চরচা প্রতিবেদক

সাত বছরের ছোট্ট শিশু রামিসা আক্তার। পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা-মা আর বড় বোনকে নিয়ে রাজধানীর পল্লবীর সেকশন-১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন একটি পাঁচতলা ভবনের ছোট্ট ভাড়া বাসাতেই ছিল তার পৃথিবী। স্কুল, কার্টুন আর বোনের পিছু পিছু ঘুরে বেড়ানো ছিল তার ব্যস্ততা। কিন্তু সবকিছু বুঝে ওঠার আগেই ভয়াবহ পাশবিকতা আর নৃশংস হত্যার শিকার হতে হয়েছে তাকে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বড় বোন রাইসা আক্তার পাশের চাচার বাসায় যাচ্ছিল। ছোট বোন রামিসাও তার পিছু নেয়। কয়েকবার বুঝিয়ে তাকে ঘরে রেখে বের হয় রাইসা। কিন্তু বোনকে দেখতে আবার দরজা খুলে বাইরে বের হয় ছোট্ট রামিসা। আর সেই বাইরে বের হওয়াটাই ছিল তার জন্য কাল। পরিবারের অভিযোগ, সেই মুহূর্তেই একই ফ্লোরের অপর পাশের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) শিশুটিকে টেনে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সেখানে শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতনের পর আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়।

আজ বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের সামনে মানুষের ভিড়। রামিসাদের বাসায় ঢুকতেই শোনা যায় আহাজারি। রামিসার জামা-কাপড়, স্কুলব্যাগ আর খেলনাগুলো ছড়িয়ে আছে ঘরে। মা পারভিন আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার মেয়ে শুধু দরজাটা খুলছিল। একটা জুতা পরে ছিল, আরেকটা জুতা পরার সময়ও পায় নাই। পাষণ্ডটা টান দিয়া নিয়া গেছে।”
আমার মেয়ে আর ফিরে আসবে না। বিচারও হবে না। ৫৫ বছর বয়সে আমি অনেক কিছু দেখছি। কিছুদিন পর আরেকটা ঘটনা আসবে, এইটা চাপা পড়ে যাবে।
নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া বড় বোন রাইসা আক্তার বারবার নিজেকেই দোষ দিচ্ছিল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে জানায়, “রাস্তার ওই পাশে আমার চাচার বাসা। আমি যাচ্ছিলাম। ও আমার সঙ্গে বের হতে চাইছিল। আমি বলেছি, ঘরে যা। ওকে ঘরে ঢুকিয়ে বের হয়েছি। পরে আমি বের হয়েছি কি না–দেখার জন্য দরজা খুলছে। আমি আর পেছনে তাকাইনি। তখনই লোকটা টান দিয়ে ওকে নিয়ে গেছে। ও চিৎকার করছিল।”
মা পারভিন আক্তার বলেন, “আমি বুঝতেই পারিনি ওর চিৎকার। ভাবছিলাম বড় মেয়ের সঙ্গে গেছে। পরে বড় মেয়ে একা ফিরে এলে খুঁজতে শুরু করি। এক ফ্লোর থেকে আরেক ফ্লোর, এক বাসা থেকে আরেক বাসায় গেছি। সব বাসার দরজা খুলছে, কিন্তু ওই বাসার দরজা খুলে নাই।”
তিনি বলেন, “আমাদের সঙ্গে কোনোদিন ওদের ঝগড়া হয়নি। কথাও হয়নি তেমন। আমার মেয়েটারে শুধু লালসার জন্য মেরে ফেলছে।”

জানা গেছে, ভবনের মালিক দেশের বাইরে থাকেন। কেয়ারটেকার মনির ভবনটি দেখাশোনা ও ভাড়া ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন। ঘটনার পর থেকে তাকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা রিকশা গ্যারেজের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার অসহায় আর ক্ষুব্ধ কণ্ঠ কাঁদাচ্ছে মানুষকে। তিনি বলেন, “আমার মেয়ে আর ফিরে আসবে না। বিচারও হবে না। ৫৫ বছর বয়সে আমি অনেক কিছু দেখছি। কিছুদিন পর আরেকটা ঘটনা আসবে, এইটা চাপা পড়ে যাবে।”
ঘটনার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে এবং মিরপুর থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন রামিসার বাবা। আজ আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে দোষ স্বীকার করেছেন সোহেল।

