চরচা ডেস্ক

ব্যবসায়িক জগতে কোকাকোলা ও পেপসির মতো এত তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কমই দেখা যায়। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই দুই পক্ষ কোমল পানীয়র বাজারে আধিপত্য বিস্তারের জন্য লড়ে যাচ্ছে। আর এই লড়াইয়ে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে রসাত্মক বিজ্ঞাপন, সাহসী প্রচারণামূলক স্টান্ট এবং তাদের চিরাচরিত কোলার নতুন, মাঝেমধ্যে বিপর্যয়কর সংস্করণ।
সময়ের সাথে সাথে অবশ্য কোম্পানি দুটি ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। রিসার্চ ফার্ম বেভারেজ ডাইজেস্ট-এর তথ্যমতে, আমেরিকান সফট ড্রিংক মার্কেটের ১৭ শতাংশ কোকাকোলার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দখলে, যেখানে পেপসির দখলে মাত্র ১১ শতাংশ। কিন্তু পেপসি এখন তাদের আয়ের অর্ধেকেরও বেশি পায় প্যাকেটজাত খাবার থেকে, যার মধ্যে লে’স ও কোয়েকার ওটসের মতো ব্র্যান্ডগুলো অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া কোকাকোলা প্রায় এক দশক আগে তাদের আমেরিকান বোতলজাতকরণ কার্যক্রম বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হাতে ফিরিয়ে দিলেও, পেপসি তাদের নিজ দেশে পানীয় উৎপাদন প্রক্রিয়া নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই রেখেছে।
তবে শিগগিরই এই সব কিছু বদলে যেতে পারে–এমনটাই জানা গেছে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদন থেকে। পেপসি এখন ব্যবসায়িক পরিস্থিতি পরিবর্তনের এমন এক প্রচেষ্টা শুরু করেছে, যা অনেকাংশেই তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বীর আদলে নিজেদের গড়ে তোলার ওপর নির্ভর করছে।
গত কয়েক বছর কোকাকোলার জন্য বেশ চাঙা কাটলেও পেপসির অবস্থা তুলনামূলক ম্লান। ২০২৩ সালের শুরু থেকে কোকাকোলার বাজারমূল্য ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে পেপসির মূল্য কমেছে ১৫ শতাংশ। পেপসির এই সংকটের আংশিক কারণ হলো, করোনাভাইরাস অতিমারি-পরবর্তী মুদ্রাস্ফীতির সময় তাদের খাবার ও পানীয়ের দাম অত্যধিক বাড়ানো, যা তাদের প্রতিযোগীদের তুলনায়ও বেশি ছিল। এই কৌশলটি সম্প্রতি হিতে বিপরীত হয়েছে। কারণ খরচ নিয়ে সচেতন ক্রেতারা এখন নতুন ব্র্যান্ড বা খুচরা বিক্রেতাদের নিজস্ব কম দামি পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।
দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, ভোক্তাদের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসচেতনতাও পেপসিকে বেশ ভোগাচ্ছে। অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়ে অস্বস্তি যেমন স্ন্যাকস ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, তেমনি ওজন কমানোর ওষুধের জনপ্রিয়তাও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কনসালটেন্সি ফার্ম ‘অ্যালিক্স পার্টনার্স’-এর মতে, আমেরিকায় যারা এই ওষুধগুলো নিচ্ছেন, তারা কোমল পানীয় কেনা প্রায় ৭ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি পেপসিকে কোকাকোলার তুলনায় অসুবিধাজনক অবস্থানে ফেলে দিয়েছে; কারণ চিনিমুক্ত কোলার বাজারে কোকাকোলা অনেক এগিয়ে। বর্তমানে মার্কিনিরা ডায়েট পেপসির তুলনায় প্রায় ২.৫ গুণ বেশি ডায়েট কোক পান করেন। এ ছাড়া প্রোটিন শেকের বাজারেও কোকাকোলা অনেক আগে থেকেই নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে পেপসি বড় ধরনের একটি ধাক্কা খায় ‘এলিয়ট ম্যানেজমেন্ট’-এর পক্ষ থেকে। এই সক্রিয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িক ৪ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার কিনে পেপসিকে একটি চিঠি দেয়। চিঠিতে তারা অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি পেপসিকে খরচ কমানো, পণ্যের তালিকা সংক্ষিপ্ত করা, তাদের মূল সোডা ব্র্যান্ডগুলোর বিপণনে মনোযোগ দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বোতলজাতকরণ কার্যক্রম আউটসোর্স বা বাইরের প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানায়।
