এএফপির বিশ্লেষণ
চরচা ডেস্ক

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বিভক্তি, সংস্কার সনদ নিয়ে দ্বন্দ্ব, সহিংসতা ও সেনা হস্তক্ষেপের আশঙ্কা—সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকে বাংলাদেশ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁর ১৫ বছরের শাসনামলের অবসান ঘটেছে।
নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ১৭ কোটি মানুষের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রবল হচ্ছে। কারণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সহিংসতা বাড়ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনের পাঁচ মাস আগেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় ও পরে গড়ে ওঠা জোটগুলো ভেঙে পড়তে শুরু করেছে।
শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে গুরুত্বপূর্ণ দুটি দল হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল হলো জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারা গঠন করেছে।
রাজনৈতিক এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশে সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর ইউনূসকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা ফিরিয়ে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ইউনূস কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন?

ক্ষুদ্রঋণ খাতের পথিকৃৎ ৮৫ বছর বয়সী ইউনূস ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচনের বিকল্প কিছু নেই। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, কিছু পক্ষ হয়তো নির্বাচন পেছানোর স্বার্থে কাজ করছে। রাজনীতির দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড থেকে ইউনূসের ব্যক্তিগত দূরত্ব এবং সেনা হস্তক্ষেপ নিয়ে জল্পনা অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। সম্প্রতি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে এর আগে বহুবার সেনা অভ্যুত্থান হয়েছে। দেশটির ইতিহাসে সেনাবাহিনী সবসময়ই শক্তিশালী ভূমিকা রেখে এসেছে।
দলগুলো কেন বিভক্ত?
বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হলো জুলাই আন্দোলনের জাতীয় সনদ। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই টার্মে সীমিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে দলগুলো একমত হলেও এগুলো কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। বিএনপির মতে, নির্বাচনের আগে বর্তমান সংবিধান অগ্রাহ্য করা সম্ভব নয়। নতুন সংসদ গঠিত হওয়ার পর এসব সংস্কার অনুমোদন করতে হবে। অন্যরা চাইছে নির্বাচনের আগেই তা কার্যকর হোক।
জামায়াতের শীর্ষ নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের মনে করেন, জনগণের মতামত জানতে গণভোট জরুরি। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, নির্বাচনের আগে আইনি ভিত্তি না হলে তা হবে আন্দোলনে নিহতদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি সতর্ক করে বলেন, দাবি পূরণ না হলে তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন না।
এদিকে বাংলাদেশে কার্যনির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়েছে। জামায়াত আরও আওয়ামী লীগের জোটে থাকা আরও ১৩টি দলকে নিষিদ্ধ করার দাবি করছে। কিন্তু বিএনপি এর বিরোধিতা করছে, তাদের মতে কোনো নিষেধাজ্ঞা কেবল আদালতের মাধ্যমে হওয়া উচিত।
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করতে হলে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, নির্বাহী আদেশে নয়।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের মুখে পড়েন, যা জামায়াত ও এনসিপিকে ক্ষুব্ধ করেছে।
সামনের চ্যালেঞ্জ কী?
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার দেশে আইনের শাসন ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হুসাইন সরকারকে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সাহসী বলেছেন, তবে একইসঙ্গে অসহায় ও বিভ্রান্ত হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, এ বছর ১২৪টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও ডাকাতির ঘটনাও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইউনূসকে সেনাবাহিনীর পূর্ণ সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে এবং সব দলের জন্য অবাধ প্রতিযোগিতার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মামুন আল মোস্তফা বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইউনূসের নিঃশর্ত ও ধারাবাহিক সামরিক সমর্থন প্রয়োজন হবে।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বিভক্তি, সংস্কার সনদ নিয়ে দ্বন্দ্ব, সহিংসতা ও সেনা হস্তক্ষেপের আশঙ্কা—সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকে বাংলাদেশ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁর ১৫ বছরের শাসনামলের অবসান ঘটেছে।
নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ১৭ কোটি মানুষের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রবল হচ্ছে। কারণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সহিংসতা বাড়ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনের পাঁচ মাস আগেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় ও পরে গড়ে ওঠা জোটগুলো ভেঙে পড়তে শুরু করেছে।
শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে গুরুত্বপূর্ণ দুটি দল হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল হলো জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারা গঠন করেছে।
রাজনৈতিক এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশে সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর ইউনূসকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা ফিরিয়ে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ইউনূস কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন?

ক্ষুদ্রঋণ খাতের পথিকৃৎ ৮৫ বছর বয়সী ইউনূস ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচনের বিকল্প কিছু নেই। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, কিছু পক্ষ হয়তো নির্বাচন পেছানোর স্বার্থে কাজ করছে। রাজনীতির দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড থেকে ইউনূসের ব্যক্তিগত দূরত্ব এবং সেনা হস্তক্ষেপ নিয়ে জল্পনা অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। সম্প্রতি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে এর আগে বহুবার সেনা অভ্যুত্থান হয়েছে। দেশটির ইতিহাসে সেনাবাহিনী সবসময়ই শক্তিশালী ভূমিকা রেখে এসেছে।
দলগুলো কেন বিভক্ত?
বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হলো জুলাই আন্দোলনের জাতীয় সনদ। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই টার্মে সীমিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে দলগুলো একমত হলেও এগুলো কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। বিএনপির মতে, নির্বাচনের আগে বর্তমান সংবিধান অগ্রাহ্য করা সম্ভব নয়। নতুন সংসদ গঠিত হওয়ার পর এসব সংস্কার অনুমোদন করতে হবে। অন্যরা চাইছে নির্বাচনের আগেই তা কার্যকর হোক।
জামায়াতের শীর্ষ নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের মনে করেন, জনগণের মতামত জানতে গণভোট জরুরি। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, নির্বাচনের আগে আইনি ভিত্তি না হলে তা হবে আন্দোলনে নিহতদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি সতর্ক করে বলেন, দাবি পূরণ না হলে তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন না।
এদিকে বাংলাদেশে কার্যনির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়েছে। জামায়াত আরও আওয়ামী লীগের জোটে থাকা আরও ১৩টি দলকে নিষিদ্ধ করার দাবি করছে। কিন্তু বিএনপি এর বিরোধিতা করছে, তাদের মতে কোনো নিষেধাজ্ঞা কেবল আদালতের মাধ্যমে হওয়া উচিত।
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করতে হলে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, নির্বাহী আদেশে নয়।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের মুখে পড়েন, যা জামায়াত ও এনসিপিকে ক্ষুব্ধ করেছে।
সামনের চ্যালেঞ্জ কী?
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার দেশে আইনের শাসন ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হুসাইন সরকারকে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সাহসী বলেছেন, তবে একইসঙ্গে অসহায় ও বিভ্রান্ত হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, এ বছর ১২৪টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও ডাকাতির ঘটনাও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইউনূসকে সেনাবাহিনীর পূর্ণ সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে এবং সব দলের জন্য অবাধ প্রতিযোগিতার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মামুন আল মোস্তফা বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইউনূসের নিঃশর্ত ও ধারাবাহিক সামরিক সমর্থন প্রয়োজন হবে।’