Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৪ অক্টোবর, ২০২৬
১৪ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৪ অক্টোবর, ২০২৬
১৪ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশেষ প্রতিবেদন

মবের শিকার ৪৫০০ শিক্ষক কেমন আছেন?

ফাইয়াজ আহনাফ সামিন

ফাইয়াজ আহনাফ সামিন

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ৫১
মবের শিকার ৪৫০০ শিক্ষক কেমন আছেন?
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমে ঢাকার ধামরাই উপজেলার ৮৫ বছরের পুরনো ও জীর্ণ এক গ্রামীণ বিদ্যালয়ে পড়াতেন তিনি। টানা দুবার নির্বাচিত হয়েছিলেন উপজেলার সেরা প্রধান শিক্ষক। যে প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কোনোদিন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, সেখানে তিনি ৯৫ শতাংশ পাসের রেকর্ড গড়েছিলেন। কিন্তু ক্লাস ফাঁকি বন্ধ করা, কোচিং-বাণিজ্য থামানো আর শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফেরানোই ছিল যেন তার অপরাধ।

Advertisement

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেই শিক্ষককেই অপদস্থ করে বের করে দেওয়া হয়। ঘটনাটি ধামরাইয়ের সূয়াপুর নান্নার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এবং বর্তমানে ‘পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক জোট’-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদারের।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

২০২৪ সালের ১১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর একটি দল তার পদত্যাগের দাবি তোলে। পর দিন ১২ আগস্ট রাজধানীর মিরপুরের বাসভবনে জোর করে ঢোকে ১৫-২০ জন। পরিবারের সামনে আনোয়ারুল ইসলামকে পদত্যাগপত্রে সই করতে বাধ্য করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরপেক্ষ তদন্তে তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণ হন। আদালতও তার পদত্যাগপত্র বাতিল করে স্বপদে পুনর্বহালের আদেশ দেন। কিন্তু এখনো কাজে ফিরতে পারেননি এই শিক্ষক।

‘পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক জোট’-এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টের পর সারা দেশে প্রায় দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চার হাজার ৫০০ জন প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক হয়রানি, নির্যাতন, শারীরিক হামলা ও জোরপূর্বক পদত্যাগের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে বেসরকারি ও সরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা আছেন। আছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানরাও।

এমন পরিস্থিতি চলছে এখনো। গত ৬ অক্টোবর রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাওয়াদুল হকের সাথেও ঘটে একই ঘটনা। এর কয়েকদিনের মধ্যেই অবশ্য তিনি আবার পদে ফিরে আসেন।

রামেবির ভিসি ও সেকশন কর্মকর্তাকে ‘মব’ করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগmob

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত মব শুরু হয়। আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া বা দায়িত্ব পালন করা শিক্ষকদের জোর করে সাদা কাগজে বা সরকারি স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার বহু ঘটনা ওই সময় ঘটে।

মবের ঘটনাগুলোয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সামনে ছিল বলে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে। কোনো কারণে শিক্ষকের কোনো কাজ পছন্দ না হলে, পরীক্ষায় নম্বর কম দিলেও শিক্ষার্থীরা জোট বেঁধে শিক্ষককে পদত্যাগে বাধ্য করেছে।

আছে প্রতিষ্ঠানের দায়

মবের মুখে শিক্ষকদের তাড়িয়ে দেওয়ার পেছনের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা গেছে, এর বড় অংশই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল ও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে উদ্ভূত।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অতীতে পরিচালনা পর্ষদ গঠনে স্থানীয় রাজনীতি ও নিয়োগ-বাণিজ্যের দাপট থাকে। যেসব প্রতিষ্ঠানপ্রধান অনিয়ম-দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে নিয়মকানুন কঠোরভাবে প্রয়োগ করেছিলেন, কিংবা প্রাইভেট-কোচিং বন্ধ করেছিলেন, তারাই সহকর্মীদের একাংশ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ‘অপছন্দের পাত্রে’ পরিণত হন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর স্থানীয় রাজনৈতিক ক্যাডাররা প্রাক্তন ফেল করা ছাত্র, সন্ত্রাসী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়ে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টি করে।

সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয় শিক্ষকদের ওপর। ফরিদপুরের সালথার নবকাম পল্লী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমানকে হাতুড়িপেটা করে রক্তভেজা পদত্যাগপত্রে সই নেওয়া হয়েছিল। কুমিল্লার দেবীদ্বারের মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে তাড়িয়ে দিয়ে তার চেয়ারে এক ছাত্র বসে গিয়ে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করার ঘটনাও ঘটেছে। ভিকারুন্নিসা স্কুল ও কলেজের দুজন শিক্ষককেও জোর করে সাদা কাগজে সই করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

