Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> ভাবনা
পর্ব ৩

ইরান কী কখনো চীন হতে পারবে?

করিম সাদজাদপোর

করিম সাদজাদপোর

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫, ১৩: ১৫
ইরান কী কখনো চীন হতে পারবে?

সোভিয়েত ইউনিয়ন দেরিতে নিজেকে পরিবর্তনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু চীন ১৯৭৬ সালে মাও সে তুংয়ের মৃত্যুর পর বিপ্লবী পথ বদলে টিকে থাকতে সক্ষম হয়। তারা বিপ্লবী আদর্শের বদলে অগ্রাধিকার দেয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে।

Advertisement

‘চায়না মডেল’ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের শাসকগোষ্ঠী, বিশেষ করে যারা বর্তমান ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চান, তাদের অনেকের কাছে আকর্ষণীয়। কিন্তু তারা একই সঙ্গে বুঝতে পারেন অর্থনীতির দুরবস্থা ও জনরোষের সমাধান করতে কিছু সংস্কার প্রয়োজন।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের শাসনব্যবস্থা নিপীড়নমূলক ও কর্তৃত্ববাদীই থাকবে, তবে তা বিপ্লবী নীতিমালা ও সামাজিক রক্ষণশীলতা কিছুটা শিথিল করে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন, বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধি, এবং ধর্মতন্ত্র থেকে প্রযুক্তিনির্ভর শাসনে ধীরে ধীরে রূপান্তরের পথে যেতে পারে।

এক্ষেত্রে হয়ত ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের ক্ষমতা ও আর্থিক প্রভাব বজায় রাখবে, তবে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির মতোই তারা বিপ্লবী লড়াই থেকে সরে এসে জাতীয়তাবাদী করপোরেট স্বার্থে মনোযোগ দিতে পারে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ইরানের জন্য চায়না মডেল নেওয়া দুই কারণে কঠিন। এক, এটি শুরু করা; দুই, এটি চালিয়ে রাখা। চীনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৯৭০-এর দশকে মাও-এর সময়। কিন্তু দেশকে বদলে দিয়ে ব্যবহারিক পথে নিয়ে যাওয়া এবং বড় পরিবর্তন আনার কাজ করেছেন তার উত্তরসূরি দেং শিয়াও পিং।

ইরানেও এমন কিছু নেতা আছেন, যেমন সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এবং বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতার নাতি হাসান খোমেনি। কিন্তু কেউই খামেনি এবং তার মতো কট্টরপন্থীদের বাধা পার হতে পারেননি। তারা মনে করেন যে, বিপ্লবী নীতিতে কোনো ছাড়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, দেশকে দুর্বল করবে, শক্তিশালী করবে না।

চীনের ক্ষেত্রে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সহজ হয়েছিল কারণ তাদের উভয়েরই একই সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে খারাপ সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। শত্রুর মোকাবিলা করছিল। এর বিপরীতে, যদিও ইরান ও আমেরিকা অভিন্ন শত্রু যেমন ইরাকি নেতা সাদ্দাম হুসেইন বা আল-কায়েদা, তালেবান ও ইসলামিক স্টেটের মতো উগ্র সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের মুখোমুখি হলেও খামেনির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে শত্রুতা সবসময়ই প্রধান বিষয়।

চীনের মডেল অনুসরণ করতে হলে হয়তো খামেনির শেষ সময়ে তাকে তার সারা জীবনের আমেরিকাবিরোধী মনোভাব ত্যাগ করতে হবে, যা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব। অথবা ইরানকে এমন একজন নেতা খুঁজে আনতে হবে যিনি কম কট্টর। এটাও সহজ নয়।

চীনের মডেল অনুসরণ করতে হলে হয়তো খামেনির শেষ সময়ে তাকে তার সারা জীবনের আমেরিকাবিরোধী মনোভাব ত্যাগ করতে হবে, যা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
চীনের মডেল অনুসরণ করতে হলে হয়তো খামেনির শেষ সময়ে তাকে তার সারা জীবনের আমেরিকাবিরোধী মনোভাব ত্যাগ করতে হবে, যা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

