এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন পেরিয়ে রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন এসেছে। আর সেই পরিবর্তনের মধ্যেই সামনে এসেছে নতুন এক সমীকরণ: ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন, নাকি গ্রহণযোগ্য ও দক্ষ নতুন নেতৃত্বের উত্থান।
মেরিনা মিতু

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া ঘিরে সংগঠনের ভেতরে পুরনো প্রশ্নই আবার সামনে এসেছে–নেতৃত্ব কি কাউন্সিলের মাধ্যমে আসবে, নাকি ‘সিলেকশন’ প্রক্রিয়ায়?
তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন পেরিয়ে রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন এসেছে। আর সেই পরিবর্তনের মধ্যেই সামনে এসেছে নতুন এক সমীকরণ: ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন, নাকি গ্রহণযোগ্য ও দক্ষ নতুন নেতৃত্বের উত্থান। এই টানাপোড়েনে ছাত্রদলের ভেতরে যেমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তেমনি বাড়ছে সংশয়–নতুন কমিটি কি সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করবে, নাকি পুরনো বিতর্কই আরো গভীর করবে?
গত পয়লা মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং নাসির উদ্দিন নাসিরের নেতৃত্বাধীন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ২০২৪ সালে এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
আন্দোলনের ইতিহাস বনাম বর্তমান চ্যালেঞ্জ
ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে যোগ্যতা, ত্যাগ ও জনপ্রিয়তার সমন্বয় করে নেতৃত্ব নির্বাচন। সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অনেকেই। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় বহু নেতা আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন, অনেকে কারাবরণ করেছেন এবং শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন।
নেতা-কর্মীদের মতে, দমন-পীড়নের প্রভাবে অনেক অভিজ্ঞ নেতা এখন সাংগঠনিকভাবে নিষ্ক্রিয়। ফলে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ বাস্তবতায় কেন্দ্রীয়সহ বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি পুনর্গঠন জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকে সামনে আনার প্রয়োজন–দুটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদ্য মেয়াদোত্তীর্ন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা চরচাকে বলেন, “একটা সময় ছিল যখন কমিটি দেওয়ার জন্য লোক খুঁজে পাওয়া যেত না। মনে মনে জাতীয়তাবাদী বিশ্বাস থাকলেও কমিটি বা পদে আসতে চাইতো না…ভয়ে। আপনারা দেখছেন বিরোধীদল হিসেবে কীভাবে দমন করা হতো। আজ দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের পর দল সরকারে বসেছে। এখন ধরেন পুরো ব্যাপারটাই ভিন্ন। তাই আগের সময়ে কমিটি দেওয়া, আর এই সময়ে এসে কমিটি দেওয়া একরকম না, সহজ না। নানান ইক্যুয়েশন নিয়ে কাজ করতে হবে, ভাবতে হবে।”
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমান উল্লাহ আমানও এমন পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। চরচাকে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে ভয়াবহ দমন-নিপীড়নের মধ্যেও বুক চিতিয়ে লড়াই করা সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও সবচেয়ে বেশি শহীদের সংগঠন, সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হওয়া সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।”
সংগঠনটির এই নেতার মতে, নতুন কমিটির নেতৃত্বে তাদেরই আসা উচিত, যারা দীর্ঘদিনের এই আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন এবং বর্তমানে অন ও অফলাইনে বিরোধি পক্ষের চালানো নানা অপপ্রচার ও অপতথ্যের জবাব দিতে পারবেন–এমন চৌকশ নেতার।

নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি থাকাটা অন্যতম মানদণ্ড হওয়া উচিত বলে মনে করেন ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খান আবিদ। চরচাকে তিনি বলেন, “যারা ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘদিন রাজপথে ভূমিকা রেখেছে, যাদের গ্যাপ নেই, যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই…তাদের মধ্যে থেকেই যেন নেতৃত্ব বাছাই করা হয়–এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
‘সিন্ডিকেট’ ও সাংগঠনিক স্থবিরতার অভিযোগ
