
গ্লাসডোরের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ জেন জি কর্মী বড় বেতন বা ক্ষমতার হাতছানি না থাকলে ব্যবস্থাপক বা লিডারশিপের পথে হাঁটতে নারাজ। এই প্রবণতাকেই বলা হচ্ছে ‘কর্মজীবনের মিনিমালিজম’ (Career Minimalism)।

নেপালি ভোটারদের কাছে এখনও দুর্নীতিই প্রধান সমস্যা। এই উদ্বেগের গভীরে রয়েছে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠাও। নেপালের জনগণের গড় বয়স ২৬ বছর হলেও, দেশটির অর্থনীতি তরুণদেরকে তেমন কিছুই দিতে পারছে না।

অথচ আগের প্রজন্মের কাছে নেতৃত্বের চেয়ারে বসা মানেই ছিল সাফল্যের সবচেয়ে বড় পরিচয়। তাহলে এই প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি এত আলাদা হলো কীভাবে?

নিজের যত্ন বা সেল্ফ কেয়ারের দুনিয়া দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রতি মাসে বা সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আসছে নতুন নতুন ট্রেন্ড। নিজের যত্নের বেশিরভাগ ধারাগুলো আসছে জেন জি’দের হাত ধরে।

নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা অলি সাম্প্রতিক বিক্ষোভ-উত্তাল পরিস্থিতির পর পার্লামেন্ট পুনর্বহালের দাবি তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা ঘিরে শুরু হওয়া জেন জি আন্দোলন ও তরুণদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ নেপালের রাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আমরা এখন এটা দেখতে শুধু অপেক্ষা করতে পারি– জেন-জি আন্দোলন কীভাবে পৃথিবীকে গড়ে তোলে। মানবজাতির জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মোকাবিলা।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তরুণরা। পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায় যখন তরুণ আন্দোলনকারীরা এবং সিপিএন সমর্থকেরা এক সঙ্গে সমাবেশ করে। পরবর্তীতে উভয় দলের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। ফলে কর্তৃপক্ষ কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয়।

মিচোয়াকানে মেয়র কার্লোস ম্যানজোর প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের পর মেক্সিকোজুড়ে জেনারেশন-জি তরুণদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী মেক্সিকো সিটিসহ বিভিন্ন স্থানে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর মিচোয়াকানের উরুয়াপান শহরের মেয়র কার্লোস ম্যানজোকে ডে অব দ্য ডেড অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এ ঘটনায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকারই কার্লোসকে হত্যা করেছে।

বড় আন্দোলনের মাধ্যমে যদি বা কিছু পরিবর্তন আসে তা আবার দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কিছুক্ষেত্রে এসব আন্দোলনের ফলাফল হয় উল্টো। আন্দোলনকারী পক্ষগুলোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যেমন- সিরিয়া, মায়ানমার ও ইয়েমেন।

কয়েক বছর হলো কর্মজগতে প্রবেশ করেছে জেন জি প্রজন্ম। চাকরিতে ঢুকে এক নতুন অধ্যায় লিখছে তারা। বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রচলিত কর্মসংস্কৃতির বিশাল পরিবর্তন আসছে জেন জি’দের হাত ধরে।

প্রতিটি জেন জি আন্দোলনের তাৎক্ষণিক কারণ ভিন্ন। নেপালে কারণ ছিল হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা। মাদাগাস্কারে কারণ ছিল পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যর্থতা।

ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের রাজধানী লেহে তরুণদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে স্বাধীন সংগঠন ‘লেহ অ্যাপেক্স বডি’।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুর্নীতি ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে জেন-জি'রা।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুর্নীতি ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে জেন-জি'রা।