ফজলে রাব্বি

টাকার অঙ্ক বা শতাংশের হিসাব–যেকোনো বিচারেই দেশে এবারই প্রথম বিদ্যুতের দাম এতটা বাড়ানো হলো। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম এবার বাড়ানো হয়েছে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এর আগে এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ হার ছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। সেটা ২০২৪ সালে। এ হিসাবে আগের সর্বোচ্চ হারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হারে বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম।
২০০৬ সালে যে বিদ্যুতের দাম ছিল ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ১৫ পয়সা, নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, এর বর্তমান ইউনিটপ্রতি দাম পড়বে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। আগের মূল্যতালিকা অনুযায়ী এ দাম ছিল ৯ টাকা ১১ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এটি দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত দুই দশকের ইতিহাসে এক লাফে এত বেশি মূল্যবৃদ্ধি আগে দেখা যায়নি।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে খুচরা ও পাইকারি–উভয় স্তরেই বিদ্যুতের এই নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেছে। একই সাথে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য নির্ধারিত হুইলিং চার্জ বা সঞ্চালন মূল্যহারও বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিইআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুনর্নির্ধারিত এই নতুন মূল্যহার চলতি জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল থেকেই সরাসরি কার্যকর করা হবে।
বিইআরসি’র সর্বশেষ ঘোষিত ট্যারিফ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গ্রাহক পর্যায়ে বা খুচরা বিদ্যুতের গড় মূল্যহার প্রতি ইউনিটে ৯.১১ টাকা থেকে ১.৫২ টাকা বাড়িয়ে ১০.৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় ভারিত মূল্যহার প্রতি ইউনিটে ৭.০০ টাকা থেকে ১.৩৯ টাকা বাড়িয়ে ৮.৩৯ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া সঞ্চালন বা হুইলিং চার্জ প্রতি ইউনিটে ০.৩১৩৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ০.৩৮৮৬ টাকা করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সাড়ে ৪ কোটিরও বেশি গ্রাহকের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে, অন্যদিকে শিল্প ও কৃষি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে তা সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটি বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নতুন এই মূল্যহারকে বিবেচনায় নিয়ে গত ২০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, টাকার অঙ্কে এবং শতাংশের হিসাব–উভয় দিক থেকেই ২০২৬ সালের জুনে ঘোষিত বিদ্যুতের খুচরা মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক মূল্য সমন্বয়।
দেশের বিদ্যুতের দাম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০০৬ সালে দেশে বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৩ টাকা ১৫ পয়সা। এ দাম ২০০৭ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩ টাকা ৭৬ পয়সা। এ দর ২০১০ সাল পর্যন্ত স্থির ছিল। মনে রাখা দরকার যে, ২০০৭ সালে সমন্বিত ওই দর নির্ধারিত হয়েছিল সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। ২০১১ সালে নতুন মূল্য সমন্বয়ে ইউনিটপ্রতি দাম ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ বাড়িয়ে ৩ টাকা ৯৬ শতাংশ করা হয়। পরের বছর এ দাম ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এর পর আরেকবার বড় উল্লম্ফন হয়েছিল ২০১৪ সালে। সে বছর বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম আগের চেয়ে ৭ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে ৪ টাকা ৭৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এর পর বড় মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল ২০১৭ সালে। সে বছর আগের দামের চেয়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। ওই বছর খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়ায় ৬ টাকা ৫০ পয়সায়। এ দাম স্থির থাকে ২০২০ সাল পর্যন্ত। ওই বছর বিদ্যুতের দাম আবারও ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৬ টাকা ৮৯ পয়সা করা হয়। এর পর ২০২৩ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে তিনবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। প্রতিবারই দাম বাড়ে ৫ শতাংশ হারে। ২০২৪ সালে এ দাম আবার সমন্বয় করা হয়। সেবার বাড়ানো হয় সাড়ে ৮ শতাংশ। ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়ায় ৮ টাকা ৬৬ পয়সায়।
গণঅভ্যুত্থানের পর টালমাটাল দশায় ক্ষমতায় আসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের সময় নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম ৯ টাকা ১১ পয়সায় স্থির রাখা হয়। এবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় বিইআরসি আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়াল। তবে যে হার, তা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ, একবারে এত বেশি হারে আর কখনো বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি দেশে। এমনকি ২০২৩ সালে তিনবারে ৫ শতাংশ করে মোট ১৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু এবার একবারেই ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সাড়ে ৪ কোটিরও বেশি গ্রাহকের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে, অন্যদিকে শিল্প ও কৃষি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে তা সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটি বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক তথ্যমতে, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। ফলে বিদ্যুতের এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি খুচরা বাজারে পণ্যের দামকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
মূল্যবৃদ্ধির আদেশকে সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত এবং ভোক্তাদের অধিকারের পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও গণশুনানির পর দাম ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, মূল্যবৃদ্ধির ফলে গ্রাহকের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে কোনো মূল্যায়ন করেনি এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন!
কেন দাম বাড়ানো হলো?
বিদ্যুতের দাম রেকর্ড পরিমাণে বাড়ানোর পেছনে বিইআরসি এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয় এবং বিশাল আর্থিক ঘাটতিকে মূল কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিইআরসি জানিয়েছে, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম এভাবে বাড়ানো সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিশাল আর্থিক ঘাটতি পুরোপুরি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এই বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকারকে চলতি বছরেও আরও প্রায় ৪১,০০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বিগত পাঁচ বছরে দেশে বিদ্যুৎ খাতের উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি বাড়ানো হলেও তা খরচের ওপর একটি বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে দেশে সর্বোচ্চ ১৬,০০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে প্রায় ২৮,০০০ মেগাওয়াট। চাহিদার চেয়ে এই অতিরিক্ত ১২,০০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা অলস বসে থাকার কারণে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে (আইপিপি) নিয়মিত বিপুল পরিমাণ ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই বিশাল অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জই মূলত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সামগ্রিক উৎপাদন খরচকে বিপুল পরিমাণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং ফার্নেস অয়েলের উচ্চমূল্য এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে ডলারের বিপরীতে টাকার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন বা ডলার সংকটের কারণে জ্বালানি আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিতরণ কোম্পানিগুলোর লোকসান কমাতে এবং বিপিডিবির ক্রয়মূল্যের সাথে বিক্রয়মূল্যের সমন্বয় করতেই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব কার্যকর করা হয়েছে।
বিইআরসি-র দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি আপাতদৃষ্টিতে একটি স্বাধীন আদেশ মনে হলেও এটি মূলত আইএমএফের ঋণের কিস্তি প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেটীয় ভারসাম্য রক্ষার একটি কৌশলগত সরকারি প্রয়াস বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
তবে সবকিছুর নেপথ্যে যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত, তা সহজেই বোধগম্য। আইএমএফের ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো–দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ওপর থেকে ভর্তুকির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা এবং একটি বাজারভিত্তিক বা ব্যয়-সমন্বয়কারী মূল্য কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। আইএমএফের ‘Article IV Consultation Report’ এবং বিশ্বব্যাংকের ‘Bangladesh Development Update’'-এ বারবার উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিদ্যুৎ খাতে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি সরকারের রাজস্ব কাঠামোর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বরাদ্দকে সংকুচিত করছে।
সরকার মূলত আইএমএফের এই ভর্তুকি সংস্কারের শর্ত এবং বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্য পূরণ করতেই এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির পথে হেঁটেছে। বিইআরসি-র দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি আপাতদৃষ্টিতে একটি স্বাধীন আদেশ মনে হলেও এটি মূলত আইএমএফের ঋণের কিস্তি প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেটীয় ভারসাম্য রক্ষার একটি কৌশলগত সরকারি প্রয়াস বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
নতুন ট্যারিফ ও গ্রাহক ধাপের বিস্তারিত চিত্র
বিইআরসি-র নতুন আদেশ অনুযায়ী গ্রাহক পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট মূল্যহার নিচে তুলে ধরা হলো:

মূল্যবৃদ্ধির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়–
বিশেষজ্ঞ মতামত: সমালোচনা ও নীতিগত সুপারিশ
সরকার ও বিইআরসির এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে চরচাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সেলিম জাহান বলেন, “আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে দাম বাড়ানোর একটি তাত্ত্বিক যৌক্তিকতা থাকলেও বর্তমান অভ্যন্তরীণ বাস্তবতায় এটি জনগণের জীবনের ওপর এক বিরাট চাপ সৃষ্টি করবে।”
এর প্রভাব সম্পর্কে সেলিম জাহান বলেন, “বর্তমান অবস্থায় জনগণের যে অবস্থা, মূল্যস্ফীতি কমছে না এবং এতে তাদের জীবনযাত্রার মান তারা ঠিক জায়গায় রাখতে পারছে না। এ অবস্থায় আপনি বাজেটের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে গিয়ে জনগণের জীবনের ভারসাম্য অনিশ্চিত করলে ফলাফল তো ভালো হবে না।”
অর্থনীতিবিদদের অনেকে মনে করেন, সংস্কারের প্রয়োজন থাকলেও এটি তার উপযুক্ত সময় নয়। সরকার ব্যয় সংকোচন করতে গিয়ে ভর্তুকি কমানোর যে সহজ পথ বেছে নিয়েছে, তার বিপরীতে করছাড় কমানোর মাধ্যমে আয় বাড়ানোর বড় সুযোগ ছিল। অধ্যাপক সেলিম জাহান মনে করেন, “বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা করছাড় দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে করপোরেট করছাড়ই হলো ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এই করছাড় কমিয়ে আনলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ না বাড়িয়েই বাজেট ঘাটতি মেটানো সম্ভব হতো।”
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম এই মূল্যবৃদ্ধির আদেশকে সম্পূর্ণ ‘আইনবহির্ভূত’ এবং ‘ভোক্তাদের অধিকারের পরিপন্থী’ বলে মন্তব্য করেছেন। চরচাকে তিনি বলেন, “আজকে যে মূল্য বৃদ্ধির আদেশ দিয়েছে, তাতে বিইআরসি নিরপেক্ষ নয়। বিইআরসি প্রভাবিত হয়নি বলে যে কথা বলেছে, সেটা মিথ্যে বলেছে। কারণ, আমি জানি তার ওপরে চাপ ছিল। বিচার দ্রুত হলে বিভ্রান্ত হয় এবং বিচারের সক্রিয়তা ধ্বংস হয়।”
উল্লেখ্য, গণশুনানির পর নতুন দর ঘোষণার জন্য কমিশন ৬০ কার্যদিবস সময় পেলেও এবারই প্রথম শুনানির ৫ কার্যদিবস পরই নতুন দর ঘোষণা করল সংস্থাটি।
অধ্যাপক শামসুল আলম অভিযোগ করেন, “মাত্র দুদিনে ছয়টি কোম্পানির গণশুনানি করে দ্রুত নিষ্পত্তি করার মাধ্যমে কমিশন সরকারের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে এবং নিজের স্বাধীনতা খর্ব করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা রেগুলেটরি কালচারের পরিপন্থী। বিইআরসি স্বাধীন রেগুলেটরি কালচারের পরিবর্তে ‘ব্যুরোক্রেটিক কালচার’ বা আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করে আইনটিকে অকার্যকর করেছে, যা বিইআরসি আইন অনুযায়ী একটি গুরুতর অপরাধ। এই অপরাধের দায়ে ক্যাব ইতিমধ্যে বিইআরসির কর্মকর্তাদের অপসারণের প্রস্তাব করেছে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এখন অবশ্যম্ভাবী।”

টাকার অঙ্ক বা শতাংশের হিসাব–যেকোনো বিচারেই দেশে এবারই প্রথম বিদ্যুতের দাম এতটা বাড়ানো হলো। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম এবার বাড়ানো হয়েছে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এর আগে এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ হার ছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। সেটা ২০২৪ সালে। এ হিসাবে আগের সর্বোচ্চ হারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হারে বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম।
২০০৬ সালে যে বিদ্যুতের দাম ছিল ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ১৫ পয়সা, নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, এর বর্তমান ইউনিটপ্রতি দাম পড়বে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। আগের মূল্যতালিকা অনুযায়ী এ দাম ছিল ৯ টাকা ১১ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এটি দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত দুই দশকের ইতিহাসে এক লাফে এত বেশি মূল্যবৃদ্ধি আগে দেখা যায়নি।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে খুচরা ও পাইকারি–উভয় স্তরেই বিদ্যুতের এই নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেছে। একই সাথে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য নির্ধারিত হুইলিং চার্জ বা সঞ্চালন মূল্যহারও বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিইআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুনর্নির্ধারিত এই নতুন মূল্যহার চলতি জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল থেকেই সরাসরি কার্যকর করা হবে।
বিইআরসি’র সর্বশেষ ঘোষিত ট্যারিফ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গ্রাহক পর্যায়ে বা খুচরা বিদ্যুতের গড় মূল্যহার প্রতি ইউনিটে ৯.১১ টাকা থেকে ১.৫২ টাকা বাড়িয়ে ১০.৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় ভারিত মূল্যহার প্রতি ইউনিটে ৭.০০ টাকা থেকে ১.৩৯ টাকা বাড়িয়ে ৮.৩৯ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া সঞ্চালন বা হুইলিং চার্জ প্রতি ইউনিটে ০.৩১৩৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ০.৩৮৮৬ টাকা করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সাড়ে ৪ কোটিরও বেশি গ্রাহকের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে, অন্যদিকে শিল্প ও কৃষি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে তা সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটি বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নতুন এই মূল্যহারকে বিবেচনায় নিয়ে গত ২০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, টাকার অঙ্কে এবং শতাংশের হিসাব–উভয় দিক থেকেই ২০২৬ সালের জুনে ঘোষিত বিদ্যুতের খুচরা মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক মূল্য সমন্বয়।
দেশের বিদ্যুতের দাম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০০৬ সালে দেশে বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৩ টাকা ১৫ পয়সা। এ দাম ২০০৭ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩ টাকা ৭৬ পয়সা। এ দর ২০১০ সাল পর্যন্ত স্থির ছিল। মনে রাখা দরকার যে, ২০০৭ সালে সমন্বিত ওই দর নির্ধারিত হয়েছিল সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। ২০১১ সালে নতুন মূল্য সমন্বয়ে ইউনিটপ্রতি দাম ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ বাড়িয়ে ৩ টাকা ৯৬ শতাংশ করা হয়। পরের বছর এ দাম ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এর পর আরেকবার বড় উল্লম্ফন হয়েছিল ২০১৪ সালে। সে বছর বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম আগের চেয়ে ৭ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে ৪ টাকা ৭৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এর পর বড় মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল ২০১৭ সালে। সে বছর আগের দামের চেয়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। ওই বছর খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়ায় ৬ টাকা ৫০ পয়সায়। এ দাম স্থির থাকে ২০২০ সাল পর্যন্ত। ওই বছর বিদ্যুতের দাম আবারও ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৬ টাকা ৮৯ পয়সা করা হয়। এর পর ২০২৩ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে তিনবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। প্রতিবারই দাম বাড়ে ৫ শতাংশ হারে। ২০২৪ সালে এ দাম আবার সমন্বয় করা হয়। সেবার বাড়ানো হয় সাড়ে ৮ শতাংশ। ইউনিটপ্রতি দাম দাঁড়ায় ৮ টাকা ৬৬ পয়সায়।
গণঅভ্যুত্থানের পর টালমাটাল দশায় ক্ষমতায় আসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের সময় নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম ৯ টাকা ১১ পয়সায় স্থির রাখা হয়। এবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় বিইআরসি আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়াল। তবে যে হার, তা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ, একবারে এত বেশি হারে আর কখনো বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি দেশে। এমনকি ২০২৩ সালে তিনবারে ৫ শতাংশ করে মোট ১৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু এবার একবারেই ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সাড়ে ৪ কোটিরও বেশি গ্রাহকের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে, অন্যদিকে শিল্প ও কৃষি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে তা সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটি বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক তথ্যমতে, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। ফলে বিদ্যুতের এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি খুচরা বাজারে পণ্যের দামকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
মূল্যবৃদ্ধির আদেশকে সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত এবং ভোক্তাদের অধিকারের পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও গণশুনানির পর দাম ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, মূল্যবৃদ্ধির ফলে গ্রাহকের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে কোনো মূল্যায়ন করেনি এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন!
কেন দাম বাড়ানো হলো?
বিদ্যুতের দাম রেকর্ড পরিমাণে বাড়ানোর পেছনে বিইআরসি এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয় এবং বিশাল আর্থিক ঘাটতিকে মূল কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিইআরসি জানিয়েছে, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম এভাবে বাড়ানো সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিশাল আর্থিক ঘাটতি পুরোপুরি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এই বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকারকে চলতি বছরেও আরও প্রায় ৪১,০০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বিগত পাঁচ বছরে দেশে বিদ্যুৎ খাতের উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি বাড়ানো হলেও তা খরচের ওপর একটি বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে দেশে সর্বোচ্চ ১৬,০০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে প্রায় ২৮,০০০ মেগাওয়াট। চাহিদার চেয়ে এই অতিরিক্ত ১২,০০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা অলস বসে থাকার কারণে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে (আইপিপি) নিয়মিত বিপুল পরিমাণ ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই বিশাল অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জই মূলত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সামগ্রিক উৎপাদন খরচকে বিপুল পরিমাণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং ফার্নেস অয়েলের উচ্চমূল্য এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে ডলারের বিপরীতে টাকার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন বা ডলার সংকটের কারণে জ্বালানি আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিতরণ কোম্পানিগুলোর লোকসান কমাতে এবং বিপিডিবির ক্রয়মূল্যের সাথে বিক্রয়মূল্যের সমন্বয় করতেই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব কার্যকর করা হয়েছে।
বিইআরসি-র দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি আপাতদৃষ্টিতে একটি স্বাধীন আদেশ মনে হলেও এটি মূলত আইএমএফের ঋণের কিস্তি প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেটীয় ভারসাম্য রক্ষার একটি কৌশলগত সরকারি প্রয়াস বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
তবে সবকিছুর নেপথ্যে যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত, তা সহজেই বোধগম্য। আইএমএফের ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো–দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ওপর থেকে ভর্তুকির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা এবং একটি বাজারভিত্তিক বা ব্যয়-সমন্বয়কারী মূল্য কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। আইএমএফের ‘Article IV Consultation Report’ এবং বিশ্বব্যাংকের ‘Bangladesh Development Update’'-এ বারবার উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিদ্যুৎ খাতে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি সরকারের রাজস্ব কাঠামোর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বরাদ্দকে সংকুচিত করছে।
সরকার মূলত আইএমএফের এই ভর্তুকি সংস্কারের শর্ত এবং বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্য পূরণ করতেই এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির পথে হেঁটেছে। বিইআরসি-র দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি আপাতদৃষ্টিতে একটি স্বাধীন আদেশ মনে হলেও এটি মূলত আইএমএফের ঋণের কিস্তি প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেটীয় ভারসাম্য রক্ষার একটি কৌশলগত সরকারি প্রয়াস বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
নতুন ট্যারিফ ও গ্রাহক ধাপের বিস্তারিত চিত্র
বিইআরসি-র নতুন আদেশ অনুযায়ী গ্রাহক পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট মূল্যহার নিচে তুলে ধরা হলো:

মূল্যবৃদ্ধির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়–
বিশেষজ্ঞ মতামত: সমালোচনা ও নীতিগত সুপারিশ
সরকার ও বিইআরসির এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে চরচাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সেলিম জাহান বলেন, “আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে দাম বাড়ানোর একটি তাত্ত্বিক যৌক্তিকতা থাকলেও বর্তমান অভ্যন্তরীণ বাস্তবতায় এটি জনগণের জীবনের ওপর এক বিরাট চাপ সৃষ্টি করবে।”
এর প্রভাব সম্পর্কে সেলিম জাহান বলেন, “বর্তমান অবস্থায় জনগণের যে অবস্থা, মূল্যস্ফীতি কমছে না এবং এতে তাদের জীবনযাত্রার মান তারা ঠিক জায়গায় রাখতে পারছে না। এ অবস্থায় আপনি বাজেটের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে গিয়ে জনগণের জীবনের ভারসাম্য অনিশ্চিত করলে ফলাফল তো ভালো হবে না।”
অর্থনীতিবিদদের অনেকে মনে করেন, সংস্কারের প্রয়োজন থাকলেও এটি তার উপযুক্ত সময় নয়। সরকার ব্যয় সংকোচন করতে গিয়ে ভর্তুকি কমানোর যে সহজ পথ বেছে নিয়েছে, তার বিপরীতে করছাড় কমানোর মাধ্যমে আয় বাড়ানোর বড় সুযোগ ছিল। অধ্যাপক সেলিম জাহান মনে করেন, “বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা করছাড় দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে করপোরেট করছাড়ই হলো ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এই করছাড় কমিয়ে আনলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ না বাড়িয়েই বাজেট ঘাটতি মেটানো সম্ভব হতো।”
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম এই মূল্যবৃদ্ধির আদেশকে সম্পূর্ণ ‘আইনবহির্ভূত’ এবং ‘ভোক্তাদের অধিকারের পরিপন্থী’ বলে মন্তব্য করেছেন। চরচাকে তিনি বলেন, “আজকে যে মূল্য বৃদ্ধির আদেশ দিয়েছে, তাতে বিইআরসি নিরপেক্ষ নয়। বিইআরসি প্রভাবিত হয়নি বলে যে কথা বলেছে, সেটা মিথ্যে বলেছে। কারণ, আমি জানি তার ওপরে চাপ ছিল। বিচার দ্রুত হলে বিভ্রান্ত হয় এবং বিচারের সক্রিয়তা ধ্বংস হয়।”
উল্লেখ্য, গণশুনানির পর নতুন দর ঘোষণার জন্য কমিশন ৬০ কার্যদিবস সময় পেলেও এবারই প্রথম শুনানির ৫ কার্যদিবস পরই নতুন দর ঘোষণা করল সংস্থাটি।
অধ্যাপক শামসুল আলম অভিযোগ করেন, “মাত্র দুদিনে ছয়টি কোম্পানির গণশুনানি করে দ্রুত নিষ্পত্তি করার মাধ্যমে কমিশন সরকারের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে এবং নিজের স্বাধীনতা খর্ব করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা রেগুলেটরি কালচারের পরিপন্থী। বিইআরসি স্বাধীন রেগুলেটরি কালচারের পরিবর্তে ‘ব্যুরোক্রেটিক কালচার’ বা আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করে আইনটিকে অকার্যকর করেছে, যা বিইআরসি আইন অনুযায়ী একটি গুরুতর অপরাধ। এই অপরাধের দায়ে ক্যাব ইতিমধ্যে বিইআরসির কর্মকর্তাদের অপসারণের প্রস্তাব করেছে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এখন অবশ্যম্ভাবী।”