যদিও পেপসি তাদের পরিচালনা পর্ষদে এই হেজ ফান্ডের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করেছে, তবে এলিয়টকে শান্ত করতে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পণ্যের দাম কমানো, তাদের স্ন্যাকস ব্র্যান্ডগুলোর এক-পঞ্চমাংশ ছাঁটাই করা এবং কিছু কারখানা বন্ধ করে দেওয়া। এ ছাড়া কোয়েকার ওটসের মতো আশানুরূপ পারফরম্যান্স না করা ব্র্যান্ডগুলোকেও শিগগিরই বিক্রি করে দেওয়া হতে পারে। আর বোতলজাতকরণ ব্যবসা আলাদা করার বিষয়ে কোম্পানিটি এখনও খুব একটা আগ্রহী না হলেও, আমেরিকার কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এটি করার কথা বিবেচনা করছে।
কৌশলের এই পরিবর্তনের সুফল পাওয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। গত ১৬ এপ্রিল পেপসি জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তাদের পরিচালন মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২৮ এপ্রিল কোকাকোলার ঘোষিত ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে। এমনকি আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম কোমল পানীয় বিক্রেতা হিসেবে পেপসির জায়গা ‘ডক্টর পেপার’ দখল করে নিতে পারে-এমন আশঙ্কাও এখন কমে এসেছে। গত বছরের মে মাসে ২ বিলিয়ন ডলারে ‘পপি’ নামক একটি জনপ্রিয় প্রিবায়োটিক সোডা ব্র্যান্ড অধিগ্রহণ করাটাও তাদের পানীয় বিক্রির বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। কোমল পানীয় জগতের এই দুই দানবের লড়াই যে এখনো শেষ হওয়ার নয়, তা বলাই বাহুল্য।

ব্যবসায়িক জগতে কোকাকোলা ও পেপসির মতো এত তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কমই দেখা যায়। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই দুই পক্ষ কোমল পানীয়র বাজারে আধিপত্য বিস্তারের জন্য লড়ে যাচ্ছে। আর এই লড়াইয়ে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে রসাত্মক বিজ্ঞাপন, সাহসী প্রচারণামূলক স্টান্ট এবং তাদের চিরাচরিত কোলার নতুন, মাঝেমধ্যে বিপর্যয়কর সংস্করণ।
সময়ের সাথে সাথে অবশ্য কোম্পানি দুটি ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। রিসার্চ ফার্ম বেভারেজ ডাইজেস্ট-এর তথ্যমতে, আমেরিকান সফট ড্রিংক মার্কেটের ১৭ শতাংশ কোকাকোলার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দখলে, যেখানে পেপসির দখলে মাত্র ১১ শতাংশ। কিন্তু পেপসি এখন তাদের আয়ের অর্ধেকেরও বেশি পায় প্যাকেটজাত খাবার থেকে, যার মধ্যে লে’স ও কোয়েকার ওটসের মতো ব্র্যান্ডগুলো অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া কোকাকোলা প্রায় এক দশক আগে তাদের আমেরিকান বোতলজাতকরণ কার্যক্রম বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হাতে ফিরিয়ে দিলেও, পেপসি তাদের নিজ দেশে পানীয় উৎপাদন প্রক্রিয়া নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই রেখেছে।
তবে শিগগিরই এই সব কিছু বদলে যেতে পারে–এমনটাই জানা গেছে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদন থেকে। পেপসি এখন ব্যবসায়িক পরিস্থিতি পরিবর্তনের এমন এক প্রচেষ্টা শুরু করেছে, যা অনেকাংশেই তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বীর আদলে নিজেদের গড়ে তোলার ওপর নির্ভর করছে।