‘পদত্যাগী’ শিক্ষকদের পদ ও মর্যাদা ফিরিয়ে দিনteacher

তবে এমন ঘটনা কয়টি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে হয়েছে, তার তথ্য দিতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ।

শিক্ষকরা এখন কেমন আছেন

‘পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক জোট’-এর সংগৃহীত তথ্য বলছে, হয়রানি, নির্যাতন, শারীরিক হামলা ও জোরপূর্বক পদত্যাগের শিকার হওয়ার পর হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকে অন্তত আটজন শিক্ষক মারা গেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার দোহারের জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ এস এম আব্দুল খালেক, চট্টগ্রামের হাজেরা তজু ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ এস এম আইয়ুব এবং বগুড়ার দুর্গাহাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম শফিক। এছাড়া, পাঁচ শতাধিক শিক্ষক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বিভিন্ন সময়ে।

হয়রানির শিকার শিক্ষকরা অর্থনৈতিকভাবেও বিপর্যয়ে পড়েছেন। এডুকেশন ইনফেরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের একজন কর্মকর্তা জানান, শুধু পদত্যাগের কারণে এখনো ৯৪০ থেকে এক হাজারের বেশি শিক্ষকের বেতন-ভাতা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “বকেয়া বেতন না পাওয়ায় চালের আড়তে কুলি বা বস্তা টানার কাজ, পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রির কাজ, রাস্তায় ভ্যানে ফল বিক্রি কিংবা ছোটখাটো দৈনিক শ্রমভিত্তিক কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন অনেক শিক্ষক। সন্তানদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার খরচ চালাতে না পেরে পড়ালেখা বন্ধ করে দিতে হয়েছে অনেককে। এছাড়া বহু শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ রাজনৈতিক মামলা।”

বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি চরচাকে বলেন, “এই শেষ বয়সে এসে ছেলে-মেয়েদেরকে নিয়ে, বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে শিক্ষকরা আজ কোথায় যাবেন? তারা একেবারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সংসার চালানোর জন্য শিক্ষকরা আজ যে কাজ করছেন, তা পুরো দেশের জন্য কলঙ্কের। যে শিক্ষকরা জীবনে কোনোদিন রাজনীতি করেননি, তাদের নামেও বড় বড় মামলা দিয়ে জেল হাজতে বা পলাতক (থাকতে বাধ্য) রাখা হয়েছে।”

শিক্ষকদের দাবি কী

নিজেদের অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষায় ভুক্তভোগী শিক্ষকরা সংগঠিত হয়ে গঠন করেছেন ‘পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক জোট’। ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামেন। পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ও মাউশি ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি, মানববন্ধন এবং স্মারকপত্র দেয় তারা।

শিক্ষকের পদত্যাগের পর ববিতে শিক্ষার্থীদের অনশন প্রত্যাহারBU

এই জোটের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- জবরদস্তিমূলক ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে নেওয়া সব পদত্যাগপত্র অবিলম্বে বাতিল করে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের সম্মানজনকভাবে স্বপদে পুনর্বহাল করা। একই সঙ্গে তদন্তের নামে অনাকাঙ্ক্ষিত কালক্ষেপণ বন্ধ করে স্থগিত থাকা সকল বকেয়া বেতন-ভাতা ও উৎসব ভাতা অবিলম্বে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে ছাড় দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া, শিক্ষকদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাশীল কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি মব তৈরি করা দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষকদের নামে দায়ের করা ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা’ মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আন্দোলনের বিষয়ে অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার চরচাকে বলেন, “আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত আন্দোলনে যেতে চাই না। বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা শুধু নিজেদের জীবন-জীবিকার মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা এবং সম্মানের সঙ্গে নিজ কর্মস্থলে ফেরার নিশ্চয়তা চাই।”

সরকারের সিদ্ধান্ত ও আদালতের রায় আছে, বাস্তবায়ন নেই

২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ শিক্ষকদের ‘অপমান ও পদত্যাগে বাধ্য করার’ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানান। ওই দিনই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাইফুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় মাঠ প্রশাসনকে পদত্যাগ বন্ধে কঠোর তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক পরিপত্রের মাধ্যমে বলপ্রয়োগ করে নেওয়া সব পদত্যাগপত্র আইনিভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করে।

২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। বলা হয়, তদন্ত চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা চালু রাখতে হবে এবং নির্দোষ প্রমাণিত হলে স্বপদে ফিরিয়ে আনতে হবে। এরপর ৭ এপ্রিল প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের পুনর্বহাল ও সরাসরি ইএফটির মাধ্যমে বেতন দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আদেশ দেওয়া হয়।

