Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

বুদ্ধিজীবীরা কেন বারবার বিক্রি হন?

জেমস দাস

জেমস দাস

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬, ১৬: ০৭
বুদ্ধিজীবীরা কেন বারবার বিক্রি হন?

আহমদ ছফা ১৯৭২ সালে সদ্য-স্বাধীন দেশের উত্তেজনা তখনো মিলিয়ে যায়নি, লিখে ফেললেন এমন এক প্রবন্ধ যা আজ অর্ধশতাব্দী পরও এ দেশের বুদ্ধিজীবী মহলে অস্বস্তির কাঁটা হয়ে বিঁধে আছে। ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’ প্রবন্ধে তার সেই নির্মম পর্যবেক্ষণ: এ দেশের বুদ্ধিজীবীরা যা বিশ্বাস করেন, তা বলেন না, আর যা বলেন, তা বিশ্বাস করেন না। ছফা আরও এগিয়ে বলেছিলেন–বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা মূলত একটি পরগাছা শ্রেণি, যারা প্রতিটি জমানায় নতুন প্রভুর দরবারে নিজেদের সেবা পেশ করেন। প্রশ্নটা তাই পুরনো, কিন্তু এর উত্তর খুঁজতে গেলে নৈতিক ক্ষোভ যথেষ্ট নয়। কেন এই উপমহাদেশে বামপন্থী বুদ্ধিজীবী–যার ঘোষিত ব্রতই ক্ষমতার মুখের ওপর সত্য বলা–বারবার বিভিন্ন দল, সরকার ও জমানার ভাড়াটে কলমচিতে পরিণত হন? উত্তরটা ব্যক্তির চরিত্রে নয়, খুঁজতে হবে বুদ্ধিবৃত্তির অর্থনৈতিক ভিত্তি, ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার, শ্রেণি-অবস্থান আর পার্টি-কাঠামোর গভীরে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

প্রশ্নটার একটা আন্তর্জাতিক বংশপরিচয়ও আছে। জুলিয়াঁ বাঁদা সেই ১৯২৭ সালেই বুদ্ধিজীবীদের বিশ্বাসঘাতকতা গ্রন্থে দেখিয়েছিলেন, ইউরোপের চিন্তকেরা কীভাবে সর্বজনীন সত্য ও ন্যায়ের সাধনা ছেড়ে জাতি-শ্রেণি-দলের রাজনৈতিক আবেগের চাকরে পরিণত হচ্ছেন। এডওয়ার্ড সাইদ পরে বুদ্ধিজীবীর আদর্শ রূপ আঁকতে গিয়ে বলেছিলেন ‘অ্যামেচার’-এর কথা–যে পেশাদার সুবিধার হিসাব না কষে ক্ষমতার মুখের ওপর সত্য বলে, যে চিরকাল ‘নির্বাসিত ও প্রান্তিক’। কিন্তু সাইদের এই আদর্শচিত্র উপমহাদেশে এসে যে ধাক্কা খায়, তার কারণ বুঝতে হলে নামতে হবে কাঠামোর তলদেশে।

সবচেয়ে গোড়ার কারণটা বৈষয়িক। পিয়ের বুরদিও দেখিয়েছিলেন, বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রের স্বায়ত্তশাসনের পূর্বশর্ত হলো তার নিজস্ব, রাজনীতি-নিরপেক্ষ পুঁজির উৎস–স্বাধীন প্রকাশনা-বাজার, এনডাওমেন্ট-নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়, পাঠক-চাঁদায় চলা সংবাদপত্র, স্বায়ত্তশাসিত গবেষণা-প্রতিষ্ঠান। পশ্চিমে বুদ্ধিজীবীর আপেক্ষিক স্বাধীনতা কোনো চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্বের ফল নয়; এই বিকল্প অর্থনৈতিক ভিতের ফল। উপমহাদেশে এই ভিতটাই কোনোদিন গড়ে ওঠেনি। এখানে রাষ্ট্রই বুদ্ধির প্রায় একচেটিয়া ক্রেতা–সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ও পদোন্নতি, বাংলা একাডেমি বা সাহিত্য অকাদেমির পদ-পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় প্লট-ফ্ল্যাট বরাদ্দ, রাষ্ট্রদূত-উপদেষ্টা পদে নিয়োগ, টেলিভিশন টকশোর চেয়ার–সম্মান ও রুটি দুটোরই চাবি রাষ্ট্র ও ক্ষমতাসীন দলের পকেটে।

