জেন-জি'দের বিক্ষোভে নেপালে আর্থিক ক্ষতি কত

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
জেন-জি'দের বিক্ষোভে নেপালে আর্থিক ক্ষতি কত
বিক্ষোভে উত্তাল নেপাল। ছবি: কাঠমান্ডু পোস্টের সৌজন্যে

শরৎকাল সাধারণত নেপালের অর্থনীতির সবচেয়ে প্রাণবন্ত সময়। এ সময় পর্যটকদের ঢল নামে। প্রবাসী নেপালিরা এ সময় বিভিন্ন উৎসবে অংশ নিতে দেশে ফেরেন। হোটেল, পরিবহন, এয়ারলাইনস থেকে শুরু করে খুচরা ব্যবসার দোকানও এ সময় জমজমাট চলে।

কিন্তু এ বছর থামেল, দরবার স্কয়ার, পোখারা, ভৈরহাওয়া ও চিতওয়ানের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলো অস্বাভাবিকভাবে নীরব। পোড়া হোটেল, আগুনে কালো হয়ে যাওয়া ভবন আর পুড়ে যাওয়া যানবাহন সর্বত্র দৃশ্যমান। জেন-জি'দের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ভীতি সৃষ্টি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদেরা অনুমান করছেন, সরকারি ও বেসরকারি অবকাঠামো এবং নথিপত্র ধ্বংসের কারণে নেপালের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন নেপালি রুপি। এই পরিমাণ অর্থ নেপালের দেড় বছরের বাজেটের সমান।

অর্থনীতিবিদ চন্দ্র মণি অধিকারী জানান, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশের নিচে নেমে আসবে। দেশের সবচেয়ে বড় করদাতা প্রতিষ্ঠান—চৌধুরি গ্রুপ, ভাট–ভাটেনি সুপারমার্কেট ও এনসেল প্রচণ্ড ক্ষতির মুখে পড়েছে।

হোটেল অ্যাসোসিয়েশন নেপালের হিসাব অনুযায়ী, পর্যটন খাতে ক্ষতি হয়েছে আড়াই হাজার কোটি নেপালি রুপি। গাড়ি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, তাদের ক্ষতি ১৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি ছাড়িয়েছে। নেপালের ভাট–ভাটেনি সুপারশপের ২৮টি আউটলেটের মধ্যে ২১টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পরিস্থিতি সত্ত্বেও আশাবাদী ব্যবসায়ীরা। হোটেল ব্যবসায়ী যোগেন্দ্র শাক্য জানিয়েছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নতুন প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ পর্যটকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, যদি আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়, পর্যটন খাত দীর্ঘমেয়াদে বিপর্যস্ত হতে পারে।

দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন সরকারকে বেসরকারি খাতের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিক্ষোভে ক্ষতিগ্রস্ত করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, তারা এই ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়াতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

নেপাল অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল এজেন্টস (এনএটিটিএ) আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আশ্বস্ত করেছে যে, নেপাল এখন স্থিতিশীলতার পথে এবং ভ্রমণের জন্য নিরাপদ। এরই মধ্যে দেশটিতে বিমানবন্দর ও পরিবহন সেবা স্বাভাবিক হয়েছে।

সম্পর্কিত