চরচা প্রতিবেদক

পাকিস্তানের কাছে কি হেরে গেল ভারত? চীনও তো বলেকয়ে গোল দিয়ে গেল ভারতকে। গত শুক্রবার দুবাই এয়ার শো’তে স্বপ্নের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান তেজস বিধ্বস্ত হয়ে ভারতের মান–সম্মান যেখানে ধুলোয় মিশে গেছে, সেখানে পাকিস্তান কিংবা চীন নিজেদের যুদ্ধবিমান দিয়ে করেছে বাজিমাত। এ তো ভারতের হেরে যাওয়াই।
তেজস যুদ্ধবিমান ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে বড় এক স্বপ্নের নামই। গত চার দশক ধরে এই যুদ্ধবিমান তৈরির প্রকল্প নিয়ে গর্বেরও শেষ নেই ভারতের। নিজেদের তৈরি মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান দিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষায় শক্তি অর্জনের পাশাপাশি এই যুদ্ধবিমান দেশে দেশে বিক্রি করে এই ব্যবসায়ে বড় এক খেলোয়াড় হওয়ারও লক্ষ্য ভারতের। দুবাইয়ে সেই লক্ষ্যচ্যুতি ঘটেছে দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনায়। একই এয়ার শো’তে পাকিস্তান ও চীনের যৌথ নির্মাণের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান জেএফ থান্ডার–১৭ ব্লক থ্রি নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শনের সঙ্গে সঙ্গে যেখানে ক্রেতাদের মনোযোগ কাড়তে সক্ষম, সেখানে তেজস বিধ্বস্তের ঘটনা ভারতকে নিজেদের লক্ষ্য ও স্বপ্ন থেকে ঠেলে দিয়েছে অনেকটাই দূরে। চীনের যুদ্ধবিমান জেসি–১০ সিও দুবাই এয়ারশোতে নিজেদের সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার পরিচয় রেখেছে। এক তেজসই প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির দৌড়ে পাকিস্তান ও চীনের তুলনায় ভারতকে পিছিয়ে দিয়েছে অনেকটাই।

দুবাই এয়ারশো’তে তেজস বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হয়েছেন এর বৈমানিক উইং কমান্ডার নমন সায়্যাল। যুদ্ধবিমানের পাইলট হিসেবে নমন সায়্যালের যে সুনাম ছিল, তাতে বিয়োগান্ত এই ঘটনায় তাঁর মৃত্যুও ভারতীয় বিমানবাহিনীর বড় ক্ষতি। যুদ্ধে যোগ্য বৈমানিক হারানোর একটা সান্ত্বনা থাকে। সব ছাপিয়ে সামনে চলে আসে সেই বৈমানিকের বীরত্বগাথায়। কিন্তু শান্তিকালীন পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে একটি প্রদর্শনীতে এমন একজন বৈমানিকের মৃত্যু মেনে নেওয়া বেশ কঠিনই।
সেই যুদ্ধ বিমান ভারত তৈরি করেছে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে। এক সময় ভারতীয় বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ছিল সোভিয়েত জমানার মিগ–২১ যুদ্ধবিমান। ষাট ও সত্তরের দশকে আকাশযুদ্ধে বিস্ময় ছড়ানো এই মিগ–২১ যুদ্ধবিমান পুরোনো হয়ে যাওয়ার পর সেটিকে প্রতিস্থাপন করতেই ‘তেজস’ প্রকল্প শুরু করে ভারতের হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স (এইচএএল)। কিন্ত এইচএএল তেজস তৈরির কাজ ১৯৮৪ সালে শুরু করলেও তারা পদে পদে ব্যর্থতা ও দীর্ঘসূত্রতার পরিচয় দিয়েছে। তেজসকে ভারত কিংবা এইচএএল নিজেদের প্রযুক্তি বললেও এই বিমানের মূল নকশা তৈরিতে সাহায্য