ক্যাটরিন বেনহোল্ড

আমি বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে চলা জেনারেশন জেড (Gen Z) বা জেন জি’দের প্রতিবাদের খবরগুলো পড়ি। পড়তে গিয়ে প্রথমেই আমাকে সবচেয়ে নাড়া দেয় যে, এই তরুণ প্রতিবাদকারীদের যেন খুবই পরিচিত। নেপালের এক বিক্ষোভে দেখা পোস্টারে লেখা ছিল, “Corruption is sus, stop ghosting democracy” (বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায়, “দুর্নীতি সন্দেহজনক, গণতন্ত্রকে অবহেলা করা বন্ধ কর)। এমন কথা যেন আমার কিশোর সন্তানরাও রাতের খাবারের সময় বলে ফেলতে পারে।
এটা মোটেই কাকতালীয় নয়। অনলাইনে তরুণ সংস্কৃতির সর্বব্যাপী উপস্থিতির কারণে এই প্রতিবাদ আন্দোলনগুলো দেখা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, কেনিয়া ও পেরুতে। নেপাল ও মাদাগাস্কারে সরকার পতনও ঘটিয়েছে এই তরুণরা। মরক্কোতে এখনো আন্দোলন চলছে।

আমার দুই সহকর্মী দীর্ঘ সময় ধরে জেন জি’দের এসব আন্দোলন নিয়ে রিপোর্ট করেছেন। জন এলিগন কাজ করেছেন মাদাগাস্কারে, যেখানে তরুণদের নেতৃত্বে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে। হান্না বিচ সময় কাটিয়েছেন নেপালের তরুণদের সঙ্গে, যাদের ৪৮ ঘণ্টার ‘বিপ্লব’ দেশটিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। নেপাল ও মাদাগাস্কার দুই ভিন্ন দেশ, কিন্তু তাদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও ফলাফলে বেশ মিল রয়েছে। এই মিলই এক ধরনের বৈপরীত্যকে সামনে আনে।
তরুণ বিপ্লবীরা পরিবর্তনের শক্তি দেখিয়েছে, কিন্তু তারা নিজেরাই সেই পরিবর্তনের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এমনকি তারা নিশ্চিতও করতে পারছে না যে, তাদের শুরু করা আন্দোলন শেষ পর্যন্ত তাদের জীবন উন্নত করবে।
ভিন্ন দেশ, একই আন্দোলনের ধারা
প্রতিটি জেন জি আন্দোলনের তাৎক্ষণিক কারণ ভিন্ন। নেপালে কারণ ছিল হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা। মাদাগাস্কারে কারণ ছিল পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যর্থতা। তবুও, এই দুই দেশেই (যেমন আরও অনেক দেশে যেখানে তরুণদের প্রতিবাদ করতে দেখা যাচ্ছে) জনসংখ্যার বড় অংশ তরুণ। নেপালে গড় বয়স ২৮; মাদাগাস্কারে ২১। দুই দেশেই তরুণদের বেকারত্বের হার বেশি। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি ক্ষমতার গভীরে প্রোথিত।
আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সেখানে সর্বব্যাপী। এই আন্দোলনগুলো ছড়িয়ে পড়ছে এমন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে, যা ভৌগোলিক দূরত্ব অতিক্রম করে তরুণদের এক অভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতিতে যুক্ত করছে। হান্না বললেন, “তুমি পাহাড়ের গ্রামেই থাক বা মরুভূমির কোথাও–তরুণেরা টিকটক আর ডিসকর্ডে যুক্ত। তারা একই ভাষা ব্যবহার করে, একই মিম শেয়ার করে।” তিনি বললেন, নেপালের তরুণরা ইন্দোনেশিয়ার প্রতিবাদ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিল।
অন্যদিকে, মাদাগাস্কারের তরুণরা অনুপ্রাণিত হয়েছিল নেপালের আন্দোলন থেকে, জানালেন জন।
আন্দোলন কি গভীর কাঠামোগত সমস্যা সমাধান করতে পারে?
হান্না ও জন দেখেছেন–প্রথম দিকের স্বপ্ন ও লক্ষ্য থেকে আন্দোলনগুলো দ্রুত সরে গেছে। মাদাগাস্কারে প্রেসিডেন্ট পালানোর পর সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেয়। তরুণ বিপ্লবীদের কল্পিত গণতান্ত্রিক প্রভাব সেখানে দেখা যাচ্ছে না। পার্লামেন্টের নতুন নেতা হিসেবে যখন এক প্রবীণ রাজনীতিক ও প্রাক্তন বিরোধীদলীয় নেতাকে বেছে নেওয়া হয়, তখন তরুণদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।
নেপালেও একই চিত্র। প্রতিবাদের পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী তরুণদের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন। কিন্তু এখন সেই তরুণরা বলছেন তারা পুরোপুরি উপেক্ষিত। আর দুই দেশেই বড় উদ্বেগ হলো, যে নতুন সরকারই আসুক না কেন, তারা সহজে তরুণদের প্রকৃত সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারবে না।