আইনি সুরক্ষাকে আরও জোরদার করতে ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এক রায়ে বলেন, ভীতি প্রদর্শন বা মব সৃষ্টি করে নেওয়া পদত্যাগপত্রের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। আদালত নির্দেশ দেন, রায় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ (ম্যানেজিং কমিটি) ভেঙে দেওয়া, সভাপতিকে অপসারণ করা এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এমপিও বন্ধ করতে হবে।

আদালতের এই আদেশের পর ৭ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী স্বাক্ষরিত এক নির্দেশে ইএফটি সিস্টেমে শিক্ষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত বেতন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?badhon-attack

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি সরকার পরিপত্র জারি করে জানায়, আক্রান্ত শিক্ষকদের বেতন আটকে রাখলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও সুবিধা সরাসরি বাতিল বা স্থগিত করা হবে।

তবে কাগজে-কলমে একের পর এক পরিপত্র ও আদালতের সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে মাঠপর্যায়ে সেগুলোর বাস্তবায়ন প্রায় শূন্য। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল, স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এবং অবৈধভাবে পদ দখলকারী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা সরকারি আদেশকে তোয়াক্কা করছেন না। জেলা শিক্ষা অফিসে পে-রোল ফরোয়ার্ড না করে কিংবা ইএফটি সিস্টেমে শিক্ষকদের তথ্য আপডেট করতে বাধা তৈরি করে শিক্ষকদের বেতন মাসের পর মাস আটকে রাখা হচ্ছে।

আসছে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ

শিক্ষাঙ্গনে মব সহিংসতা, শিক্ষক নির্যাতন ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করার বিষয়টি এবার গড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক তদন্তে।

জাতিসংঘের শিক্ষা অধিকারবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার ফরিদা শাহিদ নিরপেক্ষ তদন্ত করতে বাংলাদেশে আসছেন। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর ঢাকা অফিস এই তদন্তে তাকে সহায়তা দেবে।

পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক জোটের আহ্বানে ফরিদা শাহিদ ২৩ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকবেন। সফরকালে তিনি সরাসরি ভুক্তভোগী শিক্ষক, লাঞ্ছনার শিকার শিক্ষার্থী এবং মবের পর মৃত শিক্ষকদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলবেন।

এরই মধ্যে জাতিসংঘের শিক্ষা অধিকার কমিশন থেকে ভুক্তভোগীদের জন্য অনলাইনে বিশেষ ফর্ম পাঠানো হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ দুই হাজার শব্দের মধ্যে নির্যাতনের বিবরণ, মামলার নথিপত্র, অডিও, ভিডিও ও স্থিরচিত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। জোটের শিক্ষকরা প্রয়োজনীয় তথ্যের প্রমাণসংবলিত ফাইল জাতিসংঘের কাছে ইমেইল করেছেন বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক নেতারা আশা করছেন, দেশীয় প্রশাসনের অনীহা ও স্থানীয় বাধার মুখে বিচার না মিললেও আন্তর্জাতিক এই তদন্তের মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার পাবেন।

কী বলছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

মাঠপর্যায়ে মন্ত্রণালয়ের আদেশের তোয়াক্কা না করা এবং শিক্ষকদের বেতন বন্ধ থাকার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা যুগ্ম সচিব (কলেজ-১ অধিশাখা) সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী চরচাকে বলেন, “যাদেরকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো হয়েছে, তাদের বেতন চালু রাখা এবং স্বপদে বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম ছিল, তদন্তে যদি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবেই তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু অনেক স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটি মন্ত্রণালয়ের সেই আদেশ মানেনি। আমরা মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ দেওয়ার পরও স্থানীয় পর্যায়ে অনেকে তা প্রতিপালন করেনি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষককে মানতেই অস্বীকার করেছে এবং বেতনের কাগজপত্র ফরোয়ার্ড করেনি; ফলে অনেকেই নিয়মিত বেতন-ভাতা পাননি।”

একই বিভাগের যুগ্ম সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক অধিশাখা) মো. হেলালুজ্জামান সরকার বলেন, “কারও বেতন বন্ধ করা যাবে না, এই বিষয়ে আমরা একাধিকবার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি। জোরপূর্বক পদত্যাগের অনেকগুলো তদন্ত প্রতিবেদন আমরা ইতোমধ্যে পেয়েছি এবং সেগুলো পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তে শিক্ষকরা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও যদি কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের বেতন-ভাতা দিতে অনিচ্ছা বা শিথিলতা দেখায়, তবে সেই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের বেতন বন্ধের জন্য আমরা মাউশিকে বলে দিয়েছি। সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটির বেতন বন্ধও হয়েছে।”

