সোহরাব হাসান

নির্বাচনের ঠিক এক মাস পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসছে ১২ মার্চ। এই সংসদের বৈশিষ্ট্য হলো সবচেয়ে কম দলের প্রতিনিধিত্ব। দলীয় অবস্থান হলো বিএনপি ২০৯, জামায়াতে ইসলামী ৬৭, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬, গণঅধিকার পরিষদ ১, গণসংহতি আন্দোলন ১, ইসলামী আন্দোলন ১, খেলাফতে আন্দোলন ২ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ১।
এর বাইরে সাতজন স্বতন্ত্র সদস্য আছেন, যারা বিএনপির সাবেক নেতা-নেত্রী, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন।
জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশটি যে ঘটনাবহুল ও উত্তপ্ত হবে, তার আলামত ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। রীতি অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের ভাষণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার দাবি জানিয়েছে।
তাদের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী এতটা কঠোর অবস্থান না নিলেও তারাও মনে করেন, যত দ্রুত সম্ভব ‘স্বৈরাচারের দোসর’ রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা উচিত।
কিন্তু বিএনপি ধীরে সুস্থে এগোতে চায়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, “রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো বিএনপিতে তিন চারজন নেতা আছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আলোচনা কেন? সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি।”
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিএনপির সদ্ভাবের ইঙ্গিত দেয়। রাষ্ট্রপতি সম্প্রতি একটি পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস তিনি প্রায় বন্দীজীবন কাটিয়েছেন। তাকে রাষ্ট্রীয় কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হতো না।
বিএনপি সরকার আসার পর এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় এবং তিনি বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন। এসব অনুষ্ঠানে তিনি যেসব বক্তব্য রেখেছেন, তা বিএনপির দলীয় নীতি ও আদর্শের সমার্থক। তিনি প্রতিটি বক্তৃতায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি তার বক্তৃতা শেষ করেছেন ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে।
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বিএনপি এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেবে না। তারা বরং রাষ্ট্রপতিকে তাদের নীতি ও কর্মসূচির একজন সমর্থক হিসেবে তুলে ধরবেন। প্রশ্ন হলো, বিএনপির এই অবস্থান জামায়াত ও এনসিপি মানবে কি না? অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ছাত্রনেতৃত্বের একাংশ স্বৈরাচারের দোসর রাষ্ট্রপতিকে সরানোর উদ্যোগ নিলেও সফল হয়নি। সংবিধানিক শূন্যতা তৈরি করা যাবে না বলে বিএনপির এর বিরোধিতা করেছে।
এর পাশাপাশি জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক আদেশ নিয়েও সরকারি ও বিরোধী দল মুখোমুখি অবস্থানে। বিরোধী দলের সদস্যরা জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নিলেও বিএনপির সদস্যরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বিরোধী দল এটাকে জুলাই সনদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা বলে অভিহিত করেছে।
বিএনপি বলেছে, তারা জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চান। কিন্তু সংবিধান লঙ্ঘন হয়–এমন কিছু করবেন না। বিএনপির নেতাদের দাবি, যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিতই হয়নি, সেই পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নেবেন কীভাবে?
অন্যদিকে জুলাই সনদ ও সংবিধান আদেশের বিষয়টি রাজনৈতিক পরিসরের আলোচনার মধ্যে সীমিত থাকেনি। এটি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। দুজন আইনজীবীর করা রিটের জবাবে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সরকারের প্রতি রুলনিশি জারি করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো–জুলাই সনদের মতো রাজনৈতিক সমঝোতার ফয়সালা রাজনৈতিকভাবে হবে, না আইনি প্রক্রিয়ায়?
