চরচা ডেস্ক

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (সিইসি)। নিয়ম অনুযায়ী এখন তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হবে। তবে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু জেলে থাকায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ তিন দিনের মধ্যে শপথ নিতে হলে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে প্রয়োজন। তবে তিন দিন পার হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন।
কী আছে সংবিধানে
নতুন এমপিদের শপথ পড়ান সংসদের স্পিকার। সেই হিসেবে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর শপথ পড়ানোর কথা।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পর্কে বলা আছে। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন অনুষ্ঠিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন ব্যক্তি যে কোন কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।”
সংবিধানের তৃতীয় তফশিলে বিভিন্ন পদের শপথ সম্পর্কে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন স্পিকার।
দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, “স্পিকার নিখোঁজ রয়েছেন।”
সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে, পদত্যাগ করলেও স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার তার উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত নিজ পদে বহাল আছেন বলে গণ্য হবেন। সে হিসেবে শপথ পড়ানোর ভার স্পিকারের।
যা আছে কার্যপ্রণালি বিধিতে
হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু এখন কারাগারে। আসিফ নজরুল সেদিন যা বলেছিলেন, তাতে স্পষ্ট স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কাউকে দিয়ে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে সরকার চায় না। তাতে বিতর্কও উঠতে পারে। সেদিন আরেকটি বিকল্পের কথাও আসিফ নজরুল বলেছিলেন।
সেই বিকল্প হলো সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে উল্লেখ থাকা একটি বিধান। সেখানে বলা আছে, “
(১) সংবিধানের ৭১ অনুচ্ছেদের (২) দফার (গ) উপ-দফায় বর্ণিত শর্তসাপেক্ষে, সাধারণ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশনের পূর্বে সংসদে নির্বাচিত প্রত্যেক ব্যক্তি সংবিধানের তৃতীয় তফশিলে প্রদত্ত সংসদ-সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ফরমে বিদায়ী স্পীকারের এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে বিদায়ী ডেপুটি স্পীকারের এবং উভয়ের অনুপস্থিতিতে বিদায়ী স্পীকার কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তির সম্মুখে এবং স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার উভয় পদ শূন্য থাকিলে স্পীকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের শপথ পরিচালনা ও সংসদে সভাপতিত্ব করিবার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তির সম্মুখে শপথ গ্রহণ করিবেন বা ঘোষণা করিবেন এবং উহাতে স্বাক্ষর করিবেন।”
বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী এখন স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে দুটি বিকল্প আছে। হয় তিন দিন অপেক্ষা করে সিইসির কাছে নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। সেটি না হলে, রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। তবে এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো মতামতও প্রয়োজন।
এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম শনিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন জনপ্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। সেক্ষেত্রে সিইসির কাছেই শপথ হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা যায়।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (সিইসি)। নিয়ম অনুযায়ী এখন তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হবে। তবে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু জেলে থাকায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ তিন দিনের মধ্যে শপথ নিতে হলে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে প্রয়োজন। তবে তিন দিন পার হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন।
কী আছে সংবিধানে
নতুন এমপিদের শপথ পড়ান সংসদের স্পিকার। সেই হিসেবে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর শপথ পড়ানোর কথা।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পর্কে বলা আছে। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন অনুষ্ঠিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন ব্যক্তি যে কোন কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।”
সংবিধানের তৃতীয় তফশিলে বিভিন্ন পদের শপথ সম্পর্কে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন স্পিকার।
দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, “স্পিকার নিখোঁজ রয়েছেন।”
সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে, পদত্যাগ করলেও স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার তার উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত নিজ পদে বহাল আছেন বলে গণ্য হবেন। সে হিসেবে শপথ পড়ানোর ভার স্পিকারের।
যা আছে কার্যপ্রণালি বিধিতে
হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু এখন কারাগারে। আসিফ নজরুল সেদিন যা বলেছিলেন, তাতে স্পষ্ট স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কাউকে দিয়ে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে সরকার চায় না। তাতে বিতর্কও উঠতে পারে। সেদিন আরেকটি বিকল্পের কথাও আসিফ নজরুল বলেছিলেন।
সেই বিকল্প হলো সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে উল্লেখ থাকা একটি বিধান। সেখানে বলা আছে, “
(১) সংবিধানের ৭১ অনুচ্ছেদের (২) দফার (গ) উপ-দফায় বর্ণিত শর্তসাপেক্ষে, সাধারণ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশনের পূর্বে সংসদে নির্বাচিত প্রত্যেক ব্যক্তি সংবিধানের তৃতীয় তফশিলে প্রদত্ত সংসদ-সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ফরমে বিদায়ী স্পীকারের এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে বিদায়ী ডেপুটি স্পীকারের এবং উভয়ের অনুপস্থিতিতে বিদায়ী স্পীকার কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তির সম্মুখে এবং স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার উভয় পদ শূন্য থাকিলে স্পীকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের শপথ পরিচালনা ও সংসদে সভাপতিত্ব করিবার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তির সম্মুখে শপথ গ্রহণ করিবেন বা ঘোষণা করিবেন এবং উহাতে স্বাক্ষর করিবেন।”
বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী এখন স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে দুটি বিকল্প আছে। হয় তিন দিন অপেক্ষা করে সিইসির কাছে নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। সেটি না হলে, রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। তবে এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো মতামতও প্রয়োজন।
এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম শনিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন জনপ্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। সেক্ষেত্রে সিইসির কাছেই শপথ হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা যায়।