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মব, শিক্ষক লাঞ্ছনা ও এর সামাজিক ক্ষতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ ড. মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ বিষয়টিকে শিক্ষা ব্যবস্থার ‘চরম অবনতি’ হিসেবে উল্লেখ করে চরচাকে বলেন, “কোনো ব্যক্তির অন্যায় বা দুর্নীতি থাকতে পারে, সেটার প্রমাণ সাপেক্ষে আইনি বিচার হওয়া দরকার। কিন্তু শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা বা তাকে অপমান করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটা এক ধরনের নেগেটিভ নোশন তৈরি করেছে। এর পেছনে রাজনৈতিক অবনমন কাজ করছে। যারা এই রাজনীতি হ্যান্ডেল করে, তারা ভালো মানুষ না; তারা খারাপ লোকদের প্রমোট করে ক্ষমতার প্র্যাকটিস করতে গিয়ে এই অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে।”

শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়া এবং এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়ে তিনি সতর্ক বলেন, “শিক্ষার্থী বা অন্য কারও ওপর হাত তোলার বা লাঞ্ছিত করার অধিকার নেই– এটা মানবাধিকার পরিপন্থী। ক্লাসরুমে শিক্ষার্থী শিক্ষককে লাঞ্ছিত করবে– এটা চরম একটি ব্যাড প্র্যাকটিস বা বাজে সংস্কৃতি তৈরি করে গেছে। এর দায়ভার রাজনৈতিক দল, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুরো সমাজ ব্যবস্থার ওপর বর্তায়।”

বিষয়: শিক্ষার্থীবিদ্যালয়শিক্ষকসহিংসতামব
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সিজিএসের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদে যারা রয়েছেন

  • ২

    উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে উত্তাল চুয়েট, বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা

  • ৩

    মবের শিকার ৪৫০০ শিক্ষক কেমন আছেন?

  • ৪

    বিসিএসের সাফল্য ছাপিয়ে নায়লার স্বপ্ন শিশুদের গড়া

  • ৫

    নিজ দেশেই কেন নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে ভারতীয়দের?

সম্পর্কিত
  • সেমিকন্ডাক্টর শিল্প: বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা, মিলিয়নে আটকে বাংলাদেশ

    সেমিকন্ডাক্টর শিল্প: বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা, মিলিয়নে আটকে বাংলাদেশ

    হাতের স্মার্টফোন থেকে শুরু করে অটোমোবাইল, কিংবা এই যে মহাকাশে রোবট পাঠাচ্ছে মানুষ, অথবা যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ যুদ্ধের যে সরঞ্জাম–এই সবকিছুর মধ্যে একটি বিষয় কিন্তু এক। আর তা হলো সেমিকন্ডাক্টর, যাকে বলা হয় ‘ডিজিটাল জ্বালানি’। এ ক্ষেত্রে মূল প্রতিযোগিতায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, তাইওয়ান, জাপানের মতো

  • সিগারেটের ব্যান্ডরোল: রাজস্ব আদায়ে খাওয়াচ্ছে ঘোল

    সিগারেটের ব্যান্ডরোল: রাজস্ব আদায়ে খাওয়াচ্ছে ঘোল

    সিগারেটের প্রতিটি প্যাকেটে থাকা ছোট্ট ব্যান্ডরোল শুধু একটি কাগজের ফিতা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারের বিপুল রাজস্ব আদায়ের হিসাব। কোন দামের সিগারেট, কত শলাকা উৎপাদন হচ্ছে এবং সেই উৎপাদনের বিপরীতে কত ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায় হওয়ার কথা, তা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই ব্যান্ডরোল ব্যবস্থা।

  • ৭ ইসলামী দলের ঐক্য কি আদৌ হবে?

    ৭ ইসলামী দলের ঐক্য কি আদৌ হবে?

    কওমিপন্থী অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে ৭ ইসলামী রাজনৈতিক দলের ঐক্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এই জোটের বাইরে অন্য কোনো জোটে থাকা যাবে না–এই শর্তে ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকা সব দল ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। এর বাইরেও আরো কয়েকটি শর্ত নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ আছে বলে জানা গেছে। তবে আলোচনার পথ এখনও

  • বরিশালের ৬ জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ ৮৭৩ স্কুলভবন, দুর্ঘটনার শঙ্কায় শিশুরা

    বরিশালের ৬ জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ ৮৭৩ স্কুলভবন, দুর্ঘটনার শঙ্কায় শিশুরা

    কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও দেয়ালে ফাটল, আবার কোনো ভবনের ছাদ থেকে বেরিয়ে এসেছে রড। বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এমন জরাজীর্ণ ভবনেই চলছে বরিশাল বিভাগের অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দুর্ঘটনার