নেওয়া হয়েছে ফ্রান্সের দাসল্ট (রাফাল ও মিরাজ যুদ্ধ বিমানের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান)। বহু চেষ্টা, চরিত্র শেষে ২০০১ সালে তেজস যুদ্ধ বিমানের নমুনা তৈরি করে সেটি আকাশে ওড়ানো হয়। এরপর আবার দীর্ঘ বিরতি। প্রকল্পের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে ভারতীয় বিমানবাহিনী নিজেদের লক্ষ্য অনুযায়ী পুরোনো মিগ–২১ যুদ্ধবিমান অবসরে পাঠাতে পারেনি। ২০১৬ সালে বহু প্রতীক্ষার পর তেজস ভারতীয় বিমানবাহিনীতে ব্যবহারের জন্য ‘অপারেশন্স ক্লিয়ারেন্স’ অর্জন করে। কিন্তু তার আগে যে বিলম্ব, সেটি নানা জটিলতা তৈরির কারণেই। এক সময় এইচএএল তেজসের জন্য নিজস্ব প্রযুক্তিতে ইঞ্জিন তৈরির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এরপরই দৃশ্যপটে আসে আমেরিকার জেনারেল ইলেকট্রিক কোম্পানি (জিই)। এ মুহূর্তে তেজসে ব্যবহৃত ইঞ্জিন জিইর তৈরি। তবে এ নিয়েও চলছে নানা জটিলতা। ভারত সরকার বিমানবাহিনীর জন্য ১৮০টি তেজস যুদ্ধবিমান সরবরাহের অর্ডার দিয়েছে এইচএএলকে। কিন্তু সেই সরবরাহ এখনো শুরু করতে পারেনি এইচএএল।

৪০ বছর আগ যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল, সেই প্রকল্প শতভাগ সফলতার মুখ দেখেনি এখনো। যে রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে দুবাই এয়ারশোতে তেজস নিয়ে গিয়েছিল ভারত, সেটি নিয়েও প্রশ্ন আছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীতে এ মুহূর্তে যুদ্ধবিমান সংকট চলছে। ৪২ স্কোয়াড্রনের বাহিনী এ মুহূর্তে ২৯ স্কোয়াড্রনে পরিণত হয়েছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী সম্প্রতি কিছু তেজস সংযুক্ত করে মিগ–২১ অবসরে পাঠিয়েছে। অবসরে পাঠানোর সময় হয়ে গেছে ফ্রান্সের তৈরি মিরেজ– ২০০০, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের যৌথ নির্মাণ জাগুয়ারের। মিগ–২৯ যুদ্ধবিমানের বহরও বহু বছরের পুরোনো। রাফালের পাশাপাশি নিজেদের তেজস দিয়েই ঘাটতি পূরণ করার কথা। কিন্তু সেটা হচ্ছে কোথায়। জিই অ্যারোস্পেসের সঙ্গে এইচএএলের তৈরি হওয়া নানা জটিলতায় তেজসের উৎপাদন সমস্যা চলছেই। তাই এর মধ্যেই ভারত সরকার এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশে তেজস রপ্তানি করে নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রমাণ দিতে চাচ্ছে। দুবাই এয়ারশো’তে সেই ইচ্ছার আপাতত অপমৃত্যু ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উৎপাদন জেএফ থান্ডার–১৭ আরও একটি জায়গায় তেজসকে হারিয়ে দিয়েছে। এবারের দুবাই এয়ারশোতে পাকিস্তান নিজেদের জেএফ থান্ডার–১৭কে ‘যুদ্ধে পরীক্ষিত’ মাল্টিরোল জেট হিসেবে প্রচার করেছে। এমনকি দুবাই শোয়ের র্যাম্পে জেএফ থান্ডার–১৭ ব্লক থ্রিতে সংযুক্ত ছিল পিএল–১৫ ক্ষেপনাস্ত্র। যেটি দিয়ে গত মে মাসে ভারতের রাফাল যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত করার দাবি করছে পাকিস্তান। যেখানে পাকিস্তান যুদ্ধে পরীক্ষিত যুদ্ধবিমানের প্রচারণা চালিয়েছে, সেখানে ভারতের