চরচা ডেস্ক

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার পর নেপালেও সহিংস আন্দোলনের কারণে সরকারের পতন হলো। সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ২০-এর বেশি নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করেন। বিক্ষোভকারীরা সংসদে ঢুকে হামলা চালিয়েছে এবং কয়েকজন রাজনীতিকের বাড়িতে আগুন দিয়েছে। দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়েছে, সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এ সংকট ভারতের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কাঠমান্ডুর দৃশ্যগুলো বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন এবং শ্রীলঙ্কার ২০২২ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার স্মরণ করিয়েছে। যদিও বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ভারতের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। তবে ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কারণে নেপালের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক বিশেষ। নেপাল ভারতের পাঁচটি রাজ্য—উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, সিকিম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ১৭৫০ কিলোমিটারের দীর্ঘ উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালে সরকার পতনের পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘নেপালের সহিংসতা হৃদয়বিদারক, বহু তরুণের প্রাণহানি দুঃখজনক। তিনি তখন নেপালে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।’
পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য মোদি গত মঙ্গলবার তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের সাথে একটি জরুরি নিরাপত্তা বৈঠকের ডাক দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন তিনি।
২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। ওই পরিস্থিতিতে যেমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল ঠিক একই ধরনের উদ্বেগ এবারও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের। বিশ্লেষকেরা বলছেন, নেপালের ঘটনা দেখে ভারত অবাক হয়ে গেছে। দিল্লি সফরের মাত্র এক সপ্তাহ আগে অলি পদত্যাগ করেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, নেপালের কৌশলগত অবস্থানের কারণে যেকোনো অস্থিতিশীলতা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ। নেপালের
বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) অশোক মেহতা বিবিসিকে বলেন, ‘চীনের সামরিক পশ্চিম থিয়েটার কমান্ড নেপালের ঠিক ওপারে অবস্থিত। ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমিতে যাওয়ার পথ সরাসরি নেপালের মধ্য দিয়ে যায়।’

এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে ভারতে বসবাসকারী বৃহৎ নেপালি প্রবাসীদের ওপরও। আনুমানিক ৩৫ লাখ নেপালি ভারতে কাজ করেন বা বসবাস করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।
নেপাল মূলত একটি হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং সীমান্তের ওপারে বসবাসকারী সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে তাদের বাসিন্দাদের ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। ভিসা বা পাসপোর্ট ছাড়াই এ দুই দেশের মানুষ দু দেশের মধ্যে যাতায়াত করে। ১৯৫০ সালের চুক্তির অধীনে নেপালিরা ভারতে কোনো বাধা ছাড়াই কাজ করতে পারে। এই অঞ্চলের ভুটানের সাথে এ দেশের এমন যোগাযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও নেপালের ৩২ হাজার বিখ্যাত গুরখা সৈন্য কয়েক দশক ধরে চলা বিশেষ চুক্তির অধীনে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করে।
দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) অধ্যাপক সঙ্গীতা থাপলিয়াল বলেন, সীমান্ত খোলা থাকায় দু দেশের বাসিন্দারা অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছে। উভয় পক্ষের পরিবারগুলো প্রতিদিন একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে থাকে।
নেপালে হিমালয়-পার্শ্ববর্তী মুক্তিনাথ মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু পবিত্র স্থানও রয়েছে। ভারত থেকে হাজার হাজার হিন্দু তীর্থযাত্রী প্রতি বছর মন্দিরটি পরিদর্শন করেন। কাঠমান্ডু ভারতীয় রপ্তানি, বিশেষ করে তেল এবং খাদ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ভারত-নেপালের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আনুমানিক ৮ দশমিক ৫ বিলিয়নের।
সবশেষ বুধবার কাঠমান্ডুর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত কূটনৈতিকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। কারণ দেশটিতে শাসনকারী তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নেপালি বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে।
তাঁরা বলছেন, ভারত ওই দলগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে। এ দলগুলো হলো– অলির নেতৃত্বে নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিএন - ইউএমএল), শের বাহাদুর দেউবার নেপালি কংগ্রেস এবং পুষ্প কমল দহলের নেতৃত্বে নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী কেন্দ্র), যিনি প্রচণ্ড নামে পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, হিমালয়ীয় দেশ হওয়ায় ভারত ও চীনের কৌশলগত প্রতিযোগিতা রয়েছে। নতুন সরকার কেমন হবে এবং বিক্ষোভকারীদের গ্রহণযোগ্য হবে কি না তা অজানা। ভারতকে সতর্কভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে যেন নেপাল আবার বাংলাদেশের মতো রাজনৈতিক অস্থিরতার কবলে না পড়ে।
অলির স্থলাভিষিক্ত প্রশাসন কী ধরনের হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। অধ্যাপক সঙ্গীতা থাপলিয়াল বলছেন, নতুন সরকার বা নেতৃত্বের রূপ অনিশ্চিত হওয়ায় ভারত সতর্ক থাকবে। তারা নেপালে আরেকটি বাংলাদেশ ধরনের পরিস্থিতি চায় না।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দিল্লির সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার করণে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সাথে ঢাকা–দিল্লির সম্পর্কে এখন টানাপোড়েন চলছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, নেপাল এবং ভারতের সম্পর্কেও এখন অনেকটা টানাপোড়েন। অতিরিক্ত সতর্কতার সাথে এ সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে।
২০১৯ সালে ভারত একটি মানচিত্র প্রকাশ করে। এতে চীন সীমান্তের কাছে অবস্থিত পশ্চিমাঞ্চলীয় কাঠমান্ডুর দাবিকৃত এলাকাগুলোকে এ দেশের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় নেপাল ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে নেপাল তাদের নিজস্ব মানচিত্র প্রকাশ করার পর কূটনৈতিক বিবাদ আরও তীব্র হয়।
সম্প্রতি ভারত এবং চীন নেপালের দাবি করা সীমান্তবর্তী এলাকার একটিতে বাণিজ্য পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে। গত মাসে চীন সফরের সময় অলি চীনা নেতৃত্বের কাছে এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতকে যেকোনো মতপার্থক্য দূর করতে নতুন প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি ক্ষুব্ধ তরুণ নেপালিদের সাথেও যোগাযোগ করতে হবে।
অধ্যাপক থাপলিয়াল বলেন, ‘নেপালের ভেতরে তরুণদের জন্য সুযোগ কম। ভারতের উচিত নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য ফেলোশিপ বৃদ্ধি এবং আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদানের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ান আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) অনেকটা নিষ্ক্রিয় থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অস্থিতিশীলতা মোকাবিলা ভারতের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।
নেপালের সংকট ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়েছে অনেকটাই। পাকিস্তানের সাথেও দেশটির সম্পর্ক এখন তলানিতে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে চলছে টানাপোড়েন। এর বাইরে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধও একটি বড় সংকট।
অধ্যাপক সঙ্গীতা থাপলিয়াল বলেন, ‘ভারত উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে প্রতিবেশী দেশ থেকে চোখ সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু একটি নিরাপদ এবং স্থিতিশীল প্রতিবেশী ছাড়া তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।’

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার পর নেপালেও সহিংস আন্দোলনের কারণে সরকারের পতন হলো। সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ২০-এর বেশি নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করেন। বিক্ষোভকারীরা সংসদে ঢুকে হামলা চালিয়েছে এবং কয়েকজন রাজনীতিকের বাড়িতে আগুন দিয়েছে। দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়েছে, সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এ সংকট ভারতের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কাঠমান্ডুর দৃশ্যগুলো বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন এবং শ্রীলঙ্কার ২০২২ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার স্মরণ করিয়েছে। যদিও বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ভারতের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। তবে ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কারণে নেপালের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক বিশেষ। নেপাল ভারতের পাঁচটি রাজ্য—উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, সিকিম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ১৭৫০ কিলোমিটারের দীর্ঘ উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালে সরকার পতনের পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘নেপালের সহিংসতা হৃদয়বিদারক, বহু তরুণের প্রাণহানি দুঃখজনক। তিনি তখন নেপালে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।’
পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য মোদি গত মঙ্গলবার তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের সাথে একটি জরুরি নিরাপত্তা বৈঠকের ডাক দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন তিনি।
২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। ওই পরিস্থিতিতে যেমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল ঠিক একই ধরনের উদ্বেগ এবারও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের। বিশ্লেষকেরা বলছেন, নেপালের ঘটনা দেখে ভারত অবাক হয়ে গেছে। দিল্লি সফরের মাত্র এক সপ্তাহ আগে অলি পদত্যাগ করেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, নেপালের কৌশলগত অবস্থানের কারণে যেকোনো অস্থিতিশীলতা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ। নেপালের
বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) অশোক মেহতা বিবিসিকে বলেন, ‘চীনের সামরিক পশ্চিম থিয়েটার কমান্ড নেপালের ঠিক ওপারে অবস্থিত। ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমিতে যাওয়ার পথ সরাসরি নেপালের মধ্য দিয়ে যায়।’

এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে ভারতে বসবাসকারী বৃহৎ নেপালি প্রবাসীদের ওপরও। আনুমানিক ৩৫ লাখ নেপালি ভারতে কাজ করেন বা বসবাস করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।
নেপাল মূলত একটি হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং সীমান্তের ওপারে বসবাসকারী সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে তাদের বাসিন্দাদের ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। ভিসা বা পাসপোর্ট ছাড়াই এ দুই দেশের মানুষ দু দেশের মধ্যে যাতায়াত করে। ১৯৫০ সালের চুক্তির অধীনে নেপালিরা ভারতে কোনো বাধা ছাড়াই কাজ করতে পারে। এই অঞ্চলের ভুটানের সাথে এ দেশের এমন যোগাযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও নেপালের ৩২ হাজার বিখ্যাত গুরখা সৈন্য কয়েক দশক ধরে চলা বিশেষ চুক্তির অধীনে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করে।
দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) অধ্যাপক সঙ্গীতা থাপলিয়াল বলেন, সীমান্ত খোলা থাকায় দু দেশের বাসিন্দারা অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছে। উভয় পক্ষের পরিবারগুলো প্রতিদিন একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে থাকে।
নেপালে হিমালয়-পার্শ্ববর্তী মুক্তিনাথ মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু পবিত্র স্থানও রয়েছে। ভারত থেকে হাজার হাজার হিন্দু তীর্থযাত্রী প্রতি বছর মন্দিরটি পরিদর্শন করেন। কাঠমান্ডু ভারতীয় রপ্তানি, বিশেষ করে তেল এবং খাদ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ভারত-নেপালের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আনুমানিক ৮ দশমিক ৫ বিলিয়নের।
সবশেষ বুধবার কাঠমান্ডুর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত কূটনৈতিকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। কারণ দেশটিতে শাসনকারী তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নেপালি বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে।
তাঁরা বলছেন, ভারত ওই দলগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে। এ দলগুলো হলো– অলির নেতৃত্বে নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিএন - ইউএমএল), শের বাহাদুর দেউবার নেপালি কংগ্রেস এবং পুষ্প কমল দহলের নেতৃত্বে নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী কেন্দ্র), যিনি প্রচণ্ড নামে পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, হিমালয়ীয় দেশ হওয়ায় ভারত ও চীনের কৌশলগত প্রতিযোগিতা রয়েছে। নতুন সরকার কেমন হবে এবং বিক্ষোভকারীদের গ্রহণযোগ্য হবে কি না তা অজানা। ভারতকে সতর্কভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে যেন নেপাল আবার বাংলাদেশের মতো রাজনৈতিক অস্থিরতার কবলে না পড়ে।
অলির স্থলাভিষিক্ত প্রশাসন কী ধরনের হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। অধ্যাপক সঙ্গীতা থাপলিয়াল বলছেন, নতুন সরকার বা নেতৃত্বের রূপ অনিশ্চিত হওয়ায় ভারত সতর্ক থাকবে। তারা নেপালে আরেকটি বাংলাদেশ ধরনের পরিস্থিতি চায় না।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দিল্লির সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার করণে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সাথে ঢাকা–দিল্লির সম্পর্কে এখন টানাপোড়েন চলছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, নেপাল এবং ভারতের সম্পর্কেও এখন অনেকটা টানাপোড়েন। অতিরিক্ত সতর্কতার সাথে এ সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে।
২০১৯ সালে ভারত একটি মানচিত্র প্রকাশ করে। এতে চীন সীমান্তের কাছে অবস্থিত পশ্চিমাঞ্চলীয় কাঠমান্ডুর দাবিকৃত এলাকাগুলোকে এ দেশের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় নেপাল ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে নেপাল তাদের নিজস্ব মানচিত্র প্রকাশ করার পর কূটনৈতিক বিবাদ আরও তীব্র হয়।
সম্প্রতি ভারত এবং চীন নেপালের দাবি করা সীমান্তবর্তী এলাকার একটিতে বাণিজ্য পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে। গত মাসে চীন সফরের সময় অলি চীনা নেতৃত্বের কাছে এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতকে যেকোনো মতপার্থক্য দূর করতে নতুন প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি ক্ষুব্ধ তরুণ নেপালিদের সাথেও যোগাযোগ করতে হবে।
অধ্যাপক থাপলিয়াল বলেন, ‘নেপালের ভেতরে তরুণদের জন্য সুযোগ কম। ভারতের উচিত নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য ফেলোশিপ বৃদ্ধি এবং আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদানের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ান আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) অনেকটা নিষ্ক্রিয় থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অস্থিতিশীলতা মোকাবিলা ভারতের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।
নেপালের সংকট ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়েছে অনেকটাই। পাকিস্তানের সাথেও দেশটির সম্পর্ক এখন তলানিতে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে চলছে টানাপোড়েন। এর বাইরে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধও একটি বড় সংকট।
অধ্যাপক সঙ্গীতা থাপলিয়াল বলেন, ‘ভারত উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে প্রতিবেশী দেশ থেকে চোখ সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু একটি নিরাপদ এবং স্থিতিশীল প্রতিবেশী ছাড়া তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।’