একজন নেপালি বিক্ষোভকারী, যিনি প্রায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, বলেছিলেন, “যদি সবকিছু আবার আগের মতো হয়ে যায়, আমরা রক্ত দিই, বন্ধুরা প্রাণ হারায়-তাহলে সবটা কি বৃথা ছিল না?”
অক্সফোর্ডের গবেষক অ্যাবিগেইল ব্রানফোর্ড বলছেন, তরুণ জনসংখ্যা বেশি এমন দেশে এসব সমস্যার মূলে রয়েছে গভীর কাঠামোগত সংকট। তিনি বলেন, “যুব বেকারত্বের মতো বিষয়গুলো সমাধান করা খুব কঠিন, এমনকি যদি তরুণদের রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়।” তার মতে, “ওইসব দেশের অর্থনীতি এত দ্রুত শ্রমবাজারে প্রতি বছর যুক্ত হওয়া এই তরুণদের আত্তীকরণ করতে পারে না।”
আমি যখন প্রথম জেন জি আন্দোলনগুলোর কথা শুনলাম, তখন মনে পড়ল ১৯৬৮ সালে তরুণদের সেই বিক্ষোভগুলোর কথা, পশ্চিম ইউরোপ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়েছিল। তখনো তরুণদের সংখ্যা ছিল বেশি, সঙ্গে ছিল রক মিউজিক আর রক্ষণশীল রাজনীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ।
কিন্তু একই সঙ্গে মনে পড়ল আরব বসন্ত-এর কথা। ২০১০-এর দশকে সেই তরুণ নেতৃত্বাধীন আন্দোলনগুলো, যা একাধিক সরকারকে পতন ঘটিয়েছিল। কিন্তু বেশির ভাগ দেশেই গণতন্ত্র বা তরুণদের জীবনে স্থায়ী উন্নতি আসেনি।
তরুণরা পরিবর্তনের জন্য বুভুক্ষু হয়ে আছে। তারা প্রমাণ করেছে, পরিবর্তন আনার ক্ষমতা তাদের আছে। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে–তারপর কী হবে?
ক্যাট্রিন বেনহোল্ড: নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রধান নিউজলেটার ‘দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর উপস্থাপক।

আমি বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে চলা জেনারেশন জেড (Gen Z) বা জেন জি’দের প্রতিবাদের খবরগুলো পড়ি। পড়তে গিয়ে প্রথমেই আমাকে সবচেয়ে নাড়া দেয় যে, এই তরুণ প্রতিবাদকারীদের যেন খুবই পরিচিত। নেপালের এক বিক্ষোভে দেখা পোস্টারে লেখা ছিল, “Corruption is sus, stop ghosting democracy” (বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায়, “দুর্নীতি সন্দেহজনক, গণতন্ত্রকে অবহেলা করা বন্ধ কর)। এমন কথা যেন আমার কিশোর সন্তানরাও রাতের খাবারের সময় বলে ফেলতে পারে।
এটা মোটেই কাকতালীয় নয়। অনলাইনে তরুণ সংস্কৃতির সর্বব্যাপী উপস্থিতির কারণে এই প্রতিবাদ আন্দোলনগুলো দেখা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, কেনিয়া ও পেরুতে। নেপাল ও মাদাগাস্কারে সরকার পতনও ঘটিয়েছে এই তরুণরা। মরক্কোতে এখনো আন্দোলন চলছে।

