Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> মতামত

ফ্রান্সের পথে পথে: নির্বাচনী প্রচারণায় শৃঙ্খলা আর জনগণের অংশগ্রহণের অনন্য উদাহরণ

শাহাবুদ্দিন শুভ

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ২০: ১৫
ফ্রান্সের পথে পথে: নির্বাচনী প্রচারণায় শৃঙ্খলা আর জনগণের অংশগ্রহণের অনন্য উদাহরণ

বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রচারণা মানে উৎসব, প্রতিযোগিতা আর উত্তেজনার মিশেল। সেখানে সময়ের হিসাব কখনোই খুব কঠোর থাকে না। সভা শুরু হতে হতে ঘণ্টা পেরিয়ে যায়। কিন্তু ফ্রান্সে এসে দেখলাম সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। যেখানে সময়, শৃঙ্খলা ও অংশগ্রহণ মিলে তৈরি হয়েছে এক অনন্য গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। লু ক্রুসো (Le Creusot) শহরের মেয়র ডেভিড মার্টির নির্বাচনী প্রচারণার উদ্বোধনী সভায় উপস্থিত থেকে আমি যেন দেখলাম গণতন্ত্রের এক নতুন পাঠ।

Advertisement

সভাস্থলে প্রথম অভিজ্ঞতা

আমরা প্রতিনিয়ত কত কিছু জানি, কত কিছু শিখি। তেমনি এক নতুন অভিজ্ঞতা হলো ফ্রান্সে নির্বাচনী প্রচারণা দেখা। বাংলাদেশে একটা সংসদীয় আসনের নির্বাচনে পরিচালনার অভিজ্ঞতা আমার আছে। জানি, নির্বাচন মানে কত রকম দৌড়ঝাঁপ, কত ব্যস্ততা, কত জটিলতা। বিশেষ করে সভার সময় মানুষ জড়ো করা, তাদের ধরে রাখা, প্রার্থী আসার অপেক্ষা, মাইকের ঝামেলা—সব মিলিয়ে সেটি এক বিশাল কর্মযজ্ঞ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

Election campaign in France 3

কিন্তু ফ্রান্সে এসে দেখলাম সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। লু ক্রুসোর মেয়র ডেভিড মার্টির নির্বাচনী প্রচারণার উদ্বোধনী সভায় আমি উপস্থিত ছিলাম। সভা শুরু হওয়ার কথা ছিল সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে। আমি গেলাম প্রায় আধা ঘণ্টা আগে। মিলনায়তনে তখন হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ, ৭-৮ জনের বেশি নয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, প্রার্থী নিজেই তখন উপস্থিত! তিনি নিজে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছেন, কথা বলছেন, হাসিমুখে পরিবেশটা উষ্ণ করে তুলছেন।

আমি মনে মনে ভাবছি, ‘এই সভা কি সফল হবে?’ কিন্তু মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই আমার ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো—মিলনায়তন কানায় কানায় পূর্ণ, মানুষের ঢল নেমে এল। নির্ধারিত আসনের চেয়ে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ বেশি উপস্থিত হয়েছিলেন। সময় মতো সভা শুরু হলো, কোনো বিশৃঙ্খলা নয়, কেবল সংগঠন, শৃঙ্খলা আর সম্মান।

সভা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

মঞ্চটি ছিল বড় ও সুসজ্জিত। ডান পাশে বাদ্যযন্ত্রীরা (মিউজিশিয়ান) তাদের বাদ্যযন্ত্র সাজিয়ে রেখেছেন, মাঝখানে ৬ জনের বসার আসন, আর বাঁ পাশে দুটি ডায়াস। ডেভিড মার্টি নিজে মঞ্চে উঠে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিলেন। মাত্র ৭-৮ মিনিটে তিনি তাঁর মূল বার্তা শেষ করেন।

Election campaign in France 2

এরপরই শুরু হয় সুরের ছোঁয়া। একদল শিল্পী পরিবেশন করলেন সংগীত। তারপর একজন বিশেষজ্ঞ মঞ্চে ওঠেন, সঙ্গে ৬ জন প্যানেলিস্ট; তারা শহরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নাগরিক প্রত্যাশা ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেন। ডেভিড মনোযোগ দিয়ে নোট নিলেন, মাঝে মাঝে সরাসরি উত্তরও দিলেন। এই সেশন শেষ হলে আবার সংগীত, এরপর আরও ৬ জন বিশেষজ্ঞ মঞ্চে উঠে তাদের মতামত তুলে ধরলেন।

সব মিলিয়ে এটি ছিল গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের এক জীবন্ত উদাহরণ। কোনো বিলম্ব নেই, কোনো হট্টগোল নেই; বরং সবার জন্য সুযোগ, শ্রদ্ধা ও সময়ের মূল্যায়ন। আমি উপলব্ধি করলাম, গণতন্ত্র কেবল ভোটের অধিকার নয়, এটি এক সংস্কৃতি, যেখানে সময়, শৃঙ্খলা ও শ্রদ্ধা একসঙ্গে কাজ করে।

ডেভিড মার্টির ইতিবাচক নেতৃত্ব

সভায় ডেভিড মার্টি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, বিনয়ী ও সংযত ভাষায় কথা বলা এক নেতা।
তিনি বলেন, ‘লু ক্রুসো মানে আপনারা। আপনারাই এই শহরের প্রাণ। আপনাদের উপস্থিতিই আমাদের কাজের স্বীকৃতি।’

