Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৬ অক্টোবর, ২০২৬
২৬ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৬ অক্টোবর, ২০২৬
২৬ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> মতামত

নির্বাসন কি রাজনীতির শেষ অধ্যায়?

সহিদুল আলম স্বপন

সহিদুল আলম স্বপন

প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬: ৫৬
নির্বাসন কি রাজনীতির শেষ অধ্যায়?

রাজনীতির ইতিহাসে নির্বাসন নতুন কোনো ঘটনা নয়। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, মতাদর্শিক সংঘাত কিংবা রাষ্ট্রক্ষমতার কঠোর প্রয়োগে বহু রাজনৈতিক নেতা নিজ দেশ ছেড়ে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক সময় নির্বাসনকে রাজনৈতিক জীবনের শেষ অধ্যায় হিসেবে দেখা হলেও ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে—নির্বাসন প্রায়ই শেষ নয়; বরং তা নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।

Advertisement

বিশ্ব রাজনীতিতে এর বহু উদাহরণ রয়েছে। নেলসন ম্যান্ডেলা দীর্ঘ কারাবাসের পর প্রতিশোধ নয়, সমঝোতার রাজনীতি বেছে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। ইরানে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নির্বাসন ও প্রত্যাবর্তন রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামোই বদলে দেয়। আবার পাকিস্তানে বেনজির ভুট্টোর প্রত্যাবর্তন গণতান্ত্রিক আশা জাগালেও রাজনৈতিক অস্থিরতা পুরোপুরি দূর করতে পারেনি। এসব অভিজ্ঞতা দেখায়—প্রত্যাবর্তন কখনো স্থিতি আনে, কখনো নতুন সংকট সৃষ্টি করে। পার্থক্য গড়ে দেয় রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার আচরণ।

এই বাস্তবতা আমাদের একটি মৌলিক সত্যের সামনে দাঁড় করায়, নির্বাসন কোনো রাজনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। এটি সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতিকে আরও অনিশ্চিত করে তোলে। কারণ নির্বাসনের মাধ্যমে সমস্যা দূর হয় না; সমস্যা কেবল দেশের সীমানার বাইরে সরে যায়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও নির্বাসন, আত্মগোপন ও প্রবাসে অবস্থানের নজির রয়েছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপ রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করেনি; বরং রাজনীতিকে আরও সংঘাতমুখর করেছে। ভিন্নমত দমন করে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না—এ অভিজ্ঞতা এখন স্পষ্ট।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

নির্বাসিত নেতাদের দেশে ফেরা সাধারণত তিনটি প্রশ্ন সামনে আনে: রাষ্ট্র কি ভিন্নমত গ্রহণে প্রস্তুত, নেতৃত্ব কি প্রতিশোধের বদলে দায়িত্বশীলতার পথ বেছে নেবে এবং সমাজ কি সংঘাত নয়—সংলাপকে অগ্রাধিকার দেবে? এই তিনটির ভারসাম্যই ঠিক করে দেয় প্রত্যাবর্তন রাজনীতিকে স্থিতিশীল করবে, নাকি আরও জটিল করে তুলবে।

১৮ বছর পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক প্রতীকী মুহূর্ত। এটি কেবল একটি ব্যক্তির প্রত্যাবর্তন নয়; বরং নির্বাসিত রাজনীতির দীর্ঘ এক অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং গণতন্ত্রকে তার স্বাভাবিক মাটিতে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত। গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে দেশের ভেতরেই—জনমতের মাঝে, ভোটের বাক্সে এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মাঠে।

ইতিহাস কোনো পক্ষ নেয় না; ইতিহাস কেবল ফলাফল লিপিবদ্ধ করে। নির্বাসন থেকে ফিরে আসা নেতারা তখনই ইতিহাসে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন, যখন তারা ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়, জাতীয় দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বাংলাদেশের জন্যও আজ সেই শিক্ষাই প্রাসঙ্গিক—রাজনীতির সমাধান রাজনীতির ভেতরেই খুঁজতে হবে, দেশের বাইরে নয়।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

*লেখক সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ; কলামিস্ট ও কবি

বিষয়: গণতন্ত্ররাজনীতিমুক্ত মতমুক্ত আলোচনানির্বাসন
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    ‘মার্কিন তরুণীকে বাঁচাতে বিল ক্লিনটন বাংলাদেশের কাছে তদবির করেছিলেন’

  • ২

    বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামের আগুন বাংলাদেশে ছোঁবে কি?

  • ৩

    সাদা ছড়ি হাতে, পথটা কি নিরাপদ?

  • ৪

    মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশের আমিনুল

  • ৫

    বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।