তাসীন মল্লিক

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামানজার শ্যামা খানের সম্পদের পরিমাণ স্বামীর চেয়ে ৫২ গুণ বেশি।
হুম্মাম কাদের ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী ও গণসংহতি আন্দোলনসহ কয়েকটি দলের শীর্ষ প্রার্থীদের চেয়ে তাদের স্ত্রীর সম্পত্তির পরিমাণ কয়েকগুণ। নির্বাচনী হলফনামায় প্রায়শই এ ঘটনা দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হলফনামায় সম্পত্তির তথ্য দেখে ভোটাররা প্রার্থীর সততা যাচাই করতে পারেন। ফলে কোন প্রার্থী এবং তার স্ত্রীর সম্পদে ‘অস্বাভাবিক বৈসাদৃশ্য’ থাকলে ভোটাররা তা বুঝেই ব্যালট বাক্সে নিজেদের মতের প্রতিফলন ঘটাবেন।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি চরচাকে বলেন, ‘‘হলফনামাটা দেওয়াই হয় যেন ভোটাররা প্রার্থীর সম্বন্ধে ধারণা নিতে পারে। জাজমেন্টের ব্যাপারটা থাকে আসলে ভোটারদের উপর। ভোটাররা জাজ করতে পারে যে– প্রার্থী ভদ্রলোকের স্ত্রীর এত কেন সম্পত্তি কীভাবে হল?’’
নির্বাচন আয়োজনের আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ধারা ১২ এর দফা ৩(খ) অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তির হলফনামা বাধ্যতামূলক। যেখানে প্রার্থীর নিজের এবং তার নির্ভরশীলদের সম্পদের বিবরণ দিতে হয়।
নির্বাচনের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর হলফনামা দাখিলের পর ভোটারদের মাঝে তা প্রচারের বাধ্যবাধকতা আইনে রয়েছে। ইসি সে হলফনামা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হলফনামার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রার্থী ও তার নির্ভরশীলদের সম্পদের বিশ্লেষণ প্রকাশের সুযোগও আইনে রয়েছে।
প্রার্থীদের ধনী স্ত্রীরা
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের তুলনায় তার স্ত্রী ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরীর সম্পদ প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। চিকিৎসক ও চাকরিজীবী হাবিবার মোট স্থাবর সম্পদ পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
তাহেরের নামে ১০ শতক কৃষি ও ১৫ শতক অকৃষি জমি রয়েছে, যার মূল্য ২২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে ০.৮ একর ১৫ কাঠা জমি (৩২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৫ টাকা) এবং তিনটি বাড়ি (৩ কোটি ২২ লাখ ৫৩ হাজার ৭০০ টাকা) রয়েছে। ব্যাংকে তার স্ত্রীর জমা, সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে অস্থাবর সম্পদ ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তাহেরের হাতে নগদ ৫১ লাখ ৮ হাজার ২২৪ টাকা এবং স্ত্রীর নগদ ২১ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা রয়েছে।
ভোলা-৩ (লালমোহন–তজুমদ্দিন) আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের তুলনায় তার স্ত্রী দিলারা হাফিজের সম্পদ প্রায় দ্বিগুণ। হলফনামা অনুযায়ী হাফিজ উদ্দিন আহমদের মোট সম্পদ ১ কোটি ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭০ টাকা।
অন্যদিকে দিলারা হাফিজের সম্পদ ২ কোটি ৫৮ লাখ ৬১ হাজার ১৫১ টাকা। হাফিজের সম্পদের মধ্যে বনানীর পাঁচতলা ভবন, যানবাহন ও অন্যান্য সম্পদ রয়েছে। দিলারার সম্পদের বড় অংশ সঞ্চয়পত্র, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ও বিনিয়োগ। চলতি অর্থবছরে হাফিজ আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৪৭ টাকা এবং তার স্ত্রী দিয়েছেন ২ লাখ ৯৬ হাজার ২৫৪ টাকা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ আড়াই গুণের বেশি। হলফনামা অনুযায়ী প্রকাশক জোনায়েদ সাকির মোট সম্পদ ৪৬ লাখ ৬২ হাজার ৬০২ টাকা এবং শিক্ষক ও আলোকচিত্রী তাসলিমা আক্তারের সম্পদ ১ কোটি ২২ লাখ ৯৩ হাজার ৩০৪ টাকা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাকির বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৭২ হাজার ৯৩৬ টাকা ও স্ত্রীর আয় ২৩ লাখ ৯ হাজার ২১১ টাকা। সাকির নামে ১১ একর অকৃষি জমি ও ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা অগ্রিম জমা আছে। স্ত্রীর নামে কৃষিজমি, একটি ফ্ল্যাট ও একটি দোকান রয়েছে। সাকি আয়কর দিয়েছেন ৩৭ হাজার ৬৪০ টাকা এবং তার স্ত্রী ২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৪৮ টাকা।
প্রার্থীর চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ বেশি এমন তালিকায় আরও রয়েছেন– সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির।
আইনে ব্যতয় নেই
সম্পদ গোপনের অভিপ্রায় থেকেই প্রার্থীরা স্ত্রীর সম্পদ বেশি প্রদর্শন করলেও আইনত এটি অবৈধ নয় বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এমনকি এসব ক্ষেত্রে ইসির এখতিয়ারও সীমিত বলে জানিয়েছেন তারা।
ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্সের (ফেমা) সভাপতি মুনিরা খান চরচাকে বলেন, ‘‘অনেকের স্ত্রী বাবার দিক থেকে সম্পদের অধিকারী হন। কারও কারও স্ত্রী চিকিৎসক ও উচ্চপদে চাকরিও করেন। স্ত্রীর সম্পদ বেশি হতেই পারে। ফলে হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর সম্পদ উল্লেখ করার ক্ষেত্রে আমরা সততা প্রত্যাশা করতে পারি।’’
স্ত্রীকে ধনী দেখিয়ে কোনো প্রার্থী নিজের সম্পদ গোপন করলে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার ইসির নেই বলে জানিয়েছেন জেসমিন টুলি। তিনি চরচাকে বলেন, ‘‘সম্পদ গোপন করা ঠেকানো বা যে গোপন করছে তাকে আইনের আওতায় আনা, এটা তো ইলেকশন কমিশনের কাজ না। এগুলো দুর্নীতি দমন কমিশন এবং এনবিআরের কাজ। ইলেকশন কমিশনের কাজ সঠিকভাবে নির্বাচন করা।’’
প্রার্থীর চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ বেশি হওয়া নিয়ে অনেক সময়ই প্রশ্ন ওঠে। প্রশ্নটির উত্তরও হয়তো সহজ। স্ত্রীর সম্পদ বেশি দেখিয়ে আদতে প্রার্থী নিজের সম্পদের পরিমাণ গোপন করতে চান। সম্পদ গোপনের মধ্য দিয়ে হয়তো প্রার্থী নির্বাচনী আইনের বাধ্যবাধকতাগুলো এড়িয়ে যেতে চান। আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও বিষয়টি কতটুকু নৈতিক সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামানজার শ্যামা খানের সম্পদের পরিমাণ স্বামীর চেয়ে ৫২ গুণ বেশি।
হুম্মাম কাদের ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী ও গণসংহতি আন্দোলনসহ কয়েকটি দলের শীর্ষ প্রার্থীদের চেয়ে তাদের স্ত্রীর সম্পত্তির পরিমাণ কয়েকগুণ। নির্বাচনী হলফনামায় প্রায়শই এ ঘটনা দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হলফনামায় সম্পত্তির তথ্য দেখে ভোটাররা প্রার্থীর সততা যাচাই করতে পারেন। ফলে কোন প্রার্থী এবং তার স্ত্রীর সম্পদে ‘অস্বাভাবিক বৈসাদৃশ্য’ থাকলে ভোটাররা তা বুঝেই ব্যালট বাক্সে নিজেদের মতের প্রতিফলন ঘটাবেন।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি চরচাকে বলেন, ‘‘হলফনামাটা দেওয়াই হয় যেন ভোটাররা প্রার্থীর সম্বন্ধে ধারণা নিতে পারে। জাজমেন্টের ব্যাপারটা থাকে আসলে ভোটারদের উপর। ভোটাররা জাজ করতে পারে যে– প্রার্থী ভদ্রলোকের স্ত্রীর এত কেন সম্পত্তি কীভাবে হল?’’
নির্বাচন আয়োজনের আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ধারা ১২ এর দফা ৩(খ) অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তির হলফনামা বাধ্যতামূলক। যেখানে প্রার্থীর নিজের এবং তার নির্ভরশীলদের সম্পদের বিবরণ দিতে হয়।
নির্বাচনের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর হলফনামা দাখিলের পর ভোটারদের মাঝে তা প্রচারের বাধ্যবাধকতা আইনে রয়েছে। ইসি সে হলফনামা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হলফনামার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রার্থী ও তার নির্ভরশীলদের সম্পদের বিশ্লেষণ প্রকাশের সুযোগও আইনে রয়েছে।
প্রার্থীদের ধনী স্ত্রীরা
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের তুলনায় তার স্ত্রী ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরীর সম্পদ প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। চিকিৎসক ও চাকরিজীবী হাবিবার মোট স্থাবর সম্পদ পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
তাহেরের নামে ১০ শতক কৃষি ও ১৫ শতক অকৃষি জমি রয়েছে, যার মূল্য ২২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে ০.৮ একর ১৫ কাঠা জমি (৩২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৫ টাকা) এবং তিনটি বাড়ি (৩ কোটি ২২ লাখ ৫৩ হাজার ৭০০ টাকা) রয়েছে। ব্যাংকে তার স্ত্রীর জমা, সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে অস্থাবর সম্পদ ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তাহেরের হাতে নগদ ৫১ লাখ ৮ হাজার ২২৪ টাকা এবং স্ত্রীর নগদ ২১ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা রয়েছে।
ভোলা-৩ (লালমোহন–তজুমদ্দিন) আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের তুলনায় তার স্ত্রী দিলারা হাফিজের সম্পদ প্রায় দ্বিগুণ। হলফনামা অনুযায়ী হাফিজ উদ্দিন আহমদের মোট সম্পদ ১ কোটি ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭০ টাকা।
অন্যদিকে দিলারা হাফিজের সম্পদ ২ কোটি ৫৮ লাখ ৬১ হাজার ১৫১ টাকা। হাফিজের সম্পদের মধ্যে বনানীর পাঁচতলা ভবন, যানবাহন ও অন্যান্য সম্পদ রয়েছে। দিলারার সম্পদের বড় অংশ সঞ্চয়পত্র, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ও বিনিয়োগ। চলতি অর্থবছরে হাফিজ আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৪৭ টাকা এবং তার স্ত্রী দিয়েছেন ২ লাখ ৯৬ হাজার ২৫৪ টাকা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ আড়াই গুণের বেশি। হলফনামা অনুযায়ী প্রকাশক জোনায়েদ সাকির মোট সম্পদ ৪৬ লাখ ৬২ হাজার ৬০২ টাকা এবং শিক্ষক ও আলোকচিত্রী তাসলিমা আক্তারের সম্পদ ১ কোটি ২২ লাখ ৯৩ হাজার ৩০৪ টাকা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাকির বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৭২ হাজার ৯৩৬ টাকা ও স্ত্রীর আয় ২৩ লাখ ৯ হাজার ২১১ টাকা। সাকির নামে ১১ একর অকৃষি জমি ও ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা অগ্রিম জমা আছে। স্ত্রীর নামে কৃষিজমি, একটি ফ্ল্যাট ও একটি দোকান রয়েছে। সাকি আয়কর দিয়েছেন ৩৭ হাজার ৬৪০ টাকা এবং তার স্ত্রী ২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৪৮ টাকা।
প্রার্থীর চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ বেশি এমন তালিকায় আরও রয়েছেন– সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির।
আইনে ব্যতয় নেই
সম্পদ গোপনের অভিপ্রায় থেকেই প্রার্থীরা স্ত্রীর সম্পদ বেশি প্রদর্শন করলেও আইনত এটি অবৈধ নয় বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এমনকি এসব ক্ষেত্রে ইসির এখতিয়ারও সীমিত বলে জানিয়েছেন তারা।
ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্সের (ফেমা) সভাপতি মুনিরা খান চরচাকে বলেন, ‘‘অনেকের স্ত্রী বাবার দিক থেকে সম্পদের অধিকারী হন। কারও কারও স্ত্রী চিকিৎসক ও উচ্চপদে চাকরিও করেন। স্ত্রীর সম্পদ বেশি হতেই পারে। ফলে হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর সম্পদ উল্লেখ করার ক্ষেত্রে আমরা সততা প্রত্যাশা করতে পারি।’’
স্ত্রীকে ধনী দেখিয়ে কোনো প্রার্থী নিজের সম্পদ গোপন করলে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার ইসির নেই বলে জানিয়েছেন জেসমিন টুলি। তিনি চরচাকে বলেন, ‘‘সম্পদ গোপন করা ঠেকানো বা যে গোপন করছে তাকে আইনের আওতায় আনা, এটা তো ইলেকশন কমিশনের কাজ না। এগুলো দুর্নীতি দমন কমিশন এবং এনবিআরের কাজ। ইলেকশন কমিশনের কাজ সঠিকভাবে নির্বাচন করা।’’
প্রার্থীর চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ বেশি হওয়া নিয়ে অনেক সময়ই প্রশ্ন ওঠে। প্রশ্নটির উত্তরও হয়তো সহজ। স্ত্রীর সম্পদ বেশি দেখিয়ে আদতে প্রার্থী নিজের সম্পদের পরিমাণ গোপন করতে চান। সম্পদ গোপনের মধ্য দিয়ে হয়তো প্রার্থী নির্বাচনী আইনের বাধ্যবাধকতাগুলো এড়িয়ে যেতে চান। আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও বিষয়টি কতটুকু নৈতিক সে প্রশ্ন থেকেই যায়।