পর্ব-১
চরচা ডেস্ক

নেপালের রাজনীতিতে গত কয়েক বছরে যে নাটকীয় পট পরিবর্তন হয়েছে, তার মূলে রয়েছে প্রথাগত দলগুলোর বাইরে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি এবং পুরনো দলগুলোর প্রতি জনগণের অনীহার সুযোগ নিয়ে নতুন ধারার দলগুলো যখন ক্ষমতায় বা মূলধারার রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে, তখন থেকেই নেপালের অভ্যন্তরীণ ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো নেপালের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি। নতুন শক্তিগুলো পপুলিজমের চেয়ে সুশাসন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। নেপালের তরুণ প্রজন্ম, যারা দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় ভুগেছে, তারা এই নতুন নেতৃত্বকে এক নতুন আশার আলো হিসেবে দেখছে।
তবে এই পট পরিবর্তন কেবল অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলছে। ভারত ও চীনের মতো দুটি বিশাল শক্তির মাঝে অবস্থিত নেপাল এখন আর আগের মতো কেবল কোনো এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে নেই।
নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর অধীনে নেপাল এখন আরও বেশি সার্বভৌম এবং স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, নেপালের এই নতুন রাজনৈতিক পথচলা দেশটিকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যেমন প্রস্তুত করছে, তেমনি পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভেঙে এক আধুনিক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নেপালে অসংখ্য কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি হলো নেপাল মজদুর কিষাণ পার্টি (এনডাব্লিউপিপি), যারা উত্তর কোরিয়ার জাতীয় আত্মনির্ভরশীলতার আদর্শ ‘জুছে’ দ্বারা অনুপ্রাণিত। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি নেপালের কমিউনিস্ট আন্দোলনের মূলধারার বাইরেই থেকেছে মূলত। দলটির নির্বাচনী শক্তি ছিল তাদের একমাত্র দুর্গ কাঠমান্ডু উপত্যকার ভক্তপুর-১ আসনটি, যেখানে ১৯৯১ সাল থেকে প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনে তাদের প্রার্থীরা জয়ী হয়ে আসছিলেন।

তবে এবারের নির্বাচনে ভক্তপুর-১ আসনের সেই কয়েক দশকের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে নব্য রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। যা কেবল একটি স্থানীয় পরাজয় বলে মনে হয়েছিল, তা আসলে ছিল দেশব্যাপী রাজনৈতিক উত্থানের একটি অংশ। আরএসপি প্রতিনিধি সভার মোট ২৭৫টি আসনের মধ্যে ১৮২টি আসন নিশ্চিত করেছে, যা নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র দুটি আসন কম।
ভক্তপুর-১ আসনে এনডাব্লিউপিপির এই শোচনীয় পরাজয় নেপালি রাজনীতির প্রচলিত ধারণাগুলোকে বদলে দেওয়া একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের অনেকগুলো অভাবনীয় গল্পের মধ্যে একটি। ১৯৯৯ সালে নেপালি কংগ্রেসের পর এই প্রথম আরএসপি সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল।
এর আগে ১৯৫৯ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে নেপালি কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর আর কোনো নির্বাচনের ফলাফল এতখানি নির্ণায়ক ছিল না। অনেক পর্যবেক্ষকই সন্দেহ করেছিলেন যে, বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থা—যেখানে ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ এবং ‘সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ পদ্ধতির মিশ্রণ রয়েছে, তাতে কোনো একটি দলের পক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব হবে না।
নির্বাচনী ফলাফলের মতোই চমকপ্রদ ছিল আরএসপির উত্থানের মাত্রা। দলটির ১২ জন প্রার্থী সরাসরি ভোটে ৫০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। দলটির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী এবং কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন শাহ প্রায় ৭০ হাজার ভোট পেয়েছেন। যা নেপালের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই পথে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান কে.পি. শর্মা ওলিকে তার নিজের এলাকা ঝাপায় অনায়াসেই পরাজিত করেন। যেখানে ১৯৯১ সাল থেকে মাত্র একবার বাদে ওলি প্রতিটি নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসছিলেন। নেপালি কংগ্রেস ও ইউএমএল-এর আরও বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা আরএসপি প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন। ওই দলগুলোর জন্য নিরাপদ বলে বিবেচিত আসনগুলোতে আরএসপির পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার দেখা গেছে এবং তারা কাঠমান্ডু উপত্যকার তিনটি শহরের ১৫টি আসনের সবকটিতেই জয়লাভ করেছে।