আমার দুই সহকর্মী দীর্ঘ সময় ধরে জেন জি’দের এসব আন্দোলন নিয়ে রিপোর্ট করেছেন। জন এলিগন কাজ করেছেন মাদাগাস্কারে, যেখানে তরুণদের নেতৃত্বে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে। হান্না বিচ সময় কাটিয়েছেন নেপালের তরুণদের সঙ্গে, যাদের ৪৮ ঘণ্টার ‘বিপ্লব’ দেশটিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। নেপাল ও মাদাগাস্কার দুই ভিন্ন দেশ, কিন্তু তাদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও ফলাফলে বেশ মিল রয়েছে। এই মিলই এক ধরনের বৈপরীত্যকে সামনে আনে।
তরুণ বিপ্লবীরা পরিবর্তনের শক্তি দেখিয়েছে, কিন্তু তারা নিজেরাই সেই পরিবর্তনের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এমনকি তারা নিশ্চিতও করতে পারছে না যে, তাদের শুরু করা আন্দোলন শেষ পর্যন্ত তাদের জীবন উন্নত করবে।
ভিন্ন দেশ, একই আন্দোলনের ধারা
প্রতিটি জেন জি আন্দোলনের তাৎক্ষণিক কারণ ভিন্ন। নেপালে কারণ ছিল হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা। মাদাগাস্কারে কারণ ছিল পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যর্থতা। তবুও, এই দুই দেশেই (যেমন আরও অনেক দেশে যেখানে তরুণদের প্রতিবাদ করতে দেখা যাচ্ছে) জনসংখ্যার বড় অংশ তরুণ। নেপালে গড় বয়স ২৮; মাদাগাস্কারে ২১। দুই দেশেই তরুণদের বেকারত্বের হার বেশি। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি ক্ষমতার গভীরে প্রোথিত।
আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সেখানে সর্বব্যাপী। এই আন্দোলনগুলো ছড়িয়ে পড়ছে এমন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে, যা ভৌগোলিক দূরত্ব অতিক্রম করে তরুণদের এক অভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতিতে যুক্ত করছে। হান্না বললেন, “তুমি পাহাড়ের গ্রামেই থাক বা মরুভূমির কোথাও–তরুণেরা টিকটক আর ডিসকর্ডে যুক্ত। তারা একই ভাষা ব্যবহার করে, একই মিম শেয়ার করে।” তিনি বললেন, নেপালের তরুণরা ইন্দোনেশিয়ার প্রতিবাদ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিল।
অন্যদিকে, মাদাগাস্কারের তরুণরা অনুপ্রাণিত হয়েছিল নেপালের আন্দোলন থেকে, জানালেন জন।
আন্দোলন কি গভীর কাঠামোগত সমস্যা সমাধান করতে পারে?
হান্না ও জন দেখেছেন–প্রথম দিকের স্বপ্ন ও লক্ষ্য থেকে আন্দোলনগুলো দ্রুত সরে গেছে। মাদাগাস্কারে প্রেসিডেন্ট পালানোর পর সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেয়। তরুণ বিপ্লবীদের কল্পিত গণতান্ত্রিক প্রভাব সেখানে দেখা যাচ্ছে না। পার্লামেন্টের নতুন নেতা হিসেবে যখন এক প্রবীণ রাজনীতিক ও প্রাক্তন বিরোধীদলীয় নেতাকে বেছে নেওয়া হয়, তখন তরুণদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।
নেপালেও একই চিত্র। প্রতিবাদের পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী তরুণদের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন। কিন্তু এখন সেই তরুণরা বলছেন তারা পুরোপুরি উপেক্ষিত। আর দুই দেশেই বড় উদ্বেগ হলো, যে নতুন সরকারই আসুক না কেন, তারা সহজে তরুণদের প্রকৃত সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারবে না।

একজন নেপালি বিক্ষোভকারী, যিনি প্রায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, বলেছিলেন, “যদি সবকিছু আবার আগের মতো হয়ে যায়, আমরা রক্ত দিই, বন্ধুরা প্রাণ হারায়-তাহলে সবটা কি বৃথা ছিল না?”
অক্সফোর্ডের গবেষক অ্যাবিগেইল ব্রানফোর্ড বলছেন, তরুণ জনসংখ্যা বেশি এমন দেশে এসব সমস্যার মূলে রয়েছে গভীর কাঠামোগত সংকট। তিনি বলেন, “যুব বেকারত্বের মতো বিষয়গুলো সমাধান করা খুব কঠিন, এমনকি যদি তরুণদের রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়।” তার মতে, “ওইসব দেশের অর্থনীতি এত দ্রুত শ্রমবাজারে প্রতি বছর যুক্ত হওয়া এই তরুণদের আত্তীকরণ করতে পারে না।”
আমি যখন প্রথম জেন জি আন্দোলনগুলোর কথা শুনলাম, তখন মনে পড়ল ১৯৬৮ সালে তরুণদের সেই বিক্ষোভগুলোর কথা, পশ্চিম ইউরোপ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়েছিল। তখনো তরুণদের সংখ্যা ছিল বেশি, সঙ্গে ছিল রক মিউজিক আর রক্ষণশীল রাজনীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ।
কিন্তু একই সঙ্গে মনে পড়ল আরব বসন্ত-এর কথা। ২০১০-এর দশকে সেই তরুণ নেতৃত্বাধীন আন্দোলনগুলো, যা একাধিক সরকারকে পতন ঘটিয়েছিল। কিন্তু বেশির ভাগ দেশেই গণতন্ত্র বা তরুণদের জীবনে স্থায়ী উন্নতি আসেনি।
তরুণরা পরিবর্তনের জন্য বুভুক্ষু হয়ে আছে। তারা প্রমাণ করেছে, পরিবর্তন আনার ক্ষমতা তাদের আছে। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে–তারপর কী হবে?
ক্যাট্রিন বেনহোল্ড: নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রধান নিউজলেটার ‘দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর উপস্থাপক।

চরমপন্থী ও ডানপন্থী মতাদর্শের উত্থান নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে আরেকটি উদ্বেগের দিক। সারা দেশে ধর্মোন্মত্ততা বেড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে রক্ষণশীল ইসলামি ব্যাখ্যা গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যদি আরও খারাপ হয়, তবে হিন্দুদের ওপর হামলা ও ভাঙচুর বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান নীতির কৌশলগত যৌক্তিকতা নিয়ে আপনি যদি বিভ্রান্ত বোধ করেন, তবে আপনাকে দোষ দেওয়া যায় না। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সাম্প্রতিক ‘অপহরণের’বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব যুক্তি দেওয়া হয়েছে তার বেশিরভাগই হাস্যকর।