তেজসের ব্যাপারে এ নিয়ে কথা বলার কোনো উপায়ই নেই। ২০১৬ সালে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে সংযুক্ত হওয়ার পর থেকে তেজসকে নিয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনী সব সময়ই সতর্কতার সঙ্গে এগিয়েছে। ২০১৯ সাল বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক ও গত মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতেও তেজসকে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় রাখা হয়নি। মে মাসের সংঘাতে ভারত পুরোনো মিগ–২৯ ব্যবহার করেছে, কিন্তু তেজস করেনি। আরও কৌতূকর ব্যাপার হচ্ছে, যে যুদ্ধ বিমান নিয়ে ভারতের এত গর্ব, সেটিকে তা ২৬ জানুয়ারির প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডেও ব্যবহার করেনি।

প্রথম উড়ানের পর তেজসের কেটে গেছে ২৪ বছর। এর মধ্যে দুইবার দুর্ঘটনায় পড়েছে এটি। গত শুক্রবারের দুবাইয়ের দুর্ঘটনাতেই প্রথমবারের মতো নিহত হয়েছেন বৈমানিক। এর আগেও ২০২৪ সালে তেজসের একটি যুদ্ধবিমান ভারতের মাটিতে দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছিল। তবে সেই ঘটনায় বৈমানিক শেষ মুহূর্তে বেরিয়ে এসে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান। ভারতীয় গণমাধ্যম দুবাইয়ের দুর্ঘটনাকে ‘২৪ বছরে মাত্র দ্বিতীয় দুর্ঘটনা’ বলে যতই প্রচারের চেষ্টা করুক, মূল বিষয়টি হলো যে যুদ্ধবিমানের উড়ানই খুব বেশিদিনের ঘটনা নয়, এর মধ্যেই দুটি দুর্ঘটনা সবার কাপাল কুঁচকে দিতে বাধ্য।

পাকিস্তানের কাছে কি হেরে গেল ভারত? চীনও তো বলেকয়ে গোল দিয়ে গেল ভারতকে। গত শুক্রবার দুবাই এয়ার শো’তে স্বপ্নের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান তেজস বিধ্বস্ত হয়ে ভারতের মান–সম্মান যেখানে ধুলোয় মিশে গেছে, সেখানে পাকিস্তান কিংবা চীন নিজেদের যুদ্ধবিমান দিয়ে করেছে বাজিমাত। এ তো ভারতের হেরে যাওয়াই।
তেজস যুদ্ধবিমান ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে বড় এক স্বপ্নের নামই। গত চার দশক ধরে এই যুদ্ধবিমান তৈরির প্রকল্প নিয়ে গর্বেরও শেষ নেই ভারতের। নিজেদের তৈরি মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান দিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষায় শক্তি অর্জনের পাশাপাশি এই যুদ্ধবিমান দেশে দেশে বিক্রি করে এই ব্যবসায়ে বড় এক খেলোয়াড় হওয়ারও লক্ষ্য ভারতের। দুবাইয়ে সেই লক্ষ্যচ্যুতি ঘটেছে দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনায়। একই এয়ার শো’তে পাকিস্তান ও চীনের যৌথ নির্মাণের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান জেএফ থান্ডার–১৭ ব্লক থ্রি নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শনের সঙ্গে সঙ্গে যেখানে ক্রেতাদের মনোযোগ কাড়তে সক্ষম, সেখানে তেজস বিধ্বস্তের ঘটনা ভারতকে নিজেদের লক্ষ্য ও স্বপ্ন থেকে ঠেলে দিয়েছে অনেকটাই দূরে। চীনের যুদ্ধবিমান জেসি–১০ সিও দুবাই এয়ারশোতে নিজেদের সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার পরিচয় রেখেছে। এক তেজসই প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির দৌড়ে পাকিস্তান ও চীনের তুলনায় ভারতকে পিছিয়ে দিয়েছে অনেকটাই।