গত কয়েক বছর কোকাকোলার জন্য বেশ চাঙা কাটলেও পেপসির অবস্থা তুলনামূলক ম্লান। ২০২৩ সালের শুরু থেকে কোকাকোলার বাজারমূল্য ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে পেপসির মূল্য কমেছে ১৫ শতাংশ। পেপসির এই সংকটের আংশিক কারণ হলো, করোনাভাইরাস অতিমারি-পরবর্তী মুদ্রাস্ফীতির সময় তাদের খাবার ও পানীয়ের দাম অত্যধিক বাড়ানো, যা তাদের প্রতিযোগীদের তুলনায়ও বেশি ছিল। এই কৌশলটি সম্প্রতি হিতে বিপরীত হয়েছে। কারণ খরচ নিয়ে সচেতন ক্রেতারা এখন নতুন ব্র্যান্ড বা খুচরা বিক্রেতাদের নিজস্ব কম দামি পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।
দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, ভোক্তাদের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসচেতনতাও পেপসিকে বেশ ভোগাচ্ছে। অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়ে অস্বস্তি যেমন স্ন্যাকস ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, তেমনি ওজন কমানোর ওষুধের জনপ্রিয়তাও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কনসালটেন্সি ফার্ম ‘অ্যালিক্স পার্টনার্স’-এর মতে, আমেরিকায় যারা এই ওষুধগুলো নিচ্ছেন, তারা কোমল পানীয় কেনা প্রায় ৭ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি পেপসিকে কোকাকোলার তুলনায় অসুবিধাজনক অবস্থানে ফেলে দিয়েছে; কারণ চিনিমুক্ত কোলার বাজারে কোকাকোলা অনেক এগিয়ে। বর্তমানে মার্কিনিরা ডায়েট পেপসির তুলনায় প্রায় ২.৫ গুণ বেশি ডায়েট কোক পান করেন। এ ছাড়া প্রোটিন শেকের বাজারেও কোকাকোলা অনেক আগে থেকেই নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে পেপসি বড় ধরনের একটি ধাক্কা খায় ‘এলিয়ট ম্যানেজমেন্ট’-এর পক্ষ থেকে। এই সক্রিয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িক ৪ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার কিনে পেপসিকে একটি চিঠি দেয়। চিঠিতে তারা অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি পেপসিকে খরচ কমানো, পণ্যের তালিকা সংক্ষিপ্ত করা, তাদের মূল সোডা ব্র্যান্ডগুলোর বিপণনে মনোযোগ দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বোতলজাতকরণ কার্যক্রম আউটসোর্স বা বাইরের প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানায়।
যদিও পেপসি তাদের পরিচালনা পর্ষদে এই হেজ ফান্ডের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করেছে, তবে এলিয়টকে শান্ত করতে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পণ্যের দাম কমানো, তাদের স্ন্যাকস ব্র্যান্ডগুলোর এক-পঞ্চমাংশ ছাঁটাই করা এবং কিছু কারখানা বন্ধ করে দেওয়া। এ ছাড়া কোয়েকার ওটসের মতো আশানুরূপ পারফরম্যান্স না করা ব্র্যান্ডগুলোকেও শিগগিরই বিক্রি করে দেওয়া হতে পারে। আর বোতলজাতকরণ ব্যবসা আলাদা করার বিষয়ে কোম্পানিটি এখনও খুব একটা আগ্রহী না হলেও, আমেরিকার কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এটি করার কথা বিবেচনা করছে।
কৌশলের এই পরিবর্তনের সুফল পাওয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। গত ১৬ এপ্রিল পেপসি জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তাদের পরিচালন মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২৮ এপ্রিল কোকাকোলার ঘোষিত ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে। এমনকি আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম কোমল পানীয় বিক্রেতা হিসেবে পেপসির জায়গা ‘ডক্টর পেপার’ দখল করে নিতে পারে-এমন আশঙ্কাও এখন কমে এসেছে। গত বছরের মে মাসে ২ বিলিয়ন ডলারে ‘পপি’ নামক একটি জনপ্রিয় প্রিবায়োটিক সোডা ব্র্যান্ড অধিগ্রহণ করাটাও তাদের পানীয় বিক্রির বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। কোমল পানীয় জগতের এই দুই দানবের লড়াই যে এখনো শেষ হওয়ার নয়, তা বলাই বাহুল্য।