
সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫ হাজার ৫৬৯ টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক কোটির বেশি। পাশাপাশি শিক্ষক রয়েছেন পৌনে চার লাখের বেশি।

জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, আইন–শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

বেতন কাঠামোর ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের আশ্বাস পাওয়ার পর সব ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।

‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামে চারটি শিক্ষক সংগঠনের মোর্চার ব্যানারে শিক্ষকরা ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালাচ্ছেন।

শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
আসক জানায়, গত ২৮ আগস্ট প্রকাশিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫–এর পর থেকেই কিছু ধর্মভিত্তিক দল সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগের বিরোধিতা করে ধর্ম শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানায়। তারা বিভিন্ন সভা–সমাবেশ ও বিক্ষোভের মাধ্যমে সরকারকে সিদ্ধান্ত বদলের জন্য চাপ প্রয়োগ করে।

ধর্মভিত্তিক কয়েকটি সংগঠনের সমালোচনার মুখে গত রোববার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন সৃষ্টি করা সংগীত শিক্ষক পদ বাতিল করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে বাতিল করা হয় নতুন সৃষ্টি করা শরীরচর্চা শিক্ষকের পদটিও।

ধর্ম উপদেষ্টা জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা বর্তমান সরকারের সময়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বরং কওমি মাদ্রাসার দাওরা হাদিস সনদপ্রাপ্তদের ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে।

আসকের বিবৃতি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের দাবি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।