দুবাই এয়ারশো’তে তেজস বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হয়েছেন এর বৈমানিক উইং কমান্ডার নমন সায়্যাল। যুদ্ধবিমানের পাইলট হিসেবে নমন সায়্যালের যে সুনাম ছিল, তাতে বিয়োগান্ত এই ঘটনায় তাঁর মৃত্যুও ভারতীয় বিমানবাহিনীর বড় ক্ষতি। যুদ্ধে যোগ্য বৈমানিক হারানোর একটা সান্ত্বনা থাকে। সব ছাপিয়ে সামনে চলে আসে সেই বৈমানিকের বীরত্বগাথায়। কিন্তু শান্তিকালীন পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে একটি প্রদর্শনীতে এমন একজন বৈমানিকের মৃত্যু মেনে নেওয়া বেশ কঠিনই।
সেই যুদ্ধ বিমান ভারত তৈরি করেছে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে। এক সময় ভারতীয় বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ছিল সোভিয়েত জমানার মিগ–২১ যুদ্ধবিমান। ষাট ও সত্তরের দশকে আকাশযুদ্ধে বিস্ময় ছড়ানো এই মিগ–২১ যুদ্ধবিমান পুরোনো হয়ে যাওয়ার পর সেটিকে প্রতিস্থাপন করতেই ‘তেজস’ প্রকল্প শুরু করে ভারতের হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স (এইচএএল)। কিন্ত এইচএএল তেজস তৈরির কাজ ১৯৮৪ সালে শুরু করলেও তারা পদে পদে ব্যর্থতা ও দীর্ঘসূত্রতার পরিচয় দিয়েছে। তেজসকে ভারত কিংবা এইচএএল নিজেদের প্রযুক্তি বললেও এই বিমানের মূল নকশা তৈরিতে সাহায্য নেওয়া হয়েছে ফ্রান্সের দাসল্ট (রাফাল ও মিরাজ যুদ্ধ বিমানের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান)। বহু চেষ্টা, চরিত্র শেষে ২০০১ সালে তেজস যুদ্ধ বিমানের নমুনা তৈরি করে সেটি আকাশে ওড়ানো হয়। এরপর আবার দীর্ঘ বিরতি। প্রকল্পের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে ভারতীয় বিমানবাহিনী নিজেদের লক্ষ্য অনুযায়ী পুরোনো মিগ–২১ যুদ্ধবিমান অবসরে পাঠাতে পারেনি। ২০১৬ সালে বহু প্রতীক্ষার পর তেজস ভারতীয় বিমানবাহিনীতে ব্যবহারের জন্য ‘অপারেশন্স ক্লিয়ারেন্স’ অর্জন করে। কিন্তু তার আগে যে বিলম্ব, সেটি নানা জটিলতা তৈরির কারণেই। এক সময় এইচএএল তেজসের জন্য নিজস্ব প্রযুক্তিতে ইঞ্জিন তৈরির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এরপরই দৃশ্যপটে আসে আমেরিকার জেনারেল ইলেকট্রিক কোম্পানি (জিই)। এ মুহূর্তে তেজসে ব্যবহৃত ইঞ্জিন জিইর তৈরি। তবে এ নিয়েও চলছে নানা জটিলতা। ভারত সরকার বিমানবাহিনীর জন্য ১৮০টি তেজস যুদ্ধবিমান সরবরাহের অর্ডার দিয়েছে এইচএএলকে। কিন্তু সেই সরবরাহ এখনো শুরু করতে পারেনি এইচএএল।