কোন প্রক্রিয়ায় কমিটি হবে–এমন জটিলতার পাশাপাশি দলীয় সিন্ডিকেট নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অবশ্য সংগঠনটির কমিটি গঠন নিয়ে ‘সিন্ডিকেট’ সম্পর্কিত অভিযোগ নতুন নয়। এবারো সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে গুঞ্জন আছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি, জেলা পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে নতুন কমিটি না হওয়া এবং যোগ্য নেতা-কর্মীদের বঞ্চিত হওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে সম্প্রতি সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায় থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের এক কেন্দ্রীয় নেতা অভিযোগ করেন, “ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে দুই মাস আগে। বর্তমান কমিটি কলেজ, ইউনিভার্সিটিসহ কিছু কমিটি দিতে পারলেও অধিকাংশ জেলা কমিটি দিতে পারে নাই। অধিকাংশ জেলায় পাঁচ থেকে আট বছরের পুরনো কমিটি বিদ্যমান। ফলে অধিকাংশ জেলায় দীর্ঘদিনের পরিশ্রমী ও আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত অনেকে পদবঞ্চিত।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট নেতাদের একটি সিন্ডিকেটকে দায়ী করে মহানগরকে চার ভাগে ভাগ করার সমালোচনাও করেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। আগে ঢাকা মহানগর ছাত্রদল মূলত দুই ভাগে (উত্তর ও দক্ষিণ) বিভক্ত ছিল। পরবর্তীকালে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এটিকে চার ভাগে ভাগ করা হয়: উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম।
এই নেতা আরো বলেন, “ছাত্রদলের স্বার্থে আরো একটা কমিটি সিনিয়র থেকে হওয়া উচিত। কিন্তু একটা সিন্ডিকেট চাচ্ছেন, বর্তমান কমিটির মাধ্যমে কিছু জেলা কমিটি দিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নিজেদের বলয়ে এই কমিটি নিতে…। তাই অনতিবিলম্বে যোগ্যতার মাপকাঠিতে নতুন কমিটি করা সকলের দাবি।”
এ ধরনের অভিযোগ শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও একই ধরনের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলা পর্যায়ের নেতা চরচাকে বলেন, “আমরা বছরের পর বছর রাজপথে থেকেছি, মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। কিন্তু কমিটি দেওয়ার সময় একটি নির্দিষ্ট গ্রুপই প্রাধান্য পায়। এতে সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।”
আরেক সাবেক ছাত্রনেতার ভাষ্য, “ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ আজকের না, বরাবরই ছিল। আগে অন্তত কিছুটা ভারসাম্য থাকত; এখন সেটাও নেই। ফলে যোগ্যতা ও ত্যাগের মূল্যায়ন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট নেতাদের একটি সিন্ডিকেটকে দায়ী করে মহানগরকে চার ভাগে ভাগ করার সমালোচনাও করেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। আগে ঢাকা মহানগর ছাত্রদল মূলত দুই ভাগে (উত্তর ও দক্ষিণ) বিভক্ত ছিল। পরবর্তীকালে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এটিকে চার ভাগে ভাগ করা হয়: উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম।
কেন্দ্রীয় এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরচাকে বলেন, “চার ভাগে ভাগ করার এই সিদ্ধান্তেও ঢাবির একটি সিন্ডিকেটের ভূমিকা রয়েছে। তবে আমরা মনে করি, এই বিভক্তির কারণে নেতৃত্ব ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় কমে গেছে। একাধিক ইউনিটে ভাগ হওয়ায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব কমে গেছে।”
তবে এমন অভিযোগ সত্য নয় বলে জানিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি চরচাকে বলেন, “সিন্ডিকেট থাকেই। তবে আমাদের হাইকমান্ড সবসময় যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ে পারদর্শী। সেখানে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের প্রভাব থাকে না। যোগ্যতা, মেধা, ত্যাগ…সকল কিছুর বিবেচনায় মূল্যায়ন করা হয়। একই পদে একাধিক ত্যাগী নেতা থাকবে। সেখান থেকে অন্যান্য যেসব ক্রাইটেরিয়া রয়েছে, সেভাবে মূল্যায়ন হয়। এবারো তাই হবে বলে আমি প্রত্যাশী।”
রাকিব বলেন, “এখন যে বা যারা বাদ পড়েছে বা পড়বে, তারা তো মন খারাপ করবেই। তাদের মন খারাপের কারণ, তারা দলকে ভালোবাসে। তাছাড়া মহানগর ছাত্রদলকে চার ভাগে ভাগ করার সমালোচনা করে সামনের নতুন কমিটির আগে আবারো দুইভাগে ভাগ করার দাবি জানান নেতা-কর্মীরা।”

ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাফি ইসলাম চরচাকে বলেন, “যারা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, ওপেন রাজনীতি করে, সংগঠনকে ধারণ করে, ছাত্রদলের নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিত্বদেরই আসা উচিত…। সংগঠনের উপর কাউকে হঠাৎ বসিয়ে দিলে সংগঠন সক্রিয় থাকে না।”
গ্রহণযোগ্যতা হারানোর প্রশ্ন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের সাবেক এক সভাপতি চরচাকে বলেন, “৯০-এর দশকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যে গ্রহণযোগ্যতা সর্বমহলে ছিল, তা ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়েছে।” তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের যে করুন পরিণতি হলো, এগুলোর গভীর বিশ্লেষণ প্রয়োজন। যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের জবাবদিহি দরকার।”
সাবেক এই সভাপতির মতে, “এই তিন সংগঠন পুনর্গঠনের আগে একটা কমিশন গঠন হওয়া উচিত। সংগঠন যদি শক্তিশালী না থাকে, তাহলে সরকার বিপদে পড়লে আওয়ামী লীগের মতো করুন পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
তবে কমিশন গঠনের প্রস্তাবে দ্বিমত জানিয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির চরচাকে বলেন, “আমার মনে হয় এটা নিষ্প্রয়োজন। এটা হলে সংগঠনের ঐতিহ্য থাকে না। দুইভাবে আমাদের কমিটি হয়ে থাকে। একটা হচ্ছে, কাউন্সিল; আরেকটা হচ্ছে, সিলেকশন। এই দুই প্রক্রিয়ার যেকোনো এক প্রক্রিয়ায় কমিটি হলেই আমি মনে করি শক্তিশালী হবে সংগঠন।”
নাসির বলেন, “আমাদের কমিটির মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। গত ২০১৯ সালের কাউন্সিলে কাউন্সিলররা এই সংগঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক একটি ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যান ও সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানকে দিয়েছিলেন। তিনি চাইলে যেকোনো সময় কমিটি হবে। আমরা সে সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছি।”
তবে ছাত্রদলের এই নেতা মনে করেন নিয়মিত বিরতিতে কমিটি হওয়া উচিত। তার মতে, “আমি মনে করি দুই বছর পরপরই কমিটি হওয়া উচিত। তা না হলে সেশন জট পড়ে যায়।”
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আলোচনায় যারা
এত কিছুর পরও ছাত্রদলের সম্ভাব্য কমিটি নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। সিন্ডিকেট, সিলেকশন ইত্যাদি পেরিয়ে বেশ কয়েকজন এরই মধ্যে সম্ভাব্য নেতা হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন। এর মধ্যে ২০০৮-০৯ সেশন থেকে সভাপতি পদে এগিয়ে রয়েছেন–বর্তমান কমিটির সহসভাপতি এজাজুল কবির রুয়েল, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, খোরশেদ আলম সোহেল, শাকির আহমেদ ও সাফি ইসলাম।
আর ২০০৯-১০ সেশন থেকে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ, মাসুদুর রহমান, ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম।
সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্যরা
একইভাবে ২০১০-১১ সেশন থেকে সাধারণ সম্পাদক হতে পারেন ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও মাসুম বিল্লাহ।
২০১১-১২ সেশন থেকে একই পদে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, তারিকুল ইসলাম তারিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এবং সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স। আর ২০১২-১৩ সেশন থেকে আলোচনায় রয়েছেন মাহবুব আলম শাহিন, মানসুরা আলম, তৌহিদুল ইসলাম।
ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ‘হাইকমান্ড’ বুঝেশুনে পদক্ষেপ নেবে বলে আশা জানিয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান চরচাকে বলেন, “এখন যেমন আমাদের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ রয়েছে, তেমনি অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেই বিবেচনায় একইসাথে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে, সংকটে-সংগ্রামে সামনে থেকে লড়াই করা এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছাত্রদলকে নিয়ে যে অপপ্রচার অপতথ্য চলে, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং কাউন্টার ন্যারেটিভ দিতে সক্ষম ছাত্রনেতা… মেধাবী, সৃজনশীল ও সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হাইকমান্ড বেছে নেবে বলে মনে করি।”

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া ঘিরে সংগঠনের ভেতরে পুরনো প্রশ্নই আবার সামনে এসেছে–নেতৃত্ব কি কাউন্সিলের মাধ্যমে আসবে, নাকি ‘সিলেকশন’ প্রক্রিয়ায়?
তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন পেরিয়ে রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন এসেছে। আর সেই পরিবর্তনের মধ্যেই সামনে এসেছে নতুন এক সমীকরণ: ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন, নাকি গ্রহণযোগ্য ও দক্ষ নতুন নেতৃত্বের উত্থান। এই টানাপোড়েনে ছাত্রদলের ভেতরে যেমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তেমনি বাড়ছে সংশয়–নতুন কমিটি কি সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করবে, নাকি পুরনো বিতর্কই আরো গভীর করবে?
গত পয়লা মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং নাসির উদ্দিন নাসিরের নেতৃত্বাধীন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ২০২৪ সালে এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
আন্দোলনের ইতিহাস বনাম বর্তমান চ্যালেঞ্জ
ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে যোগ্যতা, ত্যাগ ও জনপ্রিয়তার সমন্বয় করে নেতৃত্ব নির্বাচন। সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অনেকেই। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় বহু নেতা আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন, অনেকে কারাবরণ করেছেন এবং শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন।
নেতা-কর্মীদের মতে, দমন-পীড়নের প্রভাবে অনেক অভিজ্ঞ নেতা এখন সাংগঠনিকভাবে নিষ্ক্রিয়। ফলে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ বাস্তবতায় কেন্দ্রীয়সহ বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি পুনর্গঠন জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকে সামনে আনার প্রয়োজন–দুটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদ্য মেয়াদোত্তীর্ন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা চরচাকে বলেন, “একটা সময় ছিল যখন কমিটি দেওয়ার জন্য লোক খুঁজে পাওয়া যেত না। মনে মনে জাতীয়তাবাদী বিশ্বাস থাকলেও কমিটি বা পদে আসতে চাইতো না…ভয়ে। আপনারা দেখছেন বিরোধীদল হিসেবে কীভাবে দমন করা হতো। আজ দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের পর দল সরকারে বসেছে। এখন ধরেন পুরো ব্যাপারটাই ভিন্ন। তাই আগের সময়ে কমিটি দেওয়া, আর এই সময়ে এসে কমিটি দেওয়া একরকম না, সহজ না। নানান ইক্যুয়েশন নিয়ে কাজ করতে হবে, ভাবতে হবে।”
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমান উল্লাহ আমানও এমন পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। চরচাকে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে ভয়াবহ দমন-নিপীড়নের মধ্যেও বুক চিতিয়ে লড়াই করা সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও সবচেয়ে বেশি শহীদের সংগঠন, সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হওয়া সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।”
সংগঠনটির এই নেতার মতে, নতুন কমিটির নেতৃত্বে তাদেরই আসা উচিত, যারা দীর্ঘদিনের এই আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন এবং বর্তমানে অন ও অফলাইনে বিরোধি পক্ষের চালানো নানা অপপ্রচার ও অপতথ্যের জবাব দিতে পারবেন–এমন চৌকশ নেতার।

নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি থাকাটা অন্যতম মানদণ্ড হওয়া উচিত বলে মনে করেন ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খান আবিদ। চরচাকে তিনি বলেন, “যারা ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘদিন রাজপথে ভূমিকা রেখেছে, যাদের গ্যাপ নেই, যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই…তাদের মধ্যে থেকেই যেন নেতৃত্ব বাছাই করা হয়–এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
‘সিন্ডিকেট’ ও সাংগঠনিক স্থবিরতার অভিযোগ
কোন প্রক্রিয়ায় কমিটি হবে–এমন জটিলতার পাশাপাশি দলীয় সিন্ডিকেট নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অবশ্য সংগঠনটির কমিটি গঠন নিয়ে ‘সিন্ডিকেট’ সম্পর্কিত অভিযোগ নতুন নয়। এবারো সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে গুঞ্জন আছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি, জেলা পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে নতুন কমিটি না হওয়া এবং যোগ্য নেতা-কর্মীদের বঞ্চিত হওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে সম্প্রতি সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায় থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের এক কেন্দ্রীয় নেতা অভিযোগ করেন, “ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে দুই মাস আগে। বর্তমান কমিটি কলেজ, ইউনিভার্সিটিসহ কিছু কমিটি দিতে পারলেও অধিকাংশ জেলা কমিটি দিতে পারে নাই। অধিকাংশ জেলায় পাঁচ থেকে আট বছরের পুরনো কমিটি বিদ্যমান। ফলে অধিকাংশ জেলায় দীর্ঘদিনের পরিশ্রমী ও আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত অনেকে পদবঞ্চিত।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট নেতাদের একটি সিন্ডিকেটকে দায়ী করে মহানগরকে চার ভাগে ভাগ করার সমালোচনাও করেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। আগে ঢাকা মহানগর ছাত্রদল মূলত দুই ভাগে (উত্তর ও দক্ষিণ) বিভক্ত ছিল। পরবর্তীকালে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এটিকে চার ভাগে ভাগ করা হয়: উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম।
এই নেতা আরো বলেন, “ছাত্রদলের স্বার্থে আরো একটা কমিটি সিনিয়র থেকে হওয়া উচিত। কিন্তু একটা সিন্ডিকেট চাচ্ছেন, বর্তমান কমিটির মাধ্যমে কিছু জেলা কমিটি দিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নিজেদের বলয়ে এই কমিটি নিতে…। তাই অনতিবিলম্বে যোগ্যতার মাপকাঠিতে নতুন কমিটি করা সকলের দাবি।”
এ ধরনের অভিযোগ শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও একই ধরনের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলা পর্যায়ের নেতা চরচাকে বলেন, “আমরা বছরের পর বছর রাজপথে থেকেছি, মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। কিন্তু কমিটি দেওয়ার সময় একটি নির্দিষ্ট গ্রুপই প্রাধান্য পায়। এতে সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।”
আরেক সাবেক ছাত্রনেতার ভাষ্য, “ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ আজকের না, বরাবরই ছিল। আগে অন্তত কিছুটা ভারসাম্য থাকত; এখন সেটাও নেই। ফলে যোগ্যতা ও ত্যাগের মূল্যায়ন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট নেতাদের একটি সিন্ডিকেটকে দায়ী করে মহানগরকে চার ভাগে ভাগ করার সমালোচনাও করেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। আগে ঢাকা মহানগর ছাত্রদল মূলত দুই ভাগে (উত্তর ও দক্ষিণ) বিভক্ত ছিল। পরবর্তীকালে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এটিকে চার ভাগে ভাগ করা হয়: উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম।
কেন্দ্রীয় এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরচাকে বলেন, “চার ভাগে ভাগ করার এই সিদ্ধান্তেও ঢাবির একটি সিন্ডিকেটের ভূমিকা রয়েছে। তবে আমরা মনে করি, এই বিভক্তির কারণে নেতৃত্ব ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় কমে গেছে। একাধিক ইউনিটে ভাগ হওয়ায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব কমে গেছে।”
তবে এমন অভিযোগ সত্য নয় বলে জানিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি চরচাকে বলেন, “সিন্ডিকেট থাকেই। তবে আমাদের হাইকমান্ড সবসময় যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ে পারদর্শী। সেখানে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের প্রভাব থাকে না। যোগ্যতা, মেধা, ত্যাগ…সকল কিছুর বিবেচনায় মূল্যায়ন করা হয়। একই পদে একাধিক ত্যাগী নেতা থাকবে। সেখান থেকে অন্যান্য যেসব ক্রাইটেরিয়া রয়েছে, সেভাবে মূল্যায়ন হয়। এবারো তাই হবে বলে আমি প্রত্যাশী।”
রাকিব বলেন, “এখন যে বা যারা বাদ পড়েছে বা পড়বে, তারা তো মন খারাপ করবেই। তাদের মন খারাপের কারণ, তারা দলকে ভালোবাসে। তাছাড়া মহানগর ছাত্রদলকে চার ভাগে ভাগ করার সমালোচনা করে সামনের নতুন কমিটির আগে আবারো দুইভাগে ভাগ করার দাবি জানান নেতা-কর্মীরা।”

ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাফি ইসলাম চরচাকে বলেন, “যারা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, ওপেন রাজনীতি করে, সংগঠনকে ধারণ করে, ছাত্রদলের নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিত্বদেরই আসা উচিত…। সংগঠনের উপর কাউকে হঠাৎ বসিয়ে দিলে সংগঠন সক্রিয় থাকে না।”
গ্রহণযোগ্যতা হারানোর প্রশ্ন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের সাবেক এক সভাপতি চরচাকে বলেন, “৯০-এর দশকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যে গ্রহণযোগ্যতা সর্বমহলে ছিল, তা ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়েছে।” তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের যে করুন পরিণতি হলো, এগুলোর গভীর বিশ্লেষণ প্রয়োজন। যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের জবাবদিহি দরকার।”
সাবেক এই সভাপতির মতে, “এই তিন সংগঠন পুনর্গঠনের আগে একটা কমিশন গঠন হওয়া উচিত। সংগঠন যদি শক্তিশালী না থাকে, তাহলে সরকার বিপদে পড়লে আওয়ামী লীগের মতো করুন পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
তবে কমিশন গঠনের প্রস্তাবে দ্বিমত জানিয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির চরচাকে বলেন, “আমার মনে হয় এটা নিষ্প্রয়োজন। এটা হলে সংগঠনের ঐতিহ্য থাকে না। দুইভাবে আমাদের কমিটি হয়ে থাকে। একটা হচ্ছে, কাউন্সিল; আরেকটা হচ্ছে, সিলেকশন। এই দুই প্রক্রিয়ার যেকোনো এক প্রক্রিয়ায় কমিটি হলেই আমি মনে করি শক্তিশালী হবে সংগঠন।”
নাসির বলেন, “আমাদের কমিটির মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। গত ২০১৯ সালের কাউন্সিলে কাউন্সিলররা এই সংগঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক একটি ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যান ও সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানকে দিয়েছিলেন। তিনি চাইলে যেকোনো সময় কমিটি হবে। আমরা সে সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছি।”
তবে ছাত্রদলের এই নেতা মনে করেন নিয়মিত বিরতিতে কমিটি হওয়া উচিত। তার মতে, “আমি মনে করি দুই বছর পরপরই কমিটি হওয়া উচিত। তা না হলে সেশন জট পড়ে যায়।”
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আলোচনায় যারা
এত কিছুর পরও ছাত্রদলের সম্ভাব্য কমিটি নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। সিন্ডিকেট, সিলেকশন ইত্যাদি পেরিয়ে বেশ কয়েকজন এরই মধ্যে সম্ভাব্য নেতা হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন। এর মধ্যে ২০০৮-০৯ সেশন থেকে সভাপতি পদে এগিয়ে রয়েছেন–বর্তমান কমিটির সহসভাপতি এজাজুল কবির রুয়েল, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, খোরশেদ আলম সোহেল, শাকির আহমেদ ও সাফি ইসলাম।
আর ২০০৯-১০ সেশন থেকে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ, মাসুদুর রহমান, ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম।
সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্যরা
একইভাবে ২০১০-১১ সেশন থেকে সাধারণ সম্পাদক হতে পারেন ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও মাসুম বিল্লাহ।
২০১১-১২ সেশন থেকে একই পদে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, তারিকুল ইসলাম তারিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এবং সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স। আর ২০১২-১৩ সেশন থেকে আলোচনায় রয়েছেন মাহবুব আলম শাহিন, মানসুরা আলম, তৌহিদুল ইসলাম।
ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ‘হাইকমান্ড’ বুঝেশুনে পদক্ষেপ নেবে বলে আশা জানিয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান চরচাকে বলেন, “এখন যেমন আমাদের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ রয়েছে, তেমনি অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেই বিবেচনায় একইসাথে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে, সংকটে-সংগ্রামে সামনে থেকে লড়াই করা এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছাত্রদলকে নিয়ে যে অপপ্রচার অপতথ্য চলে, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং কাউন্টার ন্যারেটিভ দিতে সক্ষম ছাত্রনেতা… মেধাবী, সৃজনশীল ও সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হাইকমান্ড বেছে নেবে বলে মনে করি।”