন নির্বাচনে জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে তারেক বলেন, “জনগণ যদি আমাদেরকে সেই সুযোগ দেন, তাহলে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আমরা যাতে একটি এমন অবস্থা তৈরি করতে পারি, যেখানে কিছুটা হলেও আমরা বহিঃবিশ্বে বিশ্বের অন্য দেশের সামনে কিছুটা হলেও যাতে সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারি।”
ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী কিছু দলকে নিয়ে বিএনপি-বিরোধী একটি জোট করার যে ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেটা নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। এটি বিএনপির জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে না বলেও মনে করেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থানে নিজের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। ব্যক্তি নয়, বরং গণতন্ত্রকামী জনগণই ‘মূল মাস্টারমাইন্ড’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিদেশে থাকলেও মাঠের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন বলে জানান তারেক রহমান।