সাত বছরের ছোট্ট শিশু রামিসা আক্তার। পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা-মা আর বড় বোনকে নিয়ে রাজধানীর পল্লবীর সেকশন-১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন একটি পাঁচতলা ভবনের ছোট্ট ভাড়া বাসাতেই ছিল তার পৃথিবী। স্কুল, কার্টুন আর বোনের পিছু পিছু ঘুরে বেড়ানো ছিল তার ব্যস্ততা। কিন্তু সবকিছু বুঝে ওঠার আগেই ভয়াবহ পাশবিকতা আর নৃশংস হত্যার শিকার হতে হয়েছে তাকে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বড় বোন রাইসা আক্তার পাশের চাচার বাসায় যাচ্ছিল। ছোট বোন রামিসাও তার পিছু নেয়। কয়েকবার বুঝিয়ে তাকে ঘরে রেখে বের হয় রাইসা। কিন্তু বোনকে দেখতে আবার দরজা খুলে বাইরে বের হয় ছোট্ট রামিসা। আর সেই বাইরে বের হওয়াটাই ছিল তার জন্য কাল। পরিবারের অভিযোগ, সেই মুহূর্তেই একই ফ্লোরের অপর পাশের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) শিশুটিকে টেনে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সেখানে শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতনের পর আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়।

আজ বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের সামনে মানুষের ভিড়। রামিসাদের বাসায় ঢুকতেই শোনা যায় আহাজারি। রামিসার জামা-কাপড়, স্কুলব্যাগ আর খেলনাগুলো ছড়িয়ে আছে ঘরে। মা পারভিন আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার মেয়ে শুধু দরজাটা খুলছিল। একটা জুতা পরে ছিল, আরেকটা জুতা পরার সময়ও পায় নাই। পাষণ্ডটা টান দিয়া নিয়া গেছে।”
আমার মেয়ে আর ফিরে আসবে না। বিচারও হবে না। ৫৫ বছর বয়সে আমি অনেক কিছু দেখছি। কিছুদিন পর আরেকটা ঘটনা আসবে, এইটা চাপা পড়ে যাবে।
নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া বড় বোন রাইসা আক্তার বারবার নিজেকেই দোষ দিচ্ছিল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে জানায়, “রাস্তার ওই পাশে আমার চাচার বাসা। আমি যাচ্ছিলাম। ও আমার সঙ্গে বের হতে চাইছিল। আমি বলেছি, ঘরে যা। ওকে ঘরে ঢুকিয়ে বের হয়েছি। পরে আমি বের হয়েছি কি না–দেখার জন্য দরজা খুলছে। আমি আর পেছনে তাকাইনি। তখনই লোকটা টান দিয়ে ওকে নিয়ে গেছে। ও চিৎকার করছিল।”
মা পারভিন আক্তার বলেন, “আমি বুঝতেই পারিনি ওর চিৎকার। ভাবছিলাম বড় মেয়ের সঙ্গে গেছে। পরে বড় মেয়ে একা ফিরে এলে খুঁজতে শুরু করি। এক ফ্লোর থেকে আরেক ফ্লোর, এক বাসা থেকে আরেক বাসায় গেছি। সব বাসার দরজা খুলছে, কিন্তু ওই বাসার দরজা খুলে নাই।”
তিনি বলেন, “আমাদের সঙ্গে কোনোদিন ওদের ঝগড়া হয়নি। কথাও হয়নি তেমন। আমার মেয়েটারে শুধু লালসার জন্য মেরে ফেলছে।”

জানা গেছে, ভবনের মালিক দেশের বাইরে থাকেন। কেয়ারটেকার মনির ভবনটি দেখাশোনা ও ভাড়া ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন। ঘটনার পর থেকে তাকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা রিকশা গ্যারেজের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার অসহায় আর ক্ষুব্ধ কণ্ঠ কাঁদাচ্ছে মানুষকে। তিনি বলেন, “আমার মেয়ে আর ফিরে আসবে না। বিচারও হবে না। ৫৫ বছর বয়সে আমি অনেক কিছু দেখছি। কিছুদিন পর আরেকটা ঘটনা আসবে, এইটা চাপা পড়ে যাবে।”
ঘটনার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে এবং মিরপুর থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন রামিসার বাবা। আজ আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে দোষ স্বীকার করেছেন সোহেল।