
আওয়ামী লীগের পতনের পর ক্ষমতায় বসা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারে বিভিন্ন কমিশন গঠন করে। এরমধ্যে সংবিধান সংস্কার কমিশনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। পরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনেও এ নিয়ে আলোচনা হয়।

আাগামী নির্বাচন নিয়ে কমিশনের এই সদস্য বলেন, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ফ্রেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদের ভোট হবে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

আসিফ নজরুল বলেন, “২৭০ দিন আলাপ–আলোচনা করার পর রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যের মধ্যে যে অনৈক্যের সুর দেখা যাচ্ছে, তা হতাশাব্যঞ্জক। এই তীব্র বিরোধের মধ্যে সমঝোতা দলিল পাশ করা সরকারের সামনে একটা চ্যালেঞ্জ এনে দিয়েছে।”

“জাতীয় সংসদে অনুমোদনের পর যে কোন বিল রাষ্ট্রপতির অনুমোদনপ্রাপ্তির পরই কেবল আইনে পরিণত হয়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই এবং তা গণতান্ত্রিক রীতি ও সংসদীয় সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই প্রতিবেদন সাধারণের সহজবোধ্য সংস্করণে প্রস্তুত করতে হবে। বই আকারে প্রকাশ করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়ে বুঝতে পারে এবং অন্যদেরও বুঝাতে পারে।”

স্বয়ংক্রিয়ভাবেই যদি সংবিধান সংস্কার হয়ে যায়, তাহলে পরিষদ গঠনের কাজ কী? বলে দিলেই ভালো হতো এটাই মানতে হবে। একটা অধ্যাদেশ করে দিলেই হয়। গণভোটের দরকারই বা কী আর সেটা সংসদে রেক্টিফাই করা প্রয়োজনই বা কী।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ ব্যর্থ হলে ২৭০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে গৃহীত হওয়ার সুপারিশকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন সালাহউদ্দিন।

কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে যেসব বিষয় সাংবিধানিক নয়, সেগুলো অধ্যাদেশ বা অফিস আদেশের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তাই সরকার যেন এই বিষয়গুলো তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করে, সে অনুরোধ করা হয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদ গত ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত হয়। ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশ নেওয়া ২৫টি রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা এই দলিলে সই করেছেন।

এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, “জুলাই সনদ যেন একটা আইনি ভিত্তি পরিপূর্ণভাবে লাভ করতে পারে, সে কারণে আমরা দীর্ঘসময় ধরে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত না জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জায়গা নিশ্চিত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

গত ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর হয়।

নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, 'জামায়াতে ইসলামী পিআর পদ্ধতি নিয়ে যে তথাকথিত আন্দোলন শুরু করেছিল, আসলে সেটি ছিল এক সুচিন্তিত রাজনৈতিক প্রতারণা।

“কমিশনের লক্ষ্য হলো ১০ তারিখের মধ্যে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করা।”