হামজা আলাভি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো উত্তর-ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ‘সালারিয়াত’ (salariat) শ্রেণির ধারণা দিয়েছিলেন–সেই শিক্ষিত মধ্যবিত্ত, যার একমাত্র সম্পদ শিক্ষার সনদ, আর একমাত্র জীবিকা-গন্তব্য রাষ্ট্রীয় বেতনভুক পদ। আলাভির আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ছিল, এই রাষ্ট্রগুলো ‘অতিবিকশিত’ (overdeveloped)–ঔপনিবেশিক শাসকের রেখে যাওয়া আমলাতান্ত্রিক-সামরিক যন্ত্র সমাজের তুলনায় অতিকায়। ফলে সমাজের সম্পদ বণ্টনের প্রধান নিয়ামক উৎপাদন নয়, রাষ্ট্রীয় অনুগ্রহ। যে অর্থনীতির মূল চরিত্রই ভাড়ায় খাটানো ও ভাড়াটে নিয়োগ, সেখানে বুদ্ধিজীবীও অনিবার্যভাবে ভাড়াটে হওয়ার জন্য উন্মুখ ওঠেন। স্বাধীন থাকার কোনো বৈষয়িক জমিই তার নেই–এটাই প্রথম ও প্রধানতম উত্তর।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

দ্বিতীয় কারণটা ঐতিহাসিক। এই ভূখণ্ডে আধুনিক বুদ্ধিজীবী শ্রেণির জন্মসনদটাই লিখেছিলেন এক ঔপনিবেশিক প্রশাসক। টমাস ব্যাবিংটন মেকলে তার ১৮৩৫ সালের কুখ্যাত ‘মিনিট অন এডুকেশন’-এ অকপটে লিখেছিলেন, ইংরেজি শিক্ষার লক্ষ্য এমন একটি শ্রেণি তৈরি করা, যারা ‘রক্তে ও বর্ণে ভারতীয়, কিন্তু রুচিতে, মতে, নৈতিকতায় ও বুদ্ধিতে ইংরেজ’। অর্থাৎ, শাসক ও শাসিত কোটি মানুষের মাঝখানে দোভাষী বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দক্ষ গোষ্ঠী গড়ে তোলাই ইংরেজি শিক্ষার লক্ষ্য। বোঝাই যাচ্ছে যে, এই শ্রেণির ঐতিহাসিক পেশাটাই হলো দালালি; জ্ঞান এখানে জন্ম থেকেই ক্ষমতার সেবায় নিযুক্ত, রঞ্জিত গুহ যাকে বলতেন ‘কর্তৃত্বহীন আধিপত্য’ মধ্যস্থতা। আর এর আগে ছিল দরবারি সংস্কৃতির দীর্ঘ ঐতিহ্য–সভাকবি, মোসাহেব, স্তুতিকার, যাদের জীবিকাই ছিল পৃষ্ঠপোষকের বন্দনা। এই ভূখণ্ডে স্বাধীন নাগরিক-বুদ্ধিজীবী ঐতিহাসিকভাবেই ব্যতিক্রম; দরবারি বুদ্ধিজীবীই দীর্ঘমেয়াদি নিয়ম। আজকের দলীয় ভাড়াটে বুদ্ধিজীবী সেই সভাকবিরই উত্তরপুরুষ। শুধু দরবার বদলে হয়েছে পার্টি অফিস ও সচিবালয়, স্তুতিকাব্য বদলে হয়েছে টকশো, কলাম আর নাগরিক সমাবেশের বিবৃতি।

তৃতীয় কারণটা শ্রেণিগত। আর এখানেই উপমহাদেশীয় বামের নিজস্ব ট্র্যাজেডি। এ অঞ্চলের কমিউনিস্ট আন্দোলনের নেতৃত্ব জন্মলগ্ন থেকেই ছিল হিন্দু-মুসলিম উচ্চবর্ণ ও মধ্যবিত্ত শিক্ষিত ভদ্রলোকের হাতে, যারা ছিল উপনিবেশিক শিক্ষায় শিক্ষিত। আম্বেদকর ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিকে বিদ্রূপ করে ‘একদল ব্রাহ্মণ ছেলের দল’ বলেছিলেন বলে বহুল-উদ্ধৃত। কথাটা বাড়িয়ে বলা নয়। পশ্চিমবঙ্গের বাম রাজনীতির শীর্ষস্তরে বর্ণহিন্দু আধিপত্যের ধারাবাহিকতা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট।

