Advertisement Banner

সরকারের ১০০ দিনের পদক্ষেপে জনজীবনে স্বস্তি ফিরেছে: মাহদী আমিন

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
সরকারের ১০০ দিনের পদক্ষেপে জনজীবনে স্বস্তি ফিরেছে: মাহদী আমিন
মাহদী আমিন। ছবি: চরচা

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, “জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের মাত্র ১০০ দিনের পথচলাতেই দেশের নানা ক্ষেত্রে দৃশ্যমান, সুষম ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। একইসঙ্গে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষমতায়ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার এক নতুন, দৃঢ় ও ইতিবাচক মেলবন্ধন। গৃহীত বহুমুখী ও যুগোপযোগী পদক্ষেপের ফলে জনজীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও শৃঙ্খলা।”

‘সরকারের ১০০ দিন’ পূর্তি উপলক্ষে আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। এ সময় তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি, শিশু রামিসার সঙ্গে এক ভয়াবহ ও নৃশংস অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা তার বাসায় গিয়ে পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ইতোমধ্যেই চার্জশিট দাখিল হয়েছে। একই সঙ্গে নিপীড়িত পরিবারের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন, যা মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।”

মেহেরপুরের একটি ঘটনা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, “দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আরও একটি উল্লেযোগ্য উদাহরণ হলো: মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক আসামিকে আদালতের মৃত্যুদণ্ড প্রদান। মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এ মামলার রায় ঘোষণা দেশের বিচারব্যবস্থায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক বিরল নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।”

তনু ও ওসমান হাদি হত্যা মামলার অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, “এক দশক পর তনু হত্যা মামলার প্রথম আসামিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের পথ আরও সুগম হয়েছে। একইভাবে শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিকে ভারতে দ্রুত শনাক্ত করা হয়েছে এবং দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলমান।”

মাহদী বলেন, “বর্তমান সরকার গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্য সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি, এই নজিরবিহীন স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, অশোভন আচরণ ও অশালীন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরির যে প্রয়াস চলছে, তা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর।”

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, “গুম-খুন, হামলা-মামলা এবং দমন-পীড়নের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রীসভা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মোট ১০টি কেবিনেট সভা সম্পন্ন করেছে। এসব সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত, অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ, ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৩টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সরকার গঠনের পর এত স্বল্প সময়ে মন্ত্রীসভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের উল্লেখযোগ্য অংশ কার্যকর করতে সক্ষম হওয়া সরকারের দ্রুততা, কার্যকারিতা ও আন্তরিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”

সম্পর্কিত