
৯ জানুয়ারি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে তেহরানে একটি মসজিদ পুড়িয়ে দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। তবে ভিডিওটি রেকর্ড করার তারিখটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে গ্যাস ক্যানিস্টার ছুঁড়ছেন। তেহরানের বাজারের অলিগলি এখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আর টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। গত নয় দিন ধরে চলা এই আন্দোলনের মূল কারণ, দ্রুত পতনে থাকা ইরানি মুদ্রার মান এবং আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি।

ইরানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ও লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন সরাসরি খামেনি বিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। রাজধানী তেহরান থেকে শুরু হয়ে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাম ও প্রান্তিক শহরগুলোতে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পরমাণু আলোচনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের তর্ক তীব্র হয়েছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তেহরান। এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়ছে।

ইসলামী বিপ্লব চত্বরে একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে একটি প্রাচীন পারস্য রাজা রোমান সম্রাটের সম্মান গ্রহণ করছেন। ইরানের এই প্রাচীন ইতিহাস উদযাপন আগে শাহের শাসনকালকে মনে করাত এবং বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ইরানে এটি নিষিদ্ধ ছিল। একজন চিকিৎসক বলেন, “পুরনো গল্প আর কাজ করছে না।”

কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র পানি সংকটে ধুঁকছে ইরানের রাজধানী তেহরান। খরা দীর্ঘায়িত হলে শহরটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা। পানি সংকট মোকাবিলায় নাগরিকরা সালেহ মাজারে বিশেষ নামাজে বৃষ্টি প্রার্থনা করেন, আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন সমস্যার মূল বহু বছরের ব্যবস্থাপনাজনিত ত্রুটিতে।