Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

সংসদের প্রথম অধিবেশন–উত্তাপ না আপস?

সোহরাব হাসান

সোহরাব হাসান

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ০৮: ৪৭
সংসদের প্রথম অধিবেশন–উত্তাপ না আপস?

নির্বাচনের ঠিক এক মাস পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসছে ১২ মার্চ। এই সংসদের বৈশিষ্ট্য হলো সবচেয়ে কম দলের প্রতিনিধিত্ব। দলীয় অবস্থান হলো বিএনপি ২০৯, জামায়াতে ইসলামী ৬৭, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬, গণঅধিকার পরিষদ ১, গণসংহতি আন্দোলন ১, ইসলামী আন্দোলন ১, খেলাফতে আন্দোলন ২ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ১।

Advertisement

এর বাইরে সাতজন স্বতন্ত্র সদস্য আছেন, যারা বিএনপির সাবেক নেতা-নেত্রী, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন।

জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশটি যে ঘটনাবহুল ও উত্তপ্ত হবে, তার আলামত ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। রীতি অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের ভাষণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার দাবি জানিয়েছে।

তাদের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী এতটা কঠোর অবস্থান না নিলেও তারাও মনে করেন, যত দ্রুত সম্ভব ‘স্বৈরাচারের দোসর’ রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা উচিত।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

কিন্তু বিএনপি ধীরে সুস্থে এগোতে চায়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, “রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো বিএনপিতে তিন চারজন নেতা আছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আলোচনা কেন? সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি।”

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিএনপির সদ্ভাবের ইঙ্গিত দেয়। রাষ্ট্রপতি সম্প্রতি একটি পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস তিনি প্রায় বন্দীজীবন কাটিয়েছেন। তাকে রাষ্ট্রীয় কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হতো না।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক-যৌনসত্তা ও নারীর অধিকার প্রশ্নpic

বিএনপি সরকার আসার পর এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় এবং তিনি বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন। এসব অনুষ্ঠানে তিনি যেসব বক্তব্য রেখেছেন, তা বিএনপির দলীয় নীতি ও আদর্শের সমার্থক। তিনি প্রতিটি বক্তৃতায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি তার বক্তৃতা শেষ করেছেন ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে।

এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বিএনপি এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেবে না। তারা বরং রাষ্ট্রপতিকে তাদের নীতি ও কর্মসূচির একজন সমর্থক হিসেবে তুলে ধরবেন। প্রশ্ন হলো, বিএনপির এই অবস্থান জামায়াত ও এনসিপি মানবে কি না? অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ছাত্রনেতৃত্বের একাংশ স্বৈরাচারের দোসর রাষ্ট্রপতিকে সরানোর উদ্যোগ নিলেও সফল হয়নি। সংবিধানিক শূন্যতা তৈরি করা যাবে না বলে বিএনপির এর বিরোধিতা করেছে।

এর পাশাপাশি জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক আদেশ নিয়েও সরকারি ও বিরোধী দল মুখোমুখি অবস্থানে। বিরোধী দলের সদস্যরা জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নিলেও বিএনপির সদস্যরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বিরোধী দল এটাকে জুলাই সনদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা বলে অভিহিত করেছে।

বিএনপি বলেছে, তারা জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চান। কিন্তু সংবিধান লঙ্ঘন হয়–এমন কিছু করবেন না। বিএনপির নেতাদের দাবি, যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিতই হয়নি, সেই পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নেবেন কীভাবে?

অন্যদিকে জুলাই সনদ ও সংবিধান আদেশের বিষয়টি রাজনৈতিক পরিসরের আলোচনার মধ্যে সীমিত থাকেনি। এটি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। দুজন আইনজীবীর করা রিটের জবাবে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সরকারের প্রতি রুলনিশি জারি করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো–জুলাই সনদের মতো রাজনৈতিক সমঝোতার ফয়সালা রাজনৈতিকভাবে হবে, না আইনি প্রক্রিয়ায়?

নির্বাচন বিতর্ক ও ভূরাজনৈতিক খেলার ফাঁদে বাংলাদেশvote center 02

অতীতে বেশ কয়েকটি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলের সদস্যদের গরহাজির কিংবা সাময়িক ওয়াক আউট করতে দেখা গেছে। সে সময়ও সাংবিধানিক জটিলতা সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। এবারে বিরোধী দল কী করবে? তাদের হাবভাবে মনে হচ্ছে, তারা রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করবে। কিন্তু সেটা কি সমায়িক না পুরো অধিবেশনে–সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে ১২ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী কোনো নাম দেয়নি। তারা বলেছে, আগে জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক আদেশের বিষয়টির ফয়সালা হোক। এর অর্থ তারা দরকষাকষি করে কিছুটা সুবিধা আদায় করতে চাইছেন।

জামায়াতে ইসলামী সরকারের দলের প্রস্তাব মেনে ডেপুটি স্পিকার পদে কারও নাম না দিলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দলীয় আমিরের উপদেষ্টার নাম প্রস্তাব করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বা অন্য যেকোনো পদে কে আসবেন, সেটি পুরোপুরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ, সরকারের সিদ্ধান্ত। সংসদের বিরোধী দলের নেতা বা অন্য কেউ ডিকটেট করতে পারেন না। তারপরও জামায়াতে ইসলামীর আমির এই ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপির সঙ্গে জাতীয় সরকারে যাওয়ার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তাহলে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসন আনা কিংবা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য বিএনপিকে চাপ দেওয়া কি নিছক কথার কথা?

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিরোধী দলের প্রতিনিধি থাকার প্রস্তাবটি অভিনব ও প্রায় নজিরবিহীন ঘটনা। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে বিশেষ দূত নিয়োগ করা হয়েছিল। সেটাও ছিল এখতিয়ার বহির্ভুত। একই ব্যক্তি একই সঙ্গে বিরোধী দলে থাকবেন, আবার সরকারের নীতি পরিকল্পনার অংশ হবেন, এটা হতে পারে না। তাহলে জামায়াতও মুখে সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করলেও তলে তলে আপসের রাস্তাও খোলা রেখেছে।

লেখক: সম্পাদক, চরচা

বিষয়: বিএনপিবাংলাদেশজাতীয় সংসদত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনরাজনীতি
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সিজিএসের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদে যারা রয়েছেন

  • ২

    উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে উত্তাল চুয়েট, বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা

  • ৩

    মবের শিকার ৪৫০০ শিক্ষক কেমন আছেন?

  • ৪

    বিসিএসের সাফল্য ছাপিয়ে নায়লার স্বপ্ন শিশুদের গড়া

  • ৫

    নিজ দেশেই কেন নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে ভারতীয়দের?

সম্পর্কিত
  • সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা: যেখানে তলে তলে টেম্পু চলে!

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা: যেখানে তলে তলে টেম্পু চলে!

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। প্রতি শব্দের অদ্যাক্ষর নিয়ে মজা করে সংক্ষেপ করতে চাইলে হয়ে যায়, ‘স–স্বা’। এখন এটিকে উচ্চারণের কিঞ্চিৎ সমতার হিসাবে যদি ‘শসা’ হিসেবে চিহ্নিত করতে চান, তাতেও খুব একটা ভুল হবে না। কারণ আমাদের দেশে যেভাবে লবণের বিজ্ঞাপনে অবলীলায় শসা কচকচিয়ে খেয়ে ফেলার দৃশ্য দেখানো হয়

  • ব্যারিকেড গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে পারে না

    ব্যারিকেড গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে পারে না

    গত কয়েক মাসে যন্তর মন্তর এলাকায় বেশ জোরদার আন্দোলন-বিক্ষোভ দেখা গেছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের জেরে নতুন করে বিক্ষোভের ঢেউ উঠেছে।

  • পাকিস্তান: স্থিতিশীলতা কেন আজও অধরা

    পাকিস্তান: স্থিতিশীলতা কেন আজও অধরা

    সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কতটা অধরা। পারস্পরিক দোষারোপের মধ্য দিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পিটিআই ও সরকারের মধ্যকার সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে।

  • গাইড বইয়ের বিপরীতে একটা নির্মোহ প্রস্তাবনা

    গাইড বইয়ের বিপরীতে একটা নির্মোহ প্রস্তাবনা

    বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের অনেক মাধ্যম চোখে পড়ে। এখন শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে পাঠ্যপুস্তক, গাইড বই, রেফারেন্স বই ও শিক্ষকের পাশাপাশি রয়েছে ইন্টারনেট, জার্নাল, মাল্টিমিডিয়া, ইউটিউবসহ নানা পরিসর। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজলভ্য মাধ্যম হয়ে আছে গাইড বই