তবে চীনের মডেল অনুসরণ করলেও ইরান অনেক সমস্যার সম্মুখীন হবে। কারণ চীন তার বিশাল জনবল ব্যবহার করে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলেছিল। চীনের বিশাল শ্রমশক্তি কোটি কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে উত্তোলন করতে সাহায্য করেছে, যা সরকারের ওপর বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জনগণের আস্থা বাড়িয়েছে। কিন্তু ইরানের অর্থনীতি রাশিয়ার মতো পুরোটাই রাষ্ট্রনির্ভর।

মানুষের জীবনে বাস্তবিক পরিবর্তন না এনে শুধু আদর্শগত পরিবর্তন দিয়ে সরকারের আয়ুষ্কাল বাড়ানো যায় না।

যদি ইরান কট্টর পথ ছেড়ে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে এবং ইসরায়েলের অস্তিত্ব মেনে নেয় তা ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তবে চীনের অভিজ্ঞতা থেকেই দেখা যায় যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সখ্য নতুন চ্যালেঞ্জও আনতে পারে। আজকের সমস্যা শেষ করে নতুন সমস্যাও শুরু হতে পারে। পাশাপাশি, এমন তীব্র পরিবর্তনের সময় ইরান নিজের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

**ফরেন অ্যাফেয়ার্স ডটকমে প্রকাশিত লেখাটি অনুবাদ করে প্রকাশিত**

করিম সাদজাদপোর কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর সিনিয়র ফেলো। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সাবেক ‘চিফ ইরান অ্যানালিস্ট’ সাদজাদপোরের কাজের প্রধান ক্ষেত্র ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্য সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি।

অনুবাদ করেছেন: রিতু চক্রবর্ত্তী

বিষয়: রাশিয়াআন্তর্জাতিকআমেরিকাইরানবিশ্লেষকের চোখেচীন
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    র‍্যাগিং-মারধরের অভিযোগে খুবির ৩০ শিক্ষার্থীকে সাজা

  • ২

    এসআরবির অভিযানে শ্রমিকের মৃত্যু: গুলি করা ‘দুর্বৃত্ত’ আসলে কারা?

  • ৩

    খুলনায় তাঁতীদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

  • ৪

    ব্র্যাক ব্যাংকের ‘ওমনিচ্যানেল’ সেবা চালু

  • ৫

    মহড়ায় অংশ নিতে চট্টগ্রামে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস ওয়ারিয়র

সম্পর্কিত
  • ভোটার তালিকা: ভারতের বিরোধীরা কি দ্বিচারিতায় ভুগছে?

    ভোটার তালিকা: ভারতের বিরোধীরা কি দ্বিচারিতায় ভুগছে?

    মুসলিম সম্প্রদায়ের বাইরেও অন্যান্য ভোটাররা যে এখন ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম টিকিয়ে রাখার জন্য লড়াই করছেন, তা সুরক্ষাকবচের দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে। কিন্তু এই সুরক্ষাকবচ আসলে কাদের রক্ষা করার জন্য?

  • রাষ্ট্র যখন আত্মসংযম দেখাচ্ছে, তখন কেন সংখ্যালঘু নির্যাতন বাড়ছে?

    রাষ্ট্র যখন আত্মসংযম দেখাচ্ছে, তখন কেন সংখ্যালঘু নির্যাতন বাড়ছে?

    মানবাধিকার সংগঠন এমএসএফের (মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন) অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির একটি পরস্পরবিরোধী চিত্র তুলে ধরেছে। একদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনে আহতের ঘটনা শূন্যে নেমেছে, কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে।

  • প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    চলতি বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে চার হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে, দুই হাজারের মতো। সরকার প্রবাসী কার্ড দেবে, ভালো কথা। কিন্তু বিদেশে গিয়ে যারা লাশ বা পঙ্গু হয়ে ফিরে আসেন, তাদের তো

  • স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে। আর তা হলো, সমস্যা স্লোগানের উচ্চারণে, নাকি অপব্যবহারে? কারণ, রাজনীতির মাঠ-ময়দানে উচ্চারিত একটি স্লোগান কখনো কেবল কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়: ইতিহাস, আবেগ, পরিচয়, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং কখনো কখনো মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি। দৃষ্