Election campaign in France 4

তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট —লু ক্রুসো এমন একটি শহর হবে, যা কাজ করে, উদ্ভাবন করে, এবং প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভবিষ্যতের প্রতি বিশ্বাস রাখে।

তিনি এই সভাকে শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রচারণা নয়, বরং নাগরিক অংশগ্রহণের উৎসব হিসেবে দেখেছেন।

সভায় দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা দেন তাঁর নির্বাচনী স্লোগান: ‘Le Creusot, un avenir, une ambition 2026’ অর্থাৎ, লু ক্রুসো: এক ভবিষ্যৎ, এক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ২০২৬।

মেয়রের প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা

ডেভিড মার্টি স্পষ্ট করে বলেন, তার রাজনীতি হবে বাস্তব কাজের রাজনীতি, প্রতিশ্রুতির নয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতির রাজনীতি করি না, আমরা বাস্তবায়নের রাজনীতি করি।’

তার বক্তব্যে উঠে আসে কয়েকটি অনুপ্রেরণাদায়ক পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি —*মানবিক ও সংহত শহর গঠন, লু ক্রুসোকে এমন এক শহরে পরিণত করা, যেখানে জাতি, ধর্ম, ভাষা বা বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একে অপরের পাশে থাকবে।

ডেভিট মার্টির সঙ্গে লেখক
ডেভিট মার্টির সঙ্গে লেখক

*নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি

তিনি ঘোষণা দেন, নাগরিকদের মতামতের ভিত্তিতেই নির্বাচনী প্রোগ্রাম তৈরি হবে।
প্রথম কর্মশালা হবে ৩০ অক্টোবর, যেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি মতামত দিতে পারবেন।

*উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের ধারাবাহিকতা

শহরের শিক্ষা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

*ঐক্য ও সহাবস্থানের রাজনীতি

তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল—‘আমরা বিভাজনের নয়, ঐক্যের পক্ষে।’

এই বার্তা শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীকও বটে।

দর্শকদের প্রত্যাশা ও সংলাপ

সভায় উপস্থিত নাগরিকেরাও ছিলেন সক্রিয় ও প্রশ্নমুখর। তারা সরাসরি মেয়রের কাছে জানতে চেয়েছেন শহরের নিরাপত্তা, যুবকদের কর্মসংস্থান, সামাজিক সেবা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে। ডেভিড মার্টি প্রত্যেকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন, প্রয়োজনে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শক্তি হলো জনগণ। লু ক্রুসো মানে আপনাদের আশা, আপনাদের স্বপ্ন।’ তার এই অংশগ্রহণমূলক আচরণ প্রমাণ করে, তিনি কেবল বক্তা নন, একজন শ্রোতাও। রাজনীতিতে এমন শ্রদ্ধাশীল মনোভাব সত্যিই প্রশংসনীয়।

Election campaign in France 5

এই নির্বাচনী প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, তাদের মধ্যে ছিলেন বুরগুন্দি ফ্রঁশ-কমতে অঞ্চলের সভাপতি জেরোম ডুরাঁ, ইউরোপীয় সংসদের সংসদ সদস্য মুরিয়েল লরঁ এবং গ্রুপ এসওএস সাঁতে ও সিনিয়রের সহসভাপতি গি সেব্বা।

আমাকে অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সালিহা মাখলুফ-মেদজগাল, যিনি ইনস্টিটিউশনাল ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক পরিচালক হিসেবে ক্রুসো-মন্তসো নগর বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন।

পরিশেষে যা বলতে চাই ডেভিড মার্টির এই সভা আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এটি আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে, রাজনীতি কেবল ক্ষমতার খেলা নয়, এটি মানুষকে একত্রিত করার এক শিল্প। সভা শেষে ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত লা মার্সেইয়েজ গেয়ে সবাই দাঁড়িয়ে গেলেন।

সেই মুহূর্তে আমি অনুভব করলাম, প্রজাতন্ত্র মানে শুধু পতাকা নয়, এটি এক অদৃশ্য বন্ধন, যা মানুষকে একত্রে বেঁধে রাখে।

লু ক্রুসোর মেয়র ডেভিড মার্টি সেই বন্ধনেরই প্রতীক—একজন নেতা, যিনি মানুষের সঙ্গে, মানুষের জন্য এবং মানুষের ভেতর থেকেই নেতৃত্ব দেন।


*লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ইমেইল: [email protected]

বিষয়: ফ্রান্সনির্বাচনসভানির্বাচনী প্রচারণা
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    নামে হিটলার-মুসোলিনি, আদর্শে বামপন্থী, জিতে গেছেন নির্বাচনে

  • ২

    জনশক্তি রপ্তানির গণ্ডি ছাড়িয়ে ঢাকা-রিয়াদকে বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়তে হবে

  • ৩

    নতুন গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’-এ গুরুত্ব ঢাকার, কেন?

  • ৪

    ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী নিয়ে করা প্রশ্নগুলোর ইন্টেনশন ঠিক নাই’

  • ৫

    ‘এনজিও সরকার ২ বছরের শাসনে দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেল’

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।