ইন্দিরা গান্ধী। ছবি: সংগৃহীত
ইন্দিরা গান্ধী। ছবি: সংগৃহীত

আন্তোনিও গ্রামসির প্রসঙ্গ এখানে কাজে লাগতে পারে–প্রতিটি শ্রেণি তার নিজস্ব জৈব বুদ্ধিজীবী বা অর্গানিক ইন্টেলেকচুয়াল তৈরি করে। তারা নিজ নিজ শ্রেণির অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসে তার বিশ্ববীক্ষাকে ভাষা দেয়। উপমহাদেশের বাম বুদ্ধিজীবীরা নিজেদের শ্রমিক-কৃষকের জৈব বুদ্ধিজীবী দাবি করলেও শ্রেণি অবস্থানের বিচারে ছিলেন পাতিবুর্জোয়া সালারিয়াতেরই জৈব প্রতিনিধি। শ্রমজীবীর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রতিনিধিত্বের, অভিজ্ঞতার নয়। মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবীর শ্রেণি-নোঙর যেহেতু শ্রমজীবী শিবিরের গাঙপারে প্রোথিত নয়, আন্দোলনের জোয়ার নামলেই সে ভেসে যায় সেই দিকে, যেদিকে ক্রেতা অপেক্ষা করছে। বিপ্লব যখন দূরবর্তী সম্ভাবনা, তখন রাজনৈতিক দল, সামরিক জান্তা–মাইনে যে দেয়, তার প্রভু সে-ই।

চতুর্থ কারণটা খোদ কমিউনিস্ট পার্টির কাঠামোর ভেতরে। গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার নামে পার্টি-সংস্কৃতি যে দক্ষতাটি সবচেয়ে নিখুঁতভাবে শেখায়, তা স্বাধীন বিচার নয়; লাইন মেনে চলা। তার ওপর ছিল বহিরাগত কর্তৃত্বের দীর্ঘ অভ্যাস: কমিন্টার্ন-মস্কো-পিকিং যা বলে, সেটাই লাইন; এবার দেশের বাস্তবতা যা-ই বলুক। এর ঐতিহাসিক ফল সুবিদিত: ১৯৪২ সালে ‘জনযুদ্ধ’ তত্ত্বের দোহাই দিয়ে সিপিআই ভারতছাড় আন্দোলনের বিরোধিতা করে কার্যত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশের পাশে দাঁড়িয়েছিল; ১৯৭৫ সালে সেই একই পার্টি ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থাকে সমর্থন করেছিল ‘প্রগতিশীল’ আখ্যা দিয়ে। অর্থাৎ, ক্ষমতার সেবা করার প্রশিক্ষণ পার্টির ভেতরেই সম্পন্ন। পার্টি ভাঙলে বা ক্ষয়ে গেলেও প্রশিক্ষণটা থেকে যায়; শুধু মনিব বদলায়।

পশ্চিমবঙ্গ এই প্রক্রিয়ার পরীক্ষাগার বলা চলে। চৌত্রিশ বছরের বাম শাসনে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কমিটি থেকে সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের যে সর্বব্যাপী নিয়ন্ত্রণ চলত, বাংলা ভাষা তার নাম দিয়েছিল ‘অনিলায়ন’। হ্যাঁ নামটা সিপিএম নেতা অনিল বিশ্বাসের নাম থেকেই এসেছিল। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য এই ব্যবস্থাকে তত্ত্বায়িত করেছেন ‘পার্টি-সমাজ’ ধারণায়, যেখানে স্কুলের চাকরি থেকে শালিস পর্যন্ত দলই সমাজের সমস্ত লেনদেনের মধ্যস্থতাকারী। ২০১১ সালের পালাবদল এই বিশ্লেষণের চূড়ান্ত প্রমাণ হয়ে এল। সেটা কী রকম? কাঠামোটি অটুট রইল, কেবল পতাকার রং বদলে গেল, আর বুদ্ধিজীবীদের একটি দৃশ্যমান স্রোত নতুন শাসকের ছাতার নিচে স্থানান্তরিত হলো। কাঠামো যে মতাদর্শের চেয়ে দীর্ঘজীবী, তার এর চেয়ে স্পষ্ট প্রদর্শনী আর হয় না।