অতীতে বেশ কয়েকটি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলের সদস্যদের গরহাজির কিংবা সাময়িক ওয়াক আউট করতে দেখা গেছে। সে সময়ও সাংবিধানিক জটিলতা সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। এবারে বিরোধী দল কী করবে? তাদের হাবভাবে মনে হচ্ছে, তারা রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করবে। কিন্তু সেটা কি সমায়িক না পুরো অধিবেশনে–সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে ১২ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী কোনো নাম দেয়নি। তারা বলেছে, আগে জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক আদেশের বিষয়টির ফয়সালা হোক। এর অর্থ তারা দরকষাকষি করে কিছুটা সুবিধা আদায় করতে চাইছেন।
জামায়াতে ইসলামী সরকারের দলের প্রস্তাব মেনে ডেপুটি স্পিকার পদে কারও নাম না দিলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দলীয় আমিরের উপদেষ্টার নাম প্রস্তাব করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বা অন্য যেকোনো পদে কে আসবেন, সেটি পুরোপুরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ, সরকারের সিদ্ধান্ত। সংসদের বিরোধী দলের নেতা বা অন্য কেউ ডিকটেট করতে পারেন না। তারপরও জামায়াতে ইসলামীর আমির এই ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপির সঙ্গে জাতীয় সরকারে যাওয়ার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তাহলে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসন আনা কিংবা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য বিএনপিকে চাপ দেওয়া কি নিছক কথার কথা?
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিরোধী দলের প্রতিনিধি থাকার প্রস্তাবটি অভিনব ও প্রায় নজিরবিহীন ঘটনা। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে বিশেষ দূত নিয়োগ করা হয়েছিল। সেটাও ছিল এখতিয়ার বহির্ভুত। একই ব্যক্তি একই সঙ্গে বিরোধী দলে থাকবেন, আবার সরকারের নীতি পরিকল্পনার অংশ হবেন, এটা হতে পারে না। তাহলে জামায়াতও মুখে সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করলেও তলে তলে আপসের রাস্তাও খোলা রেখেছে।
লেখক: সম্পাদক, চরচা

নির্বাচনের ঠিক এক মাস পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসছে ১২ মার্চ। এই সংসদের বৈশিষ্ট্য হলো সবচেয়ে কম দলের প্রতিনিধিত্ব। দলীয় অবস্থান হলো বিএনপি ২০৯, জামায়াতে ইসলামী ৬৭, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬, গণঅধিকার পরিষদ ১, গণসংহতি আন্দোলন ১, ইসলামী আন্দোলন ১, খেলাফতে আন্দোলন ২ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ১।
এর বাইরে সাতজন স্বতন্ত্র সদস্য আছেন, যারা বিএনপির সাবেক নেতা-নেত্রী, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন।
জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশটি যে ঘটনাবহুল ও উত্তপ্ত হবে, তার আলামত ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। রীতি অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের ভাষণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার দাবি জানিয়েছে।
তাদের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী এতটা কঠোর অবস্থান না নিলেও তারাও মনে করেন, যত দ্রুত সম্ভব ‘স্বৈরাচারের দোসর’ রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা উচিত।
কিন্তু বিএনপি ধীরে সুস্থে এগোতে চায়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, “রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো বিএনপিতে তিন চারজন নেতা আছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আলোচনা কেন? সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি।”
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিএনপির সদ্ভাবের ইঙ্গিত দেয়। রাষ্ট্রপতি সম্প্রতি একটি পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস তিনি প্রায় বন্দীজীবন কাটিয়েছেন। তাকে রাষ্ট্রীয় কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হতো না।
বিএনপি সরকার আসার পর এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় এবং তিনি বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন। এসব অনুষ্ঠানে তিনি যেসব বক্তব্য রেখেছেন, তা বিএনপির দলীয় নীতি ও আদর্শের সমার্থক। তিনি প্রতিটি বক্তৃতায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি তার বক্তৃতা শেষ করেছেন ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে।
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বিএনপি এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেবে না। তারা বরং রাষ্ট্রপতিকে তাদের নীতি ও কর্মসূচির একজন সমর্থক হিসেবে তুলে ধরবেন। প্রশ্ন হলো, বিএনপির এই অবস্থান জামায়াত ও এনসিপি মানবে কি না? অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ছাত্রনেতৃত্বের একাংশ স্বৈরাচারের দোসর রাষ্ট্রপতিকে সরানোর উদ্যোগ নিলেও সফল হয়নি। সংবিধানিক শূন্যতা তৈরি করা যাবে না বলে বিএনপির এর বিরোধিতা করেছে।
এর পাশাপাশি জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক আদেশ নিয়েও সরকারি ও বিরোধী দল মুখোমুখি অবস্থানে। বিরোধী দলের সদস্যরা জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নিলেও বিএনপির সদস্যরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বিরোধী দল এটাকে জুলাই সনদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা বলে অভিহিত করেছে।
বিএনপি বলেছে, তারা জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চান। কিন্তু সংবিধান লঙ্ঘন হয়–এমন কিছু করবেন না। বিএনপির নেতাদের দাবি, যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিতই হয়নি, সেই পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নেবেন কীভাবে?
অন্যদিকে জুলাই সনদ ও সংবিধান আদেশের বিষয়টি রাজনৈতিক পরিসরের আলোচনার মধ্যে সীমিত থাকেনি। এটি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। দুজন আইনজীবীর করা রিটের জবাবে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সরকারের প্রতি রুলনিশি জারি করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো–জুলাই সনদের মতো রাজনৈতিক সমঝোতার ফয়সালা রাজনৈতিকভাবে হবে, না আইনি প্রক্রিয়ায়?
অতীতে বেশ কয়েকটি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলের সদস্যদের গরহাজির কিংবা সাময়িক ওয়াক আউট করতে দেখা গেছে। সে সময়ও সাংবিধানিক জটিলতা সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। এবারে বিরোধী দল কী করবে? তাদের হাবভাবে মনে হচ্ছে, তারা রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করবে। কিন্তু সেটা কি সমায়িক না পুরো অধিবেশনে–সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে ১২ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী কোনো নাম দেয়নি। তারা বলেছে, আগে জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক আদেশের বিষয়টির ফয়সালা হোক। এর অর্থ তারা দরকষাকষি করে কিছুটা সুবিধা আদায় করতে চাইছেন।
জামায়াতে ইসলামী সরকারের দলের প্রস্তাব মেনে ডেপুটি স্পিকার পদে কারও নাম না দিলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দলীয় আমিরের উপদেষ্টার নাম প্রস্তাব করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বা অন্য যেকোনো পদে কে আসবেন, সেটি পুরোপুরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ, সরকারের সিদ্ধান্ত। সংসদের বিরোধী দলের নেতা বা অন্য কেউ ডিকটেট করতে পারেন না। তারপরও জামায়াতে ইসলামীর আমির এই ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপির সঙ্গে জাতীয় সরকারে যাওয়ার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তাহলে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসন আনা কিংবা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য বিএনপিকে চাপ দেওয়া কি নিছক কথার কথা?
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিরোধী দলের প্রতিনিধি থাকার প্রস্তাবটি অভিনব ও প্রায় নজিরবিহীন ঘটনা। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে বিশেষ দূত নিয়োগ করা হয়েছিল। সেটাও ছিল এখতিয়ার বহির্ভুত। একই ব্যক্তি একই সঙ্গে বিরোধী দলে থাকবেন, আবার সরকারের নীতি পরিকল্পনার অংশ হবেন, এটা হতে পারে না। তাহলে জামায়াতও মুখে সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করলেও তলে তলে আপসের রাস্তাও খোলা রেখেছে।
লেখক: সম্পাদক, চরচা

নির্বাচনের ঠিক এক মাস পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসছে ১২ মার্চ। এই সংসদের বৈশিষ্ট্য হলো সবচেয়ে কম দলের প্রতিনিধিত্ব। দলীয় অবস্থান হলো বিএনপি ২০৯, জামায়াতে ইসলামী ৬৭, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬, গণঅধিকার পরিষদ ১, গণসংহতি আন্দোলন ১, ইসলামী আন্দোলন ১, খেলাফতে আন্দোলন ২ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ১।