৪০ বছর আগ যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল, সেই প্রকল্প শতভাগ সফলতার মুখ দেখেনি এখনো। যে রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে দুবাই এয়ারশোতে তেজস নিয়ে গিয়েছিল ভারত, সেটি নিয়েও প্রশ্ন আছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীতে এ মুহূর্তে যুদ্ধবিমান সংকট চলছে। ৪২ স্কোয়াড্রনের বাহিনী এ মুহূর্তে ২৯ স্কোয়াড্রনে পরিণত হয়েছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী সম্প্রতি কিছু তেজস সংযুক্ত করে মিগ–২১ অবসরে পাঠিয়েছে। অবসরে পাঠানোর সময় হয়ে গেছে ফ্রান্সের তৈরি মিরেজ– ২০০০, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের যৌথ নির্মাণ জাগুয়ারের। মিগ–২৯ যুদ্ধবিমানের বহরও বহু বছরের পুরোনো। রাফালের পাশাপাশি নিজেদের তেজস দিয়েই ঘাটতি পূরণ করার কথা। কিন্তু সেটা হচ্ছে কোথায়। জিই অ্যারোস্পেসের সঙ্গে এইচএএলের তৈরি হওয়া নানা জটিলতায় তেজসের উৎপাদন সমস্যা চলছেই। তাই এর মধ্যেই ভারত সরকার এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশে তেজস রপ্তানি করে নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রমাণ দিতে চাচ্ছে। দুবাই এয়ারশো’তে সেই ইচ্ছার আপাতত অপমৃত্যু ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উৎপাদন জেএফ থান্ডার–১৭ আরও একটি জায়গায় তেজসকে হারিয়ে দিয়েছে। এবারের দুবাই এয়ারশোতে পাকিস্তান নিজেদের জেএফ থান্ডার–১৭কে ‘যুদ্ধে পরীক্ষিত’ মাল্টিরোল জেট হিসেবে প্রচার করেছে। এমনকি দুবাই শোয়ের র্যাম্পে জেএফ থান্ডার–১৭ ব্লক থ্রিতে সংযুক্ত ছিল পিএল–১৫ ক্ষেপনাস্ত্র। যেটি দিয়ে গত মে মাসে ভারতের রাফাল যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত করার দাবি করছে পাকিস্তান। যেখানে পাকিস্তান যুদ্ধে পরীক্ষিত যুদ্ধবিমানের প্রচারণা চালিয়েছে, সেখানে ভারতের তেজসের ব্যাপারে এ নিয়ে কথা বলার কোনো উপায়ই নেই। ২০১৬ সালে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে সংযুক্ত হওয়ার পর থেকে তেজসকে নিয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনী সব সময়ই সতর্কতার সঙ্গে এগিয়েছে। ২০১৯ সাল বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক ও গত মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতেও তেজসকে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় রাখা হয়নি। মে মাসের সংঘাতে ভারত পুরোনো মিগ–২৯ ব্যবহার করেছে, কিন্তু তেজস করেনি। আরও কৌতূকর ব্যাপার হচ্ছে, যে যুদ্ধ বিমান নিয়ে ভারতের এত গর্ব, সেটিকে তা ২৬ জানুয়ারির প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডেও ব্যবহার করেনি।

প্রথম উড়ানের পর তেজসের কেটে গেছে ২৪ বছর। এর মধ্যে দুইবার দুর্ঘটনায় পড়েছে এটি। গত শুক্রবারের দুবাইয়ের দুর্ঘটনাতেই প্রথমবারের মতো নিহত হয়েছেন বৈমানিক। এর আগেও ২০২৪ সালে তেজসের একটি যুদ্ধবিমান ভারতের মাটিতে দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছিল। তবে সেই ঘটনায় বৈমানিক শেষ মুহূর্তে বেরিয়ে এসে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান। ভারতীয় গণমাধ্যম দুবাইয়ের দুর্ঘটনাকে ‘২৪ বছরে মাত্র দ্বিতীয় দুর্ঘটনা’ বলে যতই প্রচারের চেষ্টা করুক, মূল বিষয়টি হলো যে যুদ্ধবিমানের উড়ানই খুব বেশিদিনের ঘটনা নয়, এর মধ্যেই দুটি দুর্ঘটনা সবার কাপাল কুঁচকে দিতে বাধ্য।