অরুন্ধতী রায়। ছবি: রয়টার্স
অরুন্ধতী রায়। ছবি: রয়টার্স

বাংলাদেশে এই সাধারণ কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি বিশেষ মতাদর্শিক অজুহাত, যা কেনাবেচাকে নীতির পোশাক পরিয়ে দেয়। সেটি হলো–মুক্তিযুদ্ধের অক্ষরেখা। ধর্মনিরপেক্ষ-প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীর কাছে উগ্রপন্থী ডানের ভয়টি অস্তিত্বগত। ফলে ক্ষমতাসীন ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি’র সঙ্গে জোটবদ্ধতা মনে হয়েছে আদর্শিক কর্তব্য, পৃষ্ঠপোষকতা গ্রহণ নয়। অথচ এটা মোটেও আদর্শিক কর্তব্য নয়। এটাও এক ধরনের স্বার্থ হাসিল ও পৃষ্ঠপোষকতা গ্রহণই ছিল। ছিল যে, তা ২০২৪ সালের ক্ষমতার পালাবদলের সময়ে দেখা গেছে। এই পৃষ্ঠপোষকতার যন্ত্রটি মতাদর্শ-নিরপেক্ষ। একটু পেছনে গেলে দেখা যাবে, এরশাদের সামরিক জমানার প্লট-পদক-পুরস্কার সংস্কৃতি দেখিয়েছিল স্বৈরশাসকও কবি-বুদ্ধিজীবী সংগ্রহ করতে জানে। মনে রাখা জরুরি এরশাদের সে দরবারেও ভিড় কম হয়নি। নব্বই-পরবর্তী যুগে এল আরেক রূপান্তর। দাতা-অর্থায়িত এনজিও জগৎ, অরুন্ধতী রায় যাকে বলেছেন ‘প্রতিরোধের এনজিওকরণ’। অরুন্ধতীর মতে, এই এনজিও জগতে সমাজ নিয়ে র‍্যাডিক্যাল সমালোচনা রূপান্তরিত হলো প্রকল্প প্রস্তাব ও কনসালট্যান্সি রিপোর্টে, বিপ্লবের শব্দভাণ্ডার বদলে হলো ‘এমপাওয়ারমেন্ট’, ‘গভর্ন্যান্স’, ‘স্টেকহোল্ডার’। এক-এগারোর ‘সুশীল সমাজ’ পর্ব এ দেশে দেখাল, অরাজনৈতিকতার মোড়কেও দরবার নির্মাণ সম্ভব। আর লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই কাঠামো কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়। প্রতিটি নতুন জমানাই নিজস্ব বুদ্ধিজীবী-বলয় গড়ে নেয়। ২০২৪-পরবর্তী পর্বেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো কাঠামোগত কারণ নেই।

পাল্টা-কথা না বললে এই বিশ্লেষণ একপেশে হয়ে যাবে। ভাড়া-খাটা কেবল বামের ব্যাধি নয়। আরএসএস-এর বিপুল বুদ্ধিজীবী প্রতিষ্ঠান (বিদ্যা ভারতীর হাজারো স্কুল থেকে গবেষণা-ফাউন্ডেশন পর্যন্ত) কিংবা জামায়াত ঘরানার চিন্তক বলয় সমান বা অধিকতর পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর। তফাত এই যে, বাম নিজেকে সংজ্ঞায়িতই করে ‘ক্ষমতার মুখের ওপর সত্য বলা’র ব্রত দিয়ে। ফলে তার পতন নিজের বিজ্ঞাপিত মানদণ্ডেই বিচারিত হয় এবং বেশি কেলেঙ্কারির চেহারা নেয়। ডানের দরবারি-বৃত্তি প্রত্যাশিত বলে খবরই হয় না।

এখন আসলে বিচারের প্রশ্নটাই বদলে ফেলা দরকার। আসল প্রশ্ন ‘বামরা কেন বিক্রি হন’ নয়। আসল প্রশ্ন বরং–এই উপমহাদেশ কেন স্বাধীন বুদ্ধিচর্চার বৈষয়িক অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারল না? পরিষ্কার করে বললে পাঠকনির্ভর প্রকাশনা অর্থনীতি, এনডাওমেন্টভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, দলনিরপেক্ষ তহবিল, সংগঠিত পেশাজীবী সমিতি কেন গড়তে পারল না? ব্যক্তির মধ্যে ‘সাধু’ খুঁজে লাভ নেই। কারণ, সাধুর ওপর নির্ভরশীল ব্যবস্থামাত্রই ব্যর্থ ব্যবস্থা। দরকার এমন কাঠামো, যেখানে সৎ থাকার জন্য কাউকে সন্ন্যাসী হতে হয় না। জনগণকে নিজের বুদ্ধিজীবী নিজেকেই তৈরি করতে হবে গণঅর্থকাঠামো ও গণঅর্থনীতি দিয়ে।

জেমস দাস: কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

বিষয়: অর্থনীতিস্বাধীনবুদ্ধিজীবীবাংলাদেশ
সর্বশেষ
  • ১

    ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী: হুমায়ুন কবির

  • ২

    এশিয়া কাপ: শিরোপায় চোখ রেখে বাংলাদেশের ‘ভারত পরীক্ষা’

  • ৩

    সিএমএসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংকের চুক্তি

  • ৪

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ৫

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া