Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> মতামত

সিলেট কি নিরাপত্তাহীনতার পথে হাঁটছে?

শাহাবুদ্দিন শুভ

প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬, ১৬: ৫৮
সিলেট কি নিরাপত্তাহীনতার পথে হাঁটছে?

সিলেট শহরের প্রতি আমার ভালোবাসাটা সত্যিই অন্যরকম। এই শহরের প্রেমে পড়েছি সেই কলেজ জীবনে। জীবনের নানা প্রয়োজনে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হয়েছে, তবুও কেন যেন এই শহরটাকে কখনো ভুলতে পারিনি। মনে হয় হৃদয়ের ভেতর কোথাও সিলেট স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই শহরের কোনো সুখবর শুনলে মন আনন্দে ভরে ওঠে। আবার যখন কোনো খারাপ খবর দেখি, তখন মনটা অকারণে ভারী হয়ে যায়। মানুষের জীবনে যেমন প্রথম প্রেমের স্মৃতি কখনো মুছে যায় না, তেমনি আমার কাছে শহরের ক্ষেত্রে সেই জায়গাটা দখল করে আছে সিলেট।

আজ সিলেট নিয়ে লিখতে বসার পেছনে একটি বিশেষ কারণ আছে। মাত্র নয় দিনের ব্যবধানে নগরীতে ঘটেছে দুটি চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের ঘটনা। উদ্বেগের বিষয় হলো—দুটি ঘটনাই ঘটেছে প্রকাশ্যে, দিনদুপুরে। শুধু তাই নয়, ঘটনাগুলোর সিসিটিভি ফুটেজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অথচ এত কিছুর পরও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সবশেষ গত বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর সাগরদিঘিরপাড় এলাকায় ঘটে আরেকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা। যদিও পুলিশের দাবি—এটি পুরোপুরি ছিনতাই নয়, বরং ছিনতাইয়ের চেষ্টা ছিল। কারণ ছিনতাইকারীরা শেষ পর্যন্ত কোনো কিছু নিয়ে যেতে পারেনি। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এভাবে প্রকাশ্যে একজন নারীকে আক্রমণ করে ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা যদি ছিনতাই না হয়, তবে সেটিকে কী বলা হবে?

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় আরেকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সেদিন বেলা ৩টার দিকে এক নারী কর কর্মকর্তা ছিনতাইয়ের শিকার হন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছিনতাইকারীরা এসে ওই নারীকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করে। এরপর তারা জোরপূর্বক তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়।

এই ঘটনাটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই সেই ফুটেজ দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য—ঘটনার পর এতদিন পার হয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে সাগরদিঘিরপাড়ের ঘটনাতেও শুক্রবার রাত পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—পুলিশ কি সত্যিই অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারছে না, নাকি অন্য কোনো অদৃশ্য বাধা কাজ করছে?

সাগরদিঘিরপাড়ের ঘটনাটি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বেশ নাড়া দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ছিনতাইকারীরা যেভাবে ওই নারীকে আঘাত করতে শুরু করেছিল, তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। সামান্য একটু এদিক-ওদিক হলেই হয়তো বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারত।

সিলেট এমন একটি শহর যেখানে অসংখ্য প্রবাসী পরিবারের বসবাস। এখানে অনেক নারী তাদের সন্তানদের পড়ালেখার জন্য একা বসবাস করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের স্বামীরা বিদেশে কর্মরত থাকেন। ফলে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের শহরে একাই থাকতে হয়। এই বাস্তবতার মধ্যে যদি দিনের আলোয় এমন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতে থাকে, তবে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক বাড়বে। অনেক মা হয়তো সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়ার কথা ভাববেন। কিন্তু তাতে করে সন্তানদের শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বর্তমানে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়েও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এখন আর দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। অপরাধীরা যদি প্রকাশ্যে দিনের আলোয় এমন দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটিয়ে পার পেয়ে যায়, তাহলে সেটি শুধু একটি ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং তা ধীরে ধীরে সমাজে অপরাধীদের উৎসাহিত করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়িয়ে তোলে।

লেখক

আজকের যুগে সিসিটিভি প্রযুক্তি অপরাধ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। নগরীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ক্যামেরায় যদি অপরাধীদের গাড়ি, মুখ কিংবা চলাচলের পথ ধরা পড়ে থাকে, তাহলে সেগুলো বিশ্লেষণ করে দ্রুত তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হওয়ার কথা। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও কেন অপরাধীরা এখনও ধরা পড়ছে না? তদন্তে কি কোনো গাফিলতি রয়েছে, নাকি অপরাধীরা কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া পাচ্ছে? শহরের বিভিন্ন মহলে ইতোমধ্যেই এ ধরনের প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।

সিলেট একটি সম্ভাবনাময় শহর। প্রবাসীদের অবদানে এই শহরের অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হয়েছে, তেমনি শিক্ষা ও সংস্কৃতিতেও এর আলাদা একটি পরিচিতি রয়েছে। এই শহরের ভাবমূর্তি রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।

তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নাগরিকদের প্রত্যাশা খুবই স্পষ্ট—দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক। এতে শুধু অপরাধ দমনই হবে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে।

আমরা যারা সিলেটকে ভালোবাসি, তারা চাই এই শহরটি আবার আগের মতোই নিরাপদ, শান্ত ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠুক। কারণ সিলেট শুধু একটি শহরের নাম নয়—অনেকের আবেগ, স্মৃতি এবং ভালোবাসার আরেকটি নাম।

শাহাবুদ্দিন শুভ: সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক

ইমেইল: [email protected]

বিষয়: ছিনতাইমুক্ত মতনিরাপত্তাসিলেটমুক্ত আলোচনাআইনশৃঙ্খলা
সর্বশেষ
  • ১

    ‘ছড়িয়ে পড়া’ চিরকুট কি এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের?

  • ২

    রাবি শিক্ষার্থীকে পিটুনি: রেলের ৪ কর্মী বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি

  • ৩

    নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি প্রত্যাখ্যান ওলির

  • ৪

    নগদ অ্যাপে আইএফআইসি ব্যাংকের সঞ্চয় ও ঋণসেবার সমঝোতা চুক্তি

  • ৫

    নেপালে ওয়ালটন প্লাজার ‘তুষার যাত্রা’ অনুষ্ঠিত

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।