নির্বাচনী তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বিশেষ করে শহর এবং আধা-শহর অঞ্চলগুলোতে ভালো করেছে যেখানে ইন্টারনেটের সুবিধা বেশি। অন্যদিকে পুরনো দলগুলো সেই সব এলাকায় ভালো করেছে যেখানে রাষ্ট্রীয় সেবার অভাব রয়েছে এবং নাগরিক সুবিধার জন্য দলীয় নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করতে হয়। দ্রুত নগরায়ণ, অভ্যন্তরীণ অভিবাসন এবং তরুণ ভোটারদের আধিক্যের কারণে ভক্তপুর-১ এর মতো পুরনো রাজনৈতিক দুর্গগুলো ভেঙে পড়েছে। জনপ্রিয় ভোটের ক্ষেত্রে কমিউনিস্ট দলগুলোর দীর্ঘস্থায়ী আধিপত্য ৪০ শতাংশ থেকে কমে ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। নতুন পার্লামেন্টের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের বয়স ৪০ বছরের নিচে, যা গত পার্লামেন্টে ছিল ১০ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন।
সেপ্টেম্বরে ‘জেন জি’ আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাসীন ওলি সরকার পদত্যাগ করার পর, রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকারকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে মধ্যবর্তী নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব দেন। আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের গণহত্যার পর যে অগ্নিসংযোগ এবং দাঙ্গা হয়েছিল, তা ছিল নেপালি রাজনীতির স্থিতাবস্থার প্রতি গভীর হতাশা ও অসন্তোষের প্রতীক। দেশটিতে ঘনঘন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হচ্ছিল, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি জেঁকে বসেছিল এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়টি এজেন্ডা থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। উচ্চ বেকারত্বের হার অনেক তরুণ নেপালিকে বিদেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য করেছিল। আন্দোলনের মুখে পুরনো দল ও নেতারা তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং আরএসপির পরিবর্তনের ডাকের বিপরীতে তাদের কাছে কোনো সদুত্তর ছিল না। এই বিশাল রাজনৈতিক পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ।
রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি এক জনবল নিয়ে বেশ দ্রুতগতিতে তাদের কাজ শুরু করেছে।
২০২৬ সালের ২৭ মার্চ, দুপুর ১২:৩৪ মিনিটে—জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী একটি শুভ ক্ষণে ছত্রিশ বছর বয়সী শাহ দেশের সর্বকনিষ্ঠ নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতীকে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শাহ চৌদ্দ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেন. যার সবচেয়ে বয়স্ক সদস্যের বয়স মাত্র ৫১ বছর।
পেশায় একজন র্যাপার এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার শাহ মধেশ অঞ্চলের মানুষ। অনেক নেপালি তরুণের মতো তিনিও বিদেশে স্থায়ী হতে পারতেন কিন্তু তিনি দেশেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
শপথ গ্রহণের পরের দিন সকালেই শাহ সরকার সিপিএন-ইউএমএল নেতা অলি এবং নেপালি কংগ্রেসের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়। সেপ্টেম্বর মাসের বিক্ষোভ তদন্তকারী কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়ে এই প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক অবহেলা’ এর অভিযোগ আনে। সেই সন্ধ্যায় সরকার ১০০ দফার একটি শাসন সংস্কার কর্মসূচি প্রকাশ করে। এর পরের দিন সকালে অর্থপাচারের অভিযোগে আরেকজন সাবেক মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অলিসহ তিন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়। এছাড়াও, সরকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে অবিলম্বে ১০ শতাংশ শয্যা অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের জন্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেয় এবং সেপ্টেম্বর বিক্ষোভে নিহতদের পরিবারকে জাতীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষে চাকরির প্রস্তাব দেয়।
নেপালের জনকপুরে নিজের প্রথম জনসভায় শাহ মাত্র নয় মিনিটের কিছু কম সময় কথা বলেন। যা ছিল তার নির্বাচনী প্রচারণার দীর্ঘতম ভাষণ। ওই অঞ্চলের প্রধান ভাষা ‘মৈথিলি’ ব্যবহার করে তিনি সাধারণ মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন করেন। যা সাম্প্রতিক অতীতে কোনো প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করেননি। শাহ ২০০৭ সালে শুরু হওয়া মধেশ আন্দোলন এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে প্রায় ২০ হাজার মানুষের ভিড়কে বলেন, তারা যেন কাঠমান্ডুর বিখ্যাত পশুপতি ও স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির দর্শনে যান কিন্তু অধিকার দাবি করতে যেন না যান।
নেপালের সরকার ও রাজনীতি দীর্ঘকাল ধরে পাহাড়ের খাস-আর্য উচ্চবর্ণের মানুষের দখলে ছিল। যারা বিচার বিভাগ ও আমলাতন্ত্রকেও নিয়ন্ত্রণ করে। মধেশী মানুষদের সাংস্কৃতিক দিক থেকে ভারতীয়দের ঘনিষ্ঠ মনে করা হতো এবং নেপালের শাসকদের চোখে তাদের দেশপ্রেম সবসময় সন্দেহের তালিকায় ছিল। এর প্রতিবাদে মধেশীরা অধিকতর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের দাবি জানিয়ে আসছিল। যা ২০১৫ সালের সংবিধানে কাগজে-কলমে স্বীকৃত হলেও বাস্তবে কার্যকর হয়নি। মধেশী আন্দোলনের কাছে কাঠমান্ডু ছিল সেই প্রতিপক্ষ, যারা সমতল ভূমিকে ঐতিহাসিকভাবে একটি অবহেলিত অংশ হিসেবে বিবেচনা করত। শাহ যখন মধেশীদের অধিকার দাবি করতে কাঠমান্ডু না যাওয়ার আহ্বান জানান, তখন তা এই দীর্ঘ সংঘাতময় ইতিহাসের প্রেক্ষাপটেই দেখা হয়েছিল।
শাহের মধেশী শিকড় আরএসপিকে ওই প্রদেশের ৩২টি আসনের মধ্যে ৩০টিতে জয়ী হতে সাহায্য করে। সমতল অঞ্চলের বাকি এলাকাগুলোতেও একই চিত্র দেখা যায়। নির্বাচনী প্রচারের সময় ভোটারদের বলতে শোনা যেত যে, তারা তাদের স্থানীয় প্রার্থীকে চেনেন না কিন্তু তারা বালেন শাহকে ভোট দেবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০১৪ সালের স্লোগানের অনুকরণে জনপ্রিয় স্লোগান ছিল ‘আব কি বার, বালেন সরকার’।
যেই শহর (কাঠমান্ডু) একসময় সমতলের মানুষের প্রতি বৈষম্য করত, শাহ সেই শহরেরই মেয়র হয়ে উঠেছিলেন। তিনি প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং জেন-জি বিক্ষোভের পর প্রধানমন্ত্রীকে ‘সন্ত্রাসী’ বলতেও দ্বিধা করেননি। ভোটারদের কাছে তিনি ছিলেন জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া এক মধেশী নেতা।
কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে শাহের মেয়াদ ছিল চড়াই-উতরাইপূর্ণ। তিনি পুরনো জাতীয়তাবাদের সাথে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং মূলধারার গণমাধ্যমের প্রতি অবজ্ঞার মিশ্রণ ঘটিয়েছিলেন। তিনি লক্ষ লক্ষ অনুসারীর সঙ্গে প্রধানত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন। যখন ভারত সরকার তাদের সংসদে ‘অখণ্ড ভারত’-এর একটি মানচিত্র উন্মোচন করে, শাহ তার প্রতিবাদে নিজ দপ্তরে ‘বৃহত্তর নেপাল’-এর মানচিত্র ঝুলিয়ে দেন।

তিনি ওয়ার্ড প্রধানদের সাথে পার্কিং সমস্যা নিয়ে বিতর্ক করেছেন, অবৈধ স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করেছেন। নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এক রাতে তিনি একটি ফেসবুক পোস্টে ভারত, আমেরিকা ও চীন সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর ও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছিলেন (যা পরে মুছে ফেলা হয়)। অন্য একটি পোস্টে তিনি নেপাল সরকারের সচিবালয় ‘সিংহা দরবার’ জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন।
একই সাথে তিনি কাঠমান্ডুর বেসরকারি স্কুলগুলোতে হাজার হাজার মেধাবৃত্তি নিশ্চিত করেছেন এবং নাগরিক সমস্যা সমাধানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। ধীরে ধীরে তিনি নেপালের রাজপথের ট্রাক বা বাসের পেছনের ছবিতে পরিণত হন। বিক্ষোভের পরবর্তী সময়ে তাকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর পদের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং তখন বলেছিলেন, “আমরা বালেনকে পাঁচ বছরের জন্য পূর্ণ মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।” (চলবে)
তথ্যসূত্র: কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের

নেপালের রাজনীতিতে গত কয়েক বছরে যে নাটকীয় পট পরিবর্তন হয়েছে, তার মূলে রয়েছে প্রথাগত দলগুলোর বাইরে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি এবং পুরনো দলগুলোর প্রতি জনগণের অনীহার সুযোগ নিয়ে নতুন ধারার দলগুলো যখন ক্ষমতায় বা মূলধারার রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে, তখন থেকেই নেপালের অভ্যন্তরীণ ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো নেপালের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি। নতুন শক্তিগুলো পপুলিজমের চেয়ে সুশাসন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। নেপালের তরুণ প্রজন্ম, যারা দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় ভুগেছে, তারা এই নতুন নেতৃত্বকে এক নতুন আশার আলো হিসেবে দেখছে।
তবে এই পট পরিবর্তন কেবল অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলছে। ভারত ও চীনের মতো দুটি বিশাল শক্তির মাঝে অবস্থিত নেপাল এখন আর আগের মতো কেবল কোনো এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে নেই।
নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর অধীনে নেপাল এখন আরও বেশি সার্বভৌম এবং স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, নেপালের এই নতুন রাজনৈতিক পথচলা দেশটিকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যেমন প্রস্তুত করছে, তেমনি পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভেঙে এক আধুনিক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নেপালে অসংখ্য কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি হলো নেপাল মজদুর কিষাণ পার্টি (এনডাব্লিউপিপি), যারা উত্তর কোরিয়ার জাতীয় আত্মনির্ভরশীলতার আদর্শ ‘জুছে’ দ্বারা অনুপ্রাণিত। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি নেপালের কমিউনিস্ট আন্দোলনের মূলধারার বাইরেই থেকেছে মূলত। দলটির নির্বাচনী শক্তি ছিল তাদের একমাত্র দুর্গ কাঠমান্ডু উপত্যকার ভক্তপুর-১ আসনটি, যেখানে ১৯৯১ সাল থেকে প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনে তাদের প্রার্থীরা জয়ী হয়ে আসছিলেন।

তবে এবারের নির্বাচনে ভক্তপুর-১ আসনের সেই কয়েক দশকের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে নব্য রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। যা কেবল একটি স্থানীয় পরাজয় বলে মনে হয়েছিল, তা আসলে ছিল দেশব্যাপী রাজনৈতিক উত্থানের একটি অংশ। আরএসপি প্রতিনিধি সভার মোট ২৭৫টি আসনের মধ্যে ১৮২টি আসন নিশ্চিত করেছে, যা নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র দুটি আসন কম।
ভক্তপুর-১ আসনে এনডাব্লিউপিপির এই শোচনীয় পরাজয় নেপালি রাজনীতির প্রচলিত ধারণাগুলোকে বদলে দেওয়া একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের অনেকগুলো অভাবনীয় গল্পের মধ্যে একটি। ১৯৯৯ সালে নেপালি কংগ্রেসের পর এই প্রথম আরএসপি সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল।
এর আগে ১৯৫৯ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে নেপালি কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর আর কোনো নির্বাচনের ফলাফল এতখানি নির্ণায়ক ছিল না। অনেক পর্যবেক্ষকই সন্দেহ করেছিলেন যে, বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থা—যেখানে ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ এবং ‘সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ পদ্ধতির মিশ্রণ রয়েছে, তাতে কোনো একটি দলের পক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব হবে না।
নির্বাচনী ফলাফলের মতোই চমকপ্রদ ছিল আরএসপির উত্থানের মাত্রা। দলটির ১২ জন প্রার্থী সরাসরি ভোটে ৫০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। দলটির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী এবং কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন শাহ প্রায় ৭০ হাজার ভোট পেয়েছেন। যা নেপালের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই পথে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান কে.পি. শর্মা ওলিকে তার নিজের এলাকা ঝাপায় অনায়াসেই পরাজিত করেন। যেখানে ১৯৯১ সাল থেকে মাত্র একবার বাদে ওলি প্রতিটি নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসছিলেন। নেপালি কংগ্রেস ও ইউএমএল-এর আরও বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা আরএসপি প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন। ওই দলগুলোর জন্য নিরাপদ বলে বিবেচিত আসনগুলোতে আরএসপির পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার দেখা গেছে এবং তারা কাঠমান্ডু উপত্যকার তিনটি শহরের ১৫টি আসনের সবকটিতেই জয়লাভ করেছে।
নির্বাচনী তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বিশেষ করে শহর এবং আধা-শহর অঞ্চলগুলোতে ভালো করেছে যেখানে ইন্টারনেটের সুবিধা বেশি। অন্যদিকে পুরনো দলগুলো সেই সব এলাকায় ভালো করেছে যেখানে রাষ্ট্রীয় সেবার অভাব রয়েছে এবং নাগরিক সুবিধার জন্য দলীয় নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করতে হয়। দ্রুত নগরায়ণ, অভ্যন্তরীণ অভিবাসন এবং তরুণ ভোটারদের আধিক্যের কারণে ভক্তপুর-১ এর মতো পুরনো রাজনৈতিক দুর্গগুলো ভেঙে পড়েছে। জনপ্রিয় ভোটের ক্ষেত্রে কমিউনিস্ট দলগুলোর দীর্ঘস্থায়ী আধিপত্য ৪০ শতাংশ থেকে কমে ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। নতুন পার্লামেন্টের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের বয়স ৪০ বছরের নিচে, যা গত পার্লামেন্টে ছিল ১০ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন।
সেপ্টেম্বরে ‘জেন জি’ আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাসীন ওলি সরকার পদত্যাগ করার পর, রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকারকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে মধ্যবর্তী নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব দেন। আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের গণহত্যার পর যে অগ্নিসংযোগ এবং দাঙ্গা হয়েছিল, তা ছিল নেপালি রাজনীতির স্থিতাবস্থার প্রতি গভীর হতাশা ও অসন্তোষের প্রতীক। দেশটিতে ঘনঘন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হচ্ছিল, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি জেঁকে বসেছিল এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়টি এজেন্ডা থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। উচ্চ বেকারত্বের হার অনেক তরুণ নেপালিকে বিদেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য করেছিল। আন্দোলনের মুখে পুরনো দল ও নেতারা তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং আরএসপির পরিবর্তনের ডাকের বিপরীতে তাদের কাছে কোনো সদুত্তর ছিল না। এই বিশাল রাজনৈতিক পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ।
রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি এক জনবল নিয়ে বেশ দ্রুতগতিতে তাদের কাজ শুরু করেছে।
২০২৬ সালের ২৭ মার্চ, দুপুর ১২:৩৪ মিনিটে—জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী একটি শুভ ক্ষণে ছত্রিশ বছর বয়সী শাহ দেশের সর্বকনিষ্ঠ নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতীকে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শাহ চৌদ্দ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেন. যার সবচেয়ে বয়স্ক সদস্যের বয়স মাত্র ৫১ বছর।
পেশায় একজন র্যাপার এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার শাহ মধেশ অঞ্চলের মানুষ। অনেক নেপালি তরুণের মতো তিনিও বিদেশে স্থায়ী হতে পারতেন কিন্তু তিনি দেশেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
শপথ গ্রহণের পরের দিন সকালেই শাহ সরকার সিপিএন-ইউএমএল নেতা অলি এবং নেপালি কংগ্রেসের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়। সেপ্টেম্বর মাসের বিক্ষোভ তদন্তকারী কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়ে এই প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক অবহেলা’ এর অভিযোগ আনে। সেই সন্ধ্যায় সরকার ১০০ দফার একটি শাসন সংস্কার কর্মসূচি প্রকাশ করে। এর পরের দিন সকালে অর্থপাচারের অভিযোগে আরেকজন সাবেক মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অলিসহ তিন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়। এছাড়াও, সরকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে অবিলম্বে ১০ শতাংশ শয্যা অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের জন্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেয় এবং সেপ্টেম্বর বিক্ষোভে নিহতদের পরিবারকে জাতীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষে চাকরির প্রস্তাব দেয়।
নেপালের জনকপুরে নিজের প্রথম জনসভায় শাহ মাত্র নয় মিনিটের কিছু কম সময় কথা বলেন। যা ছিল তার নির্বাচনী প্রচারণার দীর্ঘতম ভাষণ। ওই অঞ্চলের প্রধান ভাষা ‘মৈথিলি’ ব্যবহার করে তিনি সাধারণ মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন করেন। যা সাম্প্রতিক অতীতে কোনো প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করেননি। শাহ ২০০৭ সালে শুরু হওয়া মধেশ আন্দোলন এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে প্রায় ২০ হাজার মানুষের ভিড়কে বলেন, তারা যেন কাঠমান্ডুর বিখ্যাত পশুপতি ও স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির দর্শনে যান কিন্তু অধিকার দাবি করতে যেন না যান।
নেপালের সরকার ও রাজনীতি দীর্ঘকাল ধরে পাহাড়ের খাস-আর্য উচ্চবর্ণের মানুষের দখলে ছিল। যারা বিচার বিভাগ ও আমলাতন্ত্রকেও নিয়ন্ত্রণ করে। মধেশী মানুষদের সাংস্কৃতিক দিক থেকে ভারতীয়দের ঘনিষ্ঠ মনে করা হতো এবং নেপালের শাসকদের চোখে তাদের দেশপ্রেম সবসময় সন্দেহের তালিকায় ছিল। এর প্রতিবাদে মধেশীরা অধিকতর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের দাবি জানিয়ে আসছিল। যা ২০১৫ সালের সংবিধানে কাগজে-কলমে স্বীকৃত হলেও বাস্তবে কার্যকর হয়নি। মধেশী আন্দোলনের কাছে কাঠমান্ডু ছিল সেই প্রতিপক্ষ, যারা সমতল ভূমিকে ঐতিহাসিকভাবে একটি অবহেলিত অংশ হিসেবে বিবেচনা করত। শাহ যখন মধেশীদের অধিকার দাবি করতে কাঠমান্ডু না যাওয়ার আহ্বান জানান, তখন তা এই দীর্ঘ সংঘাতময় ইতিহাসের প্রেক্ষাপটেই দেখা হয়েছিল।
শাহের মধেশী শিকড় আরএসপিকে ওই প্রদেশের ৩২টি আসনের মধ্যে ৩০টিতে জয়ী হতে সাহায্য করে। সমতল অঞ্চলের বাকি এলাকাগুলোতেও একই চিত্র দেখা যায়। নির্বাচনী প্রচারের সময় ভোটারদের বলতে শোনা যেত যে, তারা তাদের স্থানীয় প্রার্থীকে চেনেন না কিন্তু তারা বালেন শাহকে ভোট দেবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০১৪ সালের স্লোগানের অনুকরণে জনপ্রিয় স্লোগান ছিল ‘আব কি বার, বালেন সরকার’।
যেই শহর (কাঠমান্ডু) একসময় সমতলের মানুষের প্রতি বৈষম্য করত, শাহ সেই শহরেরই মেয়র হয়ে উঠেছিলেন। তিনি প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং জেন-জি বিক্ষোভের পর প্রধানমন্ত্রীকে ‘সন্ত্রাসী’ বলতেও দ্বিধা করেননি। ভোটারদের কাছে তিনি ছিলেন জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া এক মধেশী নেতা।
কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে শাহের মেয়াদ ছিল চড়াই-উতরাইপূর্ণ। তিনি পুরনো জাতীয়তাবাদের সাথে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং মূলধারার গণমাধ্যমের প্রতি অবজ্ঞার মিশ্রণ ঘটিয়েছিলেন। তিনি লক্ষ লক্ষ অনুসারীর সঙ্গে প্রধানত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন। যখন ভারত সরকার তাদের সংসদে ‘অখণ্ড ভারত’-এর একটি মানচিত্র উন্মোচন করে, শাহ তার প্রতিবাদে নিজ দপ্তরে ‘বৃহত্তর নেপাল’-এর মানচিত্র ঝুলিয়ে দেন।

তিনি ওয়ার্ড প্রধানদের সাথে পার্কিং সমস্যা নিয়ে বিতর্ক করেছেন, অবৈধ স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করেছেন। নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এক রাতে তিনি একটি ফেসবুক পোস্টে ভারত, আমেরিকা ও চীন সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর ও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছিলেন (যা পরে মুছে ফেলা হয়)। অন্য একটি পোস্টে তিনি নেপাল সরকারের সচিবালয় ‘সিংহা দরবার’ জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন।
একই সাথে তিনি কাঠমান্ডুর বেসরকারি স্কুলগুলোতে হাজার হাজার মেধাবৃত্তি নিশ্চিত করেছেন এবং নাগরিক সমস্যা সমাধানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। ধীরে ধীরে তিনি নেপালের রাজপথের ট্রাক বা বাসের পেছনের ছবিতে পরিণত হন। বিক্ষোভের পরবর্তী সময়ে তাকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর পদের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং তখন বলেছিলেন, “আমরা বালেনকে পাঁচ বছরের জন্য পূর্ণ মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।” (চলবে)
